🗺️ আজকের অভিযান
রাতে খাবার টেবিলে মাহদী হঠাৎ প্রশ্ন করল, "দাদা, আপনার শিক্ষকের নাম কী ছিল যেন?"
"আব্দুল হাকিম।"
"মানে কী?"
দাদা চামচ থামালেন। "কার মানে?"
"নামের মানে।"
দাদা কিছুক্ষণ ভাবলেন। "হাকিম মানে... প্রজ্ঞাময়। আর আব্দ মানে বান্দা।"
"তাহলে আব্দুল হাকিম মানে প্রজ্ঞাময়ের বান্দা?"
"তাই তো দাঁড়ায়।"
মাহদী খাতা আনল। তারপর লিখতে বসল।
"কী করছ?"
"তালিকা বানাচ্ছি। আমাদের চেনা যত মানুষের নাম আব্দুল দিয়ে শুরু।"
পনেরো মিনিটে তালিকা লম্বা হয়ে গেল। দাদা, দাদি, নানা — সবাই নাম বলতে লাগলেন।
আব্দুল আজিজ · আব্দুর রহমান · আব্দুল গফুর · আব্দুল কাইয়্যুম · আব্দুল হাকিম · আব্দুস সালাম · আব্দুল করিম
মাহদী প্রতিটার পাশে মানে লিখল — আর অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো, প্রায় সবগুলোর মানে সে আগে থেকেই জানে।
আজিজ — সূরা মূলক। গফুর — সূরা মূলক। কাইয়্যুম — আয়াতুল কুরসি। হাকিম — আলে-ইমরান। রহমান — প্রতিদিন।
দাদি দূর থেকে দেখছিলেন।
"দাদুভাই, তোমার নানার নামটাও লেখো।"
"নানার নাম তো আবু বক্কার।"
"আর আমার শ্বশুরের নাম ছিল আব্দুল ওয়াহিদ।"
মাহদী কলম থামাল।
"ওয়াহিদ... মানে এক!" সে চেঁচিয়ে উঠল। "সূরা সাফফাত! إِنَّ إِلَـٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌ!"
দাদি হাসলেন। "তোমার আব্বুর দাদার নাম, দাদুভাই। আর তুমিই প্রথম মানেটা বললে।"
সেই রাতে হুদহুদ বলল, "আজকের আয়াতটা তোমার আজ বিকেলের কাজের উত্তর।"
قُلِ ٱدْعُوا۟ ٱللَّهَ أَوِ ٱدْعُوا۟ ٱلرَّحْمَـٰنَ ۖ أَيًّا مَّا تَدْعُوا۟ فَلَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ (কুলিদঊল্লাহা আওয়িদঊর রাহমান · আয়্যাম মা তাদঊ ফালাহুল আসমাউল হুসনা — বলুন: আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো; যে নামেই ডাকো, সব সুন্দর নাম তো তাঁরই)
"ٱدْعُوا۟!" মাহদী সাথে সাথে ধরল। "দোয়া! ডাকো!"
"শাবাশ। আর ٱلْأَسْمَآء মানে নামসমূহ। একবচনে ٱسْم — মনে আছে بِسْمِ ٱللَّه?"
"বিসমিল্লাহ! নামের সেই শব্দ!"
"আর ٱلْحُسْنَىٰ?"
মাহদী ভাবল। "ح س ن... أَحْسَن! মুহসিন! মানে সবচেয়ে সুন্দর!"
হুদহুদ ডানা ঝাপটাল। "তাহলে ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ মানে?"
"সবচেয়ে সুন্দর নামসমূহ।"
"এখন বলো — আজ বিকেলে তুমি কী করেছ?"
মাহদী খাতার তালিকাটার কথা বলল। সাতটা নাম, সাতটা মানে।
হুদহুদ অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
"সেনাপতি," সে শেষে বলল, "তুমি জানো এটা কী ছিল?"
"কী?"
"তুমি আজ আল্লাহর নাম গুনতে শুরু করেছ — আর প্রতিটা মানে তুমি নিজেই জানতে।"
"একুশ সপ্তাহ ধরে তুমি ওগুলো একটা একটা করে জমিয়েছ। আজিজ সূরা মূলকে, গফুর সূরা মূলকে, কাইয়্যুম আয়াতুল কুরসিতে..."
মাহদীর গায়ে কাঁটা দিল।
"আমি খেয়ালই করিনি।"
"খেয়াল করার কথাও ছিল না। ঝুড়িতে জিনিস জমা হয় চুপচাপ।"
তারপর হুদহুদ আয়াতের পরের অংশটা পড়ল:
وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَٱبْتَغِ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا (ওয়ালা তাজহার বিসালাতিকা ওয়ালা তুখাফিত বিহা ওয়াবতাগি বাইনা যালিকা সাবীলা — আর নামাজে খুব জোরেও পড়ো না, খুব আস্তেও না; বরং এ দুইয়ের মাঝখানে পথ খোঁজো)
"تَجْهَرْ!" মাহদী চেঁচিয়ে উঠল। "জাহর! জিহরি নামাজ!"
"আর تُخَافِتْ?"
মাহদী শব্দটা নেড়েচেড়ে দেখল। "خ ف ت... خُفْيَة-এর মতো? গোপন?"
"কাছাকাছি পরিবার, আর মানেও কাছাকাছি — খুব চাপা, প্রায় শোনা যায় না এমন।"
"তাহলে আল্লাহ বলছেন — খুব জোরেও না, খুব চাপাও না?"
"মাঝখানের পথ।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "وَٱبْتَغِ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا — এই দুইয়ের মাঝে পথ খোঁজো।"
"আর এইটা শুধু আওয়াজের কথা নয়, সেনাপতি। এটা ইসলামের একটা বড় নিয়ম — মাঝখানে থাকা।"
তারপর হুদহুদ শেষ আয়াতে গেল — আর তার গলাটা বদলে গেল।
وَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٌ فِى ٱلْمُلْكِ (ওয়া কুলিল হামদু লিল্লাহিল্লাযী লাম ইয়াত্তাখিয ওয়ালাদাও ওয়া লাম ইয়াকুল লাহু শারীকুন ফিল মুলক — আর বলুন: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান নেননি, আর রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই)
মাহদী প্রায় লাফিয়ে উঠল।
"হুদহুদ! لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا — এটা তো সূরা ইখলাস! লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ!"
"আর?"
"আর شَرِيكٌ فِى ٱلْمُلْكِ — সূরা মূলক!"
"আর?"
মাহদী শেষ শব্দগুলোর দিকে তাকাল — مِّنَ ٱلذُّلِّ।
"ذُلّ! গত সপ্তাহে! تُذِلُّ! আর ذَلُول!"
হুদহুদ ডানা ঝাপটে হাসতে লাগল।
"এক আয়াতে তিনটে পুরনো বন্ধু, সেনাপতি! এইজন্যই তোমাকে বলেছিলাম ঝুড়ি ভরতে থাকো।"
তারপর সে আয়াতের শেষ শব্দটা পড়ল: وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا (ওয়া কাব্বিরহু তাকবীরা — আর তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করো পূর্ণভাবে)।
"كَبِّرْ," হুদহুদ বলল। "এই শব্দটা তুমি দিনে কতবার বলো?"
মাহদী থমকে গেল।
"আল্লাহু আকবার।"
"গুনে দেখেছ কতবার?"
"না।"
"একদিন গুনে দেখো।" হুদহুদ ডানা মেলল। "একশোর বেশি হবে।" 📿