🗺️ আজকের অভিযান
মাদ্রাসার বারান্দায় বন্ধু সাব্বির হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, "তুই কয়টা সূরা পারিস?"
"উনিশটা।"
"আমি বাইশটা।" সাব্বির হেসে চলে গেল।
তিনটা। মাত্র তিনটার পার্থক্য।
সেই বিকেলে মাহদী ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে গেল। মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত সে তিনটা সূরা মুখস্থ করে ফেলল। শুধু আওয়াজ। অর্থ দেখারও সময় নেই।
পরদিন সে গর্ব করে সাব্বিরকে বলল, "আমি এখন বাইশটা পারি!"
"শোনা তো একটা।"
মাহদী শুরু করল... আর তিন লাইন পরেই আটকে গেল। মাথা পুরো ফাঁকা।
সে দ্বিতীয়টা ধরল। ওটাও গেল না।
বাড়ি ফিরে সে দাদার ঘরে গিয়ে ধপ করে বসে পড়ল। "দাদা, কাল রাতে পারতাম! আজ কিছুই মনে নেই।"
দাদা বইটা নামিয়ে রাখলেন। "একটা প্রশ্ন করি? কাল রাতে যখন মুখস্থ করছিলে, তুমি কী ভাবছিলে?"
মাহদী থেমে গেল।
"সত্যি বলবে?"
"...বাইশ," সে আস্তে বলল। "আমি সংখ্যাটা ভাবছিলাম।"
দাদা মাথা নাড়লেন। "তাহলে তুমি সূরা মুখস্থ করোনি, দাদুভাই। তুমি গুনছিলে। আর গুনতির জিনিস মাথায় থাকে না — শুধু খাতায় থাকে।"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে নিয়ে গেল এক অদ্ভুত দোকানের সামনে।
ভেতরে মানুষ জিনিস কিনছে, কিনেই যাচ্ছে। হাতে জায়গা নেই, তবু কিনছে। আর একে অপরকে দেখাচ্ছে — আমার এতগুলো আছে! — আমার আরও বেশি!
"এই রোগের নাম ٱلتَّكَاثُر (আত-তাকাসুর — বেশি বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা)," হুদহুদ বলল।
"শব্দটা এসেছে كَثْرَة (কাসরাহ — আধিক্য) থেকে। আর ব্যাকরণের ছাঁচটা এমন যে মানে দাঁড়ায় — একে অপরের সাথে বেশি পাওয়ার পাল্লা দেওয়া।"
মাহদী ভেতরের লোকগুলোর দিকে তাকাল। কেউ খুশি নয়। সবাই ব্যস্ত, সবাই চোখ রাখছে পাশের লোকের ঝুড়িতে।
"ওরা কেউ হাসছে না কেন?"
"কারণ প্রতিযোগিতায় শান্তি নেই," হুদহুদ বলল। "আয়াতটা শোনো — أَلْهَىٰكُمُ ٱلتَّكَاثُرُ (আলহাকুমুত তাকাসুর — বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদের ভুলিয়ে রেখেছে)।"
"أَلْهَىٰ (আলহা) — ভুলিয়ে রাখা, অন্যমনস্ক করে রাখা।" হুদহুদ থামল। "কী ভুলিয়েছে? আসল কাজটা।"
মাহদীর কাল রাতের কথা মনে পড়ল। আমি সংখ্যাটা ভাবছিলাম।
"তাহলে বেশি পাওয়া কি খারাপ?" সে জিজ্ঞেস করল।
"না!" হুদহুদ জোর দিয়ে বলল। "আয়াতে তাকাসুর নিষেধ, কাসরাহ নয়। বেশি সূরা মুখস্থ করা তো দারুণ ব্যাপার! খারাপটা হলো — সংখ্যাটা যখন উদ্দেশ্য হয়ে যায়।"
"আর এই দৌড় কোথায় গিয়ে থামে জানো?"
সে দোকানের পেছনের দরজাটা খুলে দিল। ওপাশে... কবরস্থান।
حَتَّىٰ زُرْتُمُ ٱلْمَقَابِرَ (হাত্তা যুরতুমুল মাকাবির — যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও)।
"এক মিনিট," মাহদী ভুরু কুঁচকাল। "زُرْتُمُ মানে তো যিয়ারত করলে! যিয়ারত মানে বেড়াতে যাওয়া।"
"বাহ!" হুদহুদ লাফিয়ে উঠল। "তুমি এখন শব্দ ধরতে শিখে গেছ, মাহদী!"
"হ্যাঁ — যিয়ারত। মানুষ যেখানে থাকে না, কিছুক্ষণ থেকে চলে যায়। কবরও তাই। আসল বাড়ি আরও পরে।"
তারপর হুদহুদ শেষ দুটো আয়াত পড়ল, একই কথা দুইবার: "كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ · ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ (কাল্লা সাওফা তা'লামূন · সুম্মা কাল্লা সাওফা তা'লামূন — কখনো নয়, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে; আবারও — কখনো নয়, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে)।"
"দুইবার একই কথা কেন?" মাহদী জিজ্ঞেস করল।
"তুমি কখনো ঘুমন্ত কাউকে ডেকেছ?" হুদহুদ মাথা কাত করল। "একবার ডাকলে সে পাশ ফিরে শোয়। দুইবার ডাকলে উঠে বসে।" 🎯