🗺️ আজকের অভিযান
বিকেলে তাসমিয়া উঠানে বসে পিঁপড়ার সারি দেখছিল।
মাহদী পাশে বসল।
অনেকক্ষণ পর তাসমিয়া বলল, "ভাইয়া, একটা প্রশ্ন করি?"
"কর।"
"আমরা কেন আছি?"
মাহদী ঘুরে তাকাল।
"মানে?" সে বলল, যদিও সে জানে তাসমিয়া কী জিজ্ঞেস করছে।
"মানে — পিঁপড়ারা কাজ করে, খাবার নিয়ে যায়, তারপর মরে যায়। আমরাও তো তাই। খাই, ঘুমাই, পড়ি, বড় হই, তারপর..." সে থেমে গেল। "তাহলে কেন?"
মাহদী কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর তার মনে হলো — এই প্রশ্নটা সে চেনে।
বাইশ সপ্তাহ আগে সে নিজেই একটা প্রশ্নের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। মুখ খুলেছিল, আবার বন্ধ করেছিল।
আজ সে চুপ করে থাকল না।
"তোর মনে আছে সূরা মূলকের দ্বিতীয় আয়াতটা?" সে বলল।
"কোনটা?"
মাহদী আস্তে আস্তে পড়ল: "ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْمَوْتَ وَٱلْحَيَوٰةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا।"
"মানে?"
"যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন — তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে আমলে উত্তম।"
তাসমিয়া ভুরু কুঁচকাল। "তাহলে আমরা একটা পরীক্ষা?"
"পরীক্ষার মধ্যে আছি।"
"পিঁপড়ারাও?"
মাহদী মাথা নাড়ল। "না। পিঁপড়ার পরীক্ষা নেই। পিঁপড়া শুধু পিঁপড়া।"
"কেন?"
"কারণ পিঁপড়া বেছে নিতে পারে না। আমরা পারি।"
তাসমিয়া অনেকক্ষণ পিঁপড়ার সারিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"তাহলে বেছে নিতে পারাটাই... পরীক্ষা?"
মাহদী নিজের বোনের দিকে তাকাল।
নয় বছরের সে একবার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। আজ সাত বছরের একজন তাকে প্রশ্ন করছে, আর সে পারছে।
"হ্যাঁ," সে বলল। "ঠিক তাই।"
সেই রাতে হুদহুদ বলল, "আজকের আয়াতটা একটা প্রশ্ন। আর প্রশ্নটা আল্লাহ সরাসরি তোমাকে করছেন।"
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَـٰكُمْ عَبَثًا (আফাহাসিবতুম আন্নামা খালাকনাকুম আবাসা — তোমরা কি ভেবেছিলে আমরা তোমাদের অকারণে সৃষ্টি করেছি?)
মাহদী স্থির হয়ে গেল।
"হুদহুদ..." সে আস্তে বলল। "আজ বিকেলে তাসমিয়া আমাকে হুবহু এই প্রশ্নটা করেছে।"
হুদহুদ ধীরে ঘুরে তাকাল। "কী বলেছে?"
"বলেছে — আমরা কেন আছি?"
"আর তুমি?"
মাহদীর গলা একটু কেঁপে গেল।
"আমি উত্তর দিতে পেরেছি।"
হুদহুদ কিছু বলল না।
অনেকক্ষণ।
তারপর সে খুব আস্তে বলল, "মাহদী বিন মামুন, বাইশ সপ্তাহ আগে এই ঘাটে তুমি নেমেছিলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে।"
"জানি।"
"আর আজ তুমি বললে তুমি উত্তর দিতে পেরেছ।"
মাহদী মাথা নাড়ল।
হুদহুদ ডানা ভাঁজ করে সোজা হয়ে বসল। ঝুঁটিটা কাঁপছে।
"তাহলে শোনো — এইটাই ছিল পুরো অভিযানটার কারণ।"
দুজনে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।
"এবার শব্দটা দেখো," হুদহুদ শেষে বলল। "عَبَث — মানে অকারণে, অর্থহীনভাবে, খেলাচ্ছলে।"
"আর প্রথম শব্দটা — حَسِبْتُم। পরিবার কী?"
মাহদী শব্দটা নেড়েচেড়ে দেখল। তারপর চোখ বড় হয়ে গেল।
"ح س ب! হিসাব!"
"একদম!" হুদহুদ ডানা ঝাপটাল। "حَسِبَ মানে হিসাব করা, আর সেখান থেকে ভাবা, ধারণা করা।"
"তাহলে আয়াতটার মানে দাঁড়ায় — তোমরা কি হিসাব করে দেখেছ যে তোমাদের অকারণে বানানো হয়েছে?"
"আর হিসাবটা যে ভুল, সেটা পরের শব্দেই: وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ (আর তোমাদের আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?)"
"تُرْجَعُونَ!" মাহদী বলল। "رجع! রুজু! রাজিঊন!"
"إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ," হুদহুদ বলল। "সেই একই শব্দ।"
তারপর সে পরের আয়াতটা পড়ল — আর মাহদী দেখল পাথুরে দ্বীপটা যেন একটু আলোকিত হয়ে উঠল।
فَتَعَـٰلَى ٱللَّهُ ٱلْمَلِكُ ٱلْحَقُّ ۖ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْكَرِيمِ (ফাতাআলাল্লাহুল মালিকুল হাক্ক · লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া রব্বুল আরশিল কারীম — সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, প্রকৃত মালিক; তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি সম্মানিত আরশের রব)
"গুনে দেখো কয়টা চেনা শব্দ," হুদহুদ বলল।
মাহদী গুনতে লাগল।
"ٱلْمَلِك — সূরা মূলক। لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ — আয়াতুল কুরসি। رَبّ — প্রথম ক্লাস। ٱلْعَرْش — সূরা আরাফ।"
"চারটে।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল।
"আর নতুন মাত্র দুইটা — ٱلْحَقّ (সত্য) আর ٱلْكَرِيم (সম্মানিত, দানশীল)।"
"কারীম!" মাহদী বলল। "আব্দুল করিম! আজ তালিকায় লিখেছি!"
হুদহুদ হাসল।
"সেনাপতি, তোমার ঝুড়িটা এখন এত ভরা যে নতুন আয়াত আর নতুন লাগে না।" 🐜