🗺️ আজকের অভিযান
রাতে তাসমিয়া মাহদীর ঘরে এল, হাতে তার শব্দের খাতা।
"ভাইয়া, আমাকে একটা দোয়া শিখিয়ে দাও। ছোট, যেটা আমি মনে রাখতে পারব।"
মাহদী একটু ভাবল। তারপর কাগজে লিখল:
رَبِّ ٱغْفِرْ وَٱرْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ
"পড়ো — রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খইরুর রাহিমীন।"
তাসমিয়া দুইবার পড়ল। "মানে কী?"
"হে আমার রব, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।"
তাসমিয়া ভুরু কুঁচকাল।
"কিন্তু ভাইয়া, আমি তো বড় কোনো অন্যায় করিনি। তাহলে ক্ষমা চাইব কেন?"
মাহদী উত্তর দিতে পারল না।
দাদি দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। থামলেন।
"দিদিভাই, একটা কথা বলি?"
"বলুন দাদি।"
দাদি ঘরে ঢুকে খাটে বসলেন।
"তুমি রোজ গোসল করো কেন? তুমি তো রোজ কাদায় গড়াগড়ি খাও না।"
তাসমিয়া হেসে ফেলল। "এমনিতেই তো ময়লা হয়!"
"একদম।" দাদি মাথা নাড়লেন। "মন তো শরীরের চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়, দিদিভাই। একটু ময়লা তো লাগবেই।"
"বড় অন্যায় না করলেও?"
"একটা বাজে চিন্তা। একটা হিংসা। একটা ছোট্ট মিথ্যা। কাউকে দেখে হাসা।" দাদি আঙুল গুনলেন। "একদিনে কতগুলো হয়, গুনে দেখেছ কখনো?"
তাসমিয়া চুপ করে গেল।
"আর জানো সবচেয়ে সুন্দর কথাটা কী?" দাদি উঠে দাঁড়ালেন। "যে রোজ ধোয়, তার দাগ বসে না।"
সেই রাতে হুদহুদ বলল, "আজ সূরা আল-মুমিনুনের শেষ আয়াত। আর সূরাটা শেষ হচ্ছে একটা দোয়া দিয়ে।"
"কিন্তু তার আগে আজকের আয়াতে একটা শব্দ আছে, যেটা তোমার সংগ্রহে তৃতীয় প্রমাণের শব্দ হবে।"
وَمَن يَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ لَا بُرْهَـٰنَ لَهُۥ بِهِ (ওয়া মাই ইয়াদউ মাআল্লাহি ইলাহান আখারা লা বুরহানা লাহু বিহি — আর যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে, এ বিষয়ে তার কোনো প্রমাণ নেই)
"بُرْهَان (বুরহান) — মানে অকাট্য প্রমাণ, যা দেখলে আর তর্ক থাকে না।"
"এবার গুনে দেখো, সেনাপতি — প্রমাণের কয়টা শব্দ তুমি এখন জানো?"
মাহদী গুনতে লাগল।
"بَيِّنَة — সূরা বাইয়্যিনাহ। سُلْطَان — সূরা আর-রহমান। আর আজ بُرْهَان।"
"তিনটে।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "আর একটা কথা মাথায় গেঁথে নাও, কারণ সামনের সপ্তাহে এটা লাগবে।"
"কী কথা?"
"কুরআন বারবার প্রমাণ চায়। যে দাবি করে, তাকে প্রমাণ দিতে হয়।"
হুদহুদ থামল, তারপর দূরে গুহাটার দিকে তাকাল।
"আর যে প্রমাণ ছাড়া দাবি করে বসে... তার সবচেয়ে বড় নামটা তুমি জানো।"
মাহদীর গা শিরশির করে উঠল।
"সে কি প্রমাণ দেখাবে না?" সে জিজ্ঞেস করল।
"দেখাবে।" হুদহুদের গলা শক্ত হলো। "চোখের সামনে অনেক কিছু দেখাবে। কিন্তু দেখানো আর প্রমাণ এক জিনিস নয়, সেনাপতি। যাদুকরও দেখায়।"
"তাহলে পার্থক্য কী?"
"পার্থক্য হলো — প্রমাণ যাচাই করা যায়। ধোঁকা যায় না।"
তারপর সে সুর বদলে বলল, "আর এবার সূরার শেষ আয়াত। এইটা তোমার জন্য উপহার।"
وَقُل رَّبِّ ٱغْفِرْ وَٱرْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ (ওয়া কুর রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খইরুর রাহিমীন — আর বলুন: হে আমার রব, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন; আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু)
"গুনে দেখো কয়টা চেনা," হুদহুদ বলল।
মাহদী গুনল — আর হেসে ফেলল।
"সবগুলো! رَبّ — প্রথম ক্লাস। ٱغْفِرْ — মাগফিরাত, ক্লাস ৭৯। ٱرْحَمْ — মরহুম, ক্লাস ৮৯। خَيْر — খায়ের, ক্লাস ২৯।"
"আর দুইটাই আদেশের রূপে," হুদহুদ যোগ করল। "মনে আছে ক্লাস ৪৩? ٱسْجُدْ وَٱقْتَرِب?"
"মনে আছে।"
"তাহলে একটা প্রশ্ন করি, সেনাপতি। এই দোয়ায় কী চাওয়া হচ্ছে?"
"ক্ষমা আর দয়া।"
"টাকা চাওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য চাওয়া হয়নি। জান্নাতও সরাসরি চাওয়া হয়নি।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "কেন বলো তো?"
মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল।
"কারণ... ক্ষমা আর দয়া পেলে বাকি সব পাওয়া যাবে?"
হুদহুদ ডানা মেলল।
"একটা গোটা সূরা — একশো আঠারো আয়াত — শেষ হলো ছয়টা শব্দ দিয়ে। আর ছয়টাই তুমি চেনো।"
"আজ রাতে ঘুমানোর আগে এটা পড়ো, মাহদী। আর কাল তাসমিয়াকে শিখিয়ে দিয়ো।"
মাহদী হাসল।
"শিখিয়ে দিয়েছি।" 🤲