🗺️ আজকের অভিযান
পরদিন বিকেলে আবার ক্রিকেট। আবার আজান।
মাহদী ব্যাট নামিয়ে রাখল।
"আবার?!" সাব্বির হাত বাড়াল।
কিন্তু এবার মাহদী দাঁড়িয়ে গেল। "সাব্বির, তুইও চল।"
সাব্বির থমকে গেল। "আমি?"
"তুই তো আমার চেয়ে ভালো পড়িস। চল, দুজনে যাই।"
কয়েক সেকেন্ড কেউ কিছু বলল না।
তারপর সাব্বির ব্যাটটা মাটিতে রাখল। "আচ্ছা চল।"
শেষে মাঠ থেকে চারজন উঠল।
মাগরিবের পর মাহদী দাদাকে বলল ঘটনাটা। দাদা চশমাটা খুলে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।
"তুমি কাল কী করেছিলে?" তিনি জিজ্ঞেস করলেন।
"হাত ছাড়িয়ে চলে এসেছিলাম।"
"আর আজ?"
"আজ ডেকে নিয়ে গেছি।"
দাদা মাথা নাড়লেন। "কালকেরটা ছিল সাহস, দাদুভাই। আজকেরটা নেতৃত্ব। দুটো এক জিনিস নয়।"
সেই রাতে হুদহুদ বলল, "কাল তুমি শত্রুর নাম জেনেছ। আজ জানবে অস্ত্রটা।"
"তলোয়ার?"
"অপেক্ষা করো।"
সে সূরা আলাকের শেষ আয়াতগুলো পড়তে শুরু করল।
كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًۢا بِٱلنَّاصِيَةِ (কাল্লা লাইল লাম ইয়ানতাহি লানাসফাআম বিন নাসিয়াহ — কখনো নয়! সে যদি বিরত না হয়, আমরা অবশ্যই তাকে হেঁচড়ে নেব সামনের চুলের গুচ্ছ ধরে)
"نَاصِيَة (নাসিয়াহ) মানে কপালের সামনের চুল," হুদহুদ বলল। "যে লোকটা মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াত, তাকে ধরা হবে ঠিক ওই মাথাটার চুল ধরেই।"
তারপর পরের আয়াত: نَاصِيَةٍ كَـٰذِبَةٍ خَاطِئَةٍ (নাসিয়াতিন কাযিবাতিন খাতিআহ — মিথ্যাচারী, পাপিষ্ঠ সেই চুলগুচ্ছ)।
"كَـٰذِبَة," মাহদী ধরে ফেলল। "আবার সেই পরিবার!"
"আবার," হুদহুদ বলল। "মিথ্যা যেখানে, শত্রু সেখানে।"
"তারপর লোকটা কী করবে জানো? সে তার দলবল ডাকবে — فَلْيَدْعُ نَادِيَهُۥ (ফালইয়াদউ নাদিয়াহ — সে তার পারিষদ ডেকে আনুক!)।"
"আর আল্লাহ কী বললেন? سَنَدْعُ ٱلزَّبَانِيَةَ (সানাদউয যাবানিয়াহ — শীঘ্রই আমরা ডেকে আনব যাবানিয়াদের)।"
"যাবানিয়া কারা?"
"জাহান্নামের কঠোর ফেরেশতা।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "লোকটা ডাকবে তার বন্ধুদের। আল্লাহ ডাকবেন তাঁর ফেরেশতাদের। ভাবো তো প্রতিযোগিতাটা কেমন হলো!"
মাহদী হেসে ফেলল।
"এবার শেষ আয়াত," হুদহুদ বলল। "আর এখানেই তোমার অস্ত্র।"
كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَٱسْجُدْ وَٱقْتَرِب ۩ (কাল্লা লা তুতি'হু ওয়াসজুদ ওয়াকতারিব — কখনো নয়! তুমি তার অনুসরণ কোরো না। আর সিজদা করো এবং নিকটবর্তী হও)
মাহদী অপেক্ষা করল। তারপর বলল, "এইটুকুই?"
"এইটুকুই।"
"কিন্তু হুদহুদ, শত্রুটা এত বড়! আর অস্ত্র মাত্র... সিজদা?"
হুদহুদ ডানা মেলে মাহদীর সামনে এসে দাঁড়াল।
"শোনো সেনাপতি। দাজ্জালের গোটা কাজটাই একটা মিথ্যা — সে বলবে আমি সবচেয়ে বড়। এখন বলো, পৃথিবীর কোন কাজটা এই মিথ্যার একদম উল্টো?"
মাহদী একটু ভাবল।
"সিজদা," সে আস্তে বলল। "যখন আমি মাটিতে কপাল ঠেকাই... আমি বলি আমি কিছুই না।"
"ঠিক।" হুদহুদের গলা কেঁপে গেল। "যে রোজ মাটিতে কপাল ঠেকায়, তাকে আমিই সব বলে কেউ ধোঁকা দিতে পারে না। সে অভ্যাসেই জানে কে বড়।"
"আর দেখো ক্রমটা — لَا تُطِعْهُ (মেনো না) → ٱسْجُدْ (সিজদা করো) → ٱقْتَرِب (কাছে এসো)। আল্লাহ শুধু না বলে ছেড়ে দেন না। খারাপটা থেকে সরিয়ে নিজের দিকে টেনে নেন।"
তারপর হুদহুদ আয়াতের শেষে ছোট্ট একটা চিহ্নের দিকে ডানা তুলল — ۩।
"আর এই আয়াতটার একটা বিশেষত্ব আছে। এটা পড়লে তোমাকে সত্যিই সিজদা দিতে হয়।"
মাহদী চমকে উঠল। "আয়াতটা যা বলছে, আমি তাই করব?"
"হ্যাঁ। কুরআন বলছে সিজদা করো — আর তুমি বই বন্ধ করে সিজদায় চলে যাচ্ছ।"
হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল।
"খেয়াল করেছ মাহদী? সূরাটা শুরু হয়েছিল ٱقْرَأْ দিয়ে — পড়ো। আর শেষ হলো ٱسْجُدْ দিয়ে — সিজদা করো।"
"পড়া থেকে সিজদা পর্যন্ত। এটাই গোটা রাস্তাটা।"
"যে শুধু পড়ে কিন্তু মাথা নত করে না, সে অহংকারী হয়ে যায়। আর যে মাথা নত করে কিন্তু পড়ে না, সে ধোঁকা খেয়ে যায়।"
"তোমার দুটোই লাগবে, সেনাপতি।" 🕌