🗺️ আজকের অভিযান
ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী উঠানে গিয়ে দাঁড়াল। ঠান্ডা বাতাস, ভোরের আলো।
সে দুইটা জিনিসের দিকে তাকাল।
এক — মাটির টবে সরিষার গাছটা, এখন ফুলে ভরা।
দুই — গেটের পাশে যে জায়গাটায় গতকাল সে একটা আমগাছের চারা লাগিয়েছে। এখনো ছোট, দুইটা পাতা।
সে হাঁটু গেড়ে বসে চারাটায় পানি দিল।
তাসমিয়া এসে দাঁড়াল, চোখ কচলাতে কচলাতে।
"এটা কবে ফল দেবে?"
"চার-পাঁচ বছর।"
"তখন তো তুমি বড় হয়ে যাবে!"
"হুম।"
"তুমি তখন এখানে থাকবে?"
মাহদী চারাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"জানি না," সে বলল। "কিন্তু কেউ তো খাবে।" 🌱
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। গুহার দ্বীপের প্রথম গ্রামটা জ্বলে উঠেছে — আর আলোটা অদ্ভুত। নীলচে।
"এই সপ্তাহের হিসাব দাও, সেনাপতি।"
মাহদী গুনতে লাগল।
"এক — ফাসাদ আর ইসলাহ। নষ্ট করতে এক মৌসুম, ঠিক করতে এক প্রজন্ম।"
"দুই — সব সুন্দর নাম তাঁর। আর আমি ওগুলো একুশ সপ্তাহ ধরে না জেনেই জমিয়েছি।"
"তিন — আমাদের অকারণে বানানো হয়নি। আর আমি তাসমিয়াকে সেটা বলতে পেরেছি।"
"চার — প্রমাণ ছাড়া দাবি চলে না। আর একটা ছোট্ট দোয়া — রব্বিগফির ওয়ারহাম।"
হুদহুদ মাথা কাত করল।
"এই চারটার মধ্যে সবচেয়ে বড়টা কোনটা?"
মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল।
"তিন নম্বরটা," সে বলল।
"কেন?"
"কারণ বাকি তিনটে আমি শিখেছি। আর ওইটা আমি দিয়েছি।"
হুদহুদ অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
তারপর সে ঘুরে দাঁড়াল, আর গুহামুখটার দিকে তাকাল।
আজ ওখান থেকে একটা মৃদু আলো আসছে — খুব ক্ষীণ, নীলচে।
"হুদহুদ, ভেতরে আলো?"
"আছে।" হুদহুদ বলল। "আর ওই আলোটার একটা গল্প আছে, মাহদী। তিনশো নয় বছরের গল্প।"
"তিনশো নয় বছর?!"
"সামনের সপ্তাহে আমরা ভেতরে ঢুকব।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "আর তুমি এমন কয়েকজন ছেলের কথা শুনবে যারা তোমার চেয়ে খুব বেশি বড় ছিল না।"
"তারা কী করেছিল?"
হুদহুদ গুহাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"তারা একটা কঠিন কাজ করেছিল, সেনাপতি।"
"কী?"
"তারা সবার বিরুদ্ধে গিয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। আর তারপর পালিয়ে গিয়ে একটা গুহায় লুকিয়েছিল।"
সে ডানা মেলল।
"আর আল্লাহ তাদের এমন একটা জিনিস উপহার দিয়েছিলেন, যা পৃথিবীর আর কেউ পায়নি।" 🕳️