🗺️ আজকের অভিযান
সন্ধ্যায় নানা হিসাবের খাতা নিয়ে বসেছেন। মাহদী পাশে বসে দেখছে — লাইনের পর লাইন সংখ্যা।
"নানা, এই বছর কত লাভ হলো?"
নানা কলমের মাথা দিয়ে খাতায় টোকা দিলেন। "মন্দ না। তবে ব্যবসা তো ধীরে বাড়ে, দাদুভাই। এক বছরে যা হয়, তা এক বছরেরই।"
মাহদী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করল, "নানা, এমন কোনো ব্যবসা আছে যেখানে এক রাতে তিরাশি বছরের লাভ হয়?"
নানা হেসে ফেললেন। "থাকলে আমি আজই আড়ত বন্ধ করে দিতাম!"
"আছে নানা।"
নানা কলম থামালেন। "কী বললে?"
"লাইলাতুল কদর।" মাহদী বলল। "হাজার মাসের চেয়ে ভালো। হাজার মাস মানে... আমি হিসাব করেছি... তিরাশি বছর চার মাস।"
ঘরটা চুপ হয়ে গেল। নানা অনেকক্ষণ নাতির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর খাতাটা বন্ধ করে বললেন, "আমার সারাজীবনের হিসাব এই খাতায়। আর তুমি বলছ, এক রাতে সেটা ছাড়িয়ে যাওয়া যায়।"
তিনি চশমাটা খুললেন। চোখটা একটু ভেজা।
"দাদুভাই, তোমার নানা সারাজীবন হিসাব করেছে। কিন্তু এই হিসাবটা কখনো করে দেখেনি।"
সেই রাতে দোকান থেকে বেরিয়ে মাহদী দেখল — রাত নেমে এসেছে। কিন্তু এ কেমন রাত!
আকাশ পরিষ্কার, বাতাস নরম, আর চারদিকে যেন কেউ শান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে। এত এত আলোর বিন্দু নামছে আকাশ থেকে — তারা নয়, ফেরেশতা।
"এই রাতের নাম لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ (লাইলাতুল কদর)," হুদহুদ ফিসফিস করে বলল — যেন জোরে বললে রাতটা ভেঙে যাবে।
"قَدْر শব্দটার দুটো মানে," সে বলল। "এক — মর্যাদা। দুই — মাপ, নির্ধারণ। দুটোই খাটে: এই রাতটা মর্যাদার, আর এই রাতেই আগামী বছরের ফায়সালা লেখা হয়।"
"এই রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল — إِنَّآ أَنزَلْنَـٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ (ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল কদর — নিশ্চয়ই আমরা এটি নাযিল করেছি কদরের রাতে)।"
মাহদী খেয়াল করল একটা জিনিস। "হুদহুদ, আয়াতে কিন্তু কুরআন শব্দটা নেই! শুধু هُ — এটি।"
হুদহুদ থমকে গেল। তারপর ডানা ঝাপটে লাফিয়ে উঠল।
"মাহদী! তুমি নিজে থেকে সর্বনাম ধরে ফেলেছ! ছয় সপ্তাহ আগে তুমি رَبِّ মানেও জানতে না!"
মাহদীর কান লাল হয়ে গেল।
"হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ। আল্লাহ নাম নেননি। যেন বলছেন — যেটা নামিয়েছি, সেটা এমন জিনিস যে নাম বলার দরকার নেই। তোমরা জানো।"
তারপর হুদহুদ তৃতীয় আয়াতটা পড়ল, খুব ধীরে:
لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ (লাইলাতুল কদরি খইরুম মিন আলফি শাহর — কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম)
"হাজার মাস," মাহদী বলল। "আমি নানাকে আজ হিসাবটা বলেছি।"
"নানা কী বললেন?"
"খাতা বন্ধ করে দিলেন।"
হুদহুদের চোখ চকচক করে উঠল। "এখন বুঝলে কেন আমি বলেছিলাম ধৈর্য ধরো?"
"এই দ্বীপে তুমি ভূমিকম্প দেখেছ, পাল্লা দেখেছ, কবর দেখেছ। ভয় পেয়েছ, তাই না?"
মাহদী মাথা নাড়ল।
"কিন্তু আল্লাহ কখনো ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেন না।" হুদহুদ আকাশের নামতে থাকা আলোগুলোর দিকে তাকাল। "তিনি ভয়ও দেখান, তারপর রাস্তাটাও দেখিয়ে দেন।"
"একটা রাত, সেনাপতি। শুধু একটা রাত জেগে থাকলে তুমি তিরাশি বছর পেয়ে যাবে।"
"আর ভাবো — এই সুযোগটা কার জন্য? বাদশাহর জন্য? আলেমের জন্য?"
"না। যে কেউ জেগে থাকবে তার জন্য। এমনকি নয় বছরের এক ছেলের জন্যও।" 🌙