🗺️ আজকের অভিযান
বাড়ির পেছনে নতুন একটা দেয়াল উঠছে। রাজমিস্ত্রি চাচা কাজ করছেন।
মাহদী দাঁড়িয়ে দেখছিল। প্রতি কয়েকটা ইট গাঁথার পর চাচা একটা অদ্ভুত জিনিস বের করেন — সুতোর মাথায় একটা ধাতুর টুকরো ঝোলানো। সেটা দেয়ালের গা ঘেঁষে ঝুলিয়ে দেন, তারপর তাকিয়ে থাকেন।
"চাচা, ওটা কী?"
"ওলন দড়ি।" তিনি সুতোটা দেখালেন। "দেয়াল সোজা হচ্ছে কি না দেখি।"
"চোখে দেখলেই তো বোঝা যায়!"
চাচা হেসে ফেললেন। "যায় না রে বাবা। চোখ ঠকে যায়।"
তিনি সুতোটা ঝুলিয়ে রাখলেন।
"দেখ, দেয়ালটা ধীরে ধীরে বাঁকা হয়। এক ইটে বোঝা যায় না, দশ ইটেও না। কিন্তু বিশ ইটের পরে দেয়াল হেলে পড়ে।"
"তাহলে দড়িটা কীভাবে বোঝে?"
"দড়ি বোঝে না, বাবা। দড়ি শুধু সোজা ঝোলে। পৃথিবী তাকে সোজা টানে, তাই সে কোনোদিন বাঁকা হতে পারে না।"
তিনি ইট তুলতে তুলতে বললেন, "আমি দেয়াল দেখে বিচার করি না। আমি দড়ি দেখে বিচার করি। কারণ দড়িটা কখনো বদলায় না।"
মাহদী অনেকক্ষণ সুতোটার দিকে তাকিয়ে রইল।
সেই রাতে হুদহুদ গুহার মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। ভেতরে ক্ষীণ আলো।
"প্রস্তুত?"
মাহদী মাথা নাড়ল।
তারা ভেতরে ঢুকল।
গুহার দেয়াল ঠান্ডা, মসৃণ। আর দেয়ালে খোদাই করা লেখা — আয়াতের পর আয়াত, একদম শুরু থেকে।
মাহদী প্রথম লাইনটার সামনে দাঁড়াল। আর হঠাৎ থেমে গেল।
"হুদহুদ..."
"কী হলো?"
"এই শব্দগুলো..."
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ
মাহদীর গলা কেঁপে গেল।
"এটা তো... প্রথম দিনের শব্দ। সূরা ফাতিহা। প্রথম ক্লাস।"
হুদহুদ কিছু বলল না অনেকক্ষণ।
"তেইশ সপ্তাহ, মাহদী," সে শেষে বলল। "তুমি ঘুরে ফিরে আবার সেখানেই এসেছ যেখান থেকে শুরু করেছিলে।"
"শুধু এবার তুমি জানো এর মানে কী।"
তারপর সে পুরো আয়াতটা পড়ল:
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ ٱلْكِتَـٰبَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُۥ عِوَجَا (আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আনযালা আলা আবদিহিল কিতাবা ওয়ালাম ইয়াজআল লাহু ইওয়াজা — সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, আর তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি)
"عِوَج (ইওয়াজ)," হুদহুদ বলল। "মানে বাঁক, ট্যারা, এঁকেবেঁকে যাওয়া।"
আর পরের আয়াতের প্রথম শব্দ — قَيِّمًا।
মাহদী হেসে ফেলল। "ق و م! ইকামত, মুসতাকীম, কিয়ামত, কাইয়্যুম, কুতুবুন কাইয়্যিমাহ!"
"ছয়বার, সেনাপতি।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "এক পরিবার, ছয় জায়গায়। এখন এটা আর শব্দ নয় — এটা তোমার বন্ধু।"
মাহদী দেয়ালের লেখাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"হুদহুদ, আজ বিকেলে রাজমিস্ত্রি চাচা একটা জিনিস দেখাচ্ছিলেন। ওলন দড়ি।"
"বলো।"
"উনি বললেন — দেয়াল ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে যায়, চোখে ধরা পড়ে না। তাই উনি দেয়াল দেখে বিচার করেন না, দড়ি দেখে করেন। কারণ দড়িটা কখনো বদলায় না।"
হুদহুদ অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
তারপর সে ধীরে ধীরে দেয়ালের লেখাটার দিকে ডানা তুলল।
"وَلَمْ يَجْعَل لَّهُۥ عِوَجَا · قَيِّمًا," সে বলল। "এতে কোনো বাঁক নেই। এটা সোজা।"
"তোমার রাজমিস্ত্রি চাচা আজ তোমাকে বলে দিয়েছেন এই কিতাবটা কী, মাহদী।"
"এটা তোমার ওলন দড়ি।"
মাহদী দাঁড়িয়ে রইল।
"মানুষ ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে যায়, সেনাপতি। এক দিনে নয়, এক বছরেও নয়। এত ধীরে যে সে নিজেও টের পায় না।"
"তখন কী করব?"
"যা মিস্ত্রি চাচা করেন। নিজেকে দেখে বিচার কোরো না। দড়িটা ঝুলিয়ে দেখো।"
হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল।
"আর মনে রেখো — দড়িটা তোমাকে দোষ দেয় না। সে শুধু সোজা ঝোলে। বাঁকা কে, সেটা তুমিই দেখতে পাও।" 📏
🧩 ব্যাকরণের গল্প: ইওয়াজ আর কাইয়িম
"সূরা কাহাফের প্রথম আয়াতেই একটা বিপরীত জোড়া," হুদহুদ বলল।
وَلَمْ يَجْعَل لَّهُۥ عِوَجَا · قَيِّمًا — তিনি এতে বক্রতা রাখেননি; সোজা করে (নাযিল করেছেন)
"عِوَج (ইওয়াজ) মানে বাঁক, ট্যারা, এঁকেবেঁকে যাওয়া।"
"আর قَيِّم — এটা তো তুমি এখন চোখ বন্ধ করে চেনো।"
মাহদী হেসে ফেলল। "ق و م! ইকামত, মুসতাকীম, কিয়ামত, কাইয়্যুম — আর সূরা বাইয়্যিনাহর كُتُبٌ قَيِّمَة!"
"পাঁচবার, সেনাপতি।" হুদহুদ ডানা ঝাপটাল। "এই এক পরিবার তুমি পাঁচটা আলাদা সূরায় পেয়েছ।"
"আর আজ ষষ্ঠবার — قَيِّمًا, সোজা।"
💡 আর একটা জিনিস খেয়াল করো — عَبْدِهِ (তাঁর বান্দা)। আল্লাহ নবীজিকে (সা.) এখানে ডাকলেন বান্দা বলে, নবী বলেও নয়, রাসূল বলেও নয়। কারণ সবচেয়ে বড় সম্মান হলো — তুমি তাঁর। আর তুমি রোজ বলো إِيَّاكَ نَعْبُدُ — একই পরিবার। 🙇