🗺️ আজকের অভিযান
দাদার ঘরে আজ একটা অদ্ভুত ছবি — কালো আকাশে ছড়ানো ছায়াপথ, আর তার উপরে নীল রঙের ঝাপসা দাগ বসানো।
"দাদা, নীলটা কী?"
"ওখানে কিছু নেই," দাদা বললেন।
"তাহলে দাগ দিয়েছেন কেন?"
দাদা হাসলেন। "কারণ ওখানে কিছু আছে — আমরা শুধু দেখতে পাই না।"
মাহদী ভুরু কুঁচকাল।
"বসো, বুঝিয়ে বলি।" দাদা চশমা ঠিক করলেন। "বিজ্ঞানীরা যখন ছায়াপথগুলো ঘোরা মাপলেন, দেখলেন হিসাব মিলছে না। যত ওজন দেখা যাচ্ছে, তাতে ছায়াপথটার ছিটকে ভেঙে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভাঙছে না।"
"তার মানে?"
"তার মানে এমন কিছু আছে যা ওজন দিচ্ছে, টান দিচ্ছে — অথচ আলো দেয় না, আলো আটকায়ও না। কোনো টেলিস্কোপে ধরা পড়ে না।"
"নাম কী?"
"ডার্ক ম্যাটার। আর সাথে আছে ডার্ক এনার্জি।" দাদা ছবিটার দিকে তাকালেন। "আমরা মহাবিশ্বের যা কিছু চোখে বা যন্ত্রে দেখি, সেটা মোটে পাঁচ ভাগের মতো। বাকিটা অদৃশ্য।"
মাহদী হাঁ করে তাকিয়ে রইল।
"দাদা! তার মানে ডার্ক ম্যাটারই কি জিন?"
দাদা সাথে সাথে হাত তুলে থামালেন।
"না। এবং এই ভুলটা করা যাবে না, দাদুভাই। তিন ভাগে শোনো।"
"এক — কুরআন যা বলেছে। জিন একটা আলাদা সৃষ্টি, ধোঁয়াবিহীন আগুন থেকে তৈরি। তাদের বুদ্ধি আছে, ইচ্ছা আছে, তারা ভালোও হতে পারে খারাপও।"
"দুই — বিজ্ঞান যা বলে। ডার্ক ম্যাটার একরকম পদার্থ — প্রাণ নেই, বুদ্ধি নেই, ইচ্ছা নেই। আর এটা এখনো একটা অনুমান, প্রমাণ নয়। কালকেই নতুন তত্ত্ব এসে এটা বদলে দিতে পারে।"
"তিন — যেখানে মিলটা টানা যাবেই না।" দাদা আঙুল তুললেন। "ডার্ক ম্যাটার জিন নয়। জিন ডার্ক ম্যাটার নয়। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। কেউ যদি বলে কুরআন ডার্ক ম্যাটারের কথা বলেছে — সে বাড়িয়ে বলছে।"
"তাহলে ছবিটা দেখিয়ে লাভ কী?"
দাদা চেয়ারে হেলান দিলেন।
"লাভ শুধু একটাই, দাদুভাই — আর সেটা ছোট নয়। *মানুষ প্রায়ই বলে আমি দেখি না, তাই নেই। এই যুক্তিটা যে ভুল, সেটা বিজ্ঞান নিজেই স্বীকার করে।*"
"এটুকুই মিল। এর বেশি এক পাও এগিয়ো না।"
সেই রাতে জাহাজ থামল চতুর্থ দ্বীপে। আর মাহদী সাথে সাথেই বুঝল এই দ্বীপটা আলাদা।
সব কিছু ঝাপসা। গাছগুলো আছে, কিন্তু তাকালে সরে যায়। পাথর আছে, কিন্তু ছুঁতে গেলে হাত ঢুকে যায়।
"এই দ্বীপের নাম ঢালের দ্বীপ," হুদহুদ বলল। "আর এখানকার নিয়ম একটাই — চোখকে বিশ্বাস কোরো না।"
"এটা কি দাজ্জালের কাজ?"
"না, না!" হুদহুদ ডানা নাড়ল। "উল্টো। এই দ্বীপ তোমাকে শেখাবে অদৃশ্য জিনিসও সত্যি হতে পারে। দাজ্জাল শেখাতে চায় দৃশ্য জিনিসও মিথ্যা হতে পারে।"
"দুটো তো একই কথা!"
"একদম নয়!" হুদহুদ থেমে গেল, তারপর ধীরে বলল। "একটা তোমাকে বলে চোখের বাইরেও দুনিয়া আছে। আরেকটা বলে চোখই সব, আর চোখকে ঠকানো যায়।"
"প্রথমটা তোমাকে বড় করে, দ্বিতীয়টা তোমাকে অন্ধ করে।"
তারপর হুদহুদ আজকের আয়াত পড়ল:
قُلْ أُوحِىَ إِلَىَّ أَنَّهُ ٱسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ ٱلْجِنِّ فَقَالُوٓا۟ إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًا (কুল ঊহিয়া ইলাইয়া আন্নাহুসতামাআ নাফারুম মিনাল জিন্নি ফাকালূ ইন্না সামি'না কুরআনান আজাবা — বলুন, আমার প্রতি ওহি এসেছে যে জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে, অতঃপর বলেছে: আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি)
"জিন কুরআন শুনেছিল?" মাহদী অবাক।
"শুনেছিল। নবীজি (সা.) তখন তায়েফ থেকে ফিরছিলেন — জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সফর। মানুষ তাঁকে পাথর মেরে তাড়িয়ে দিয়েছিল।"
"তিনি রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়ছিলেন। আর অন্ধকারে, তাঁর অজান্তে, একদল জিন দাঁড়িয়ে শুনছিল।"
মাহদীর গায়ে কাঁটা দিল।
"সবচেয়ে সুন্দর জায়গাটা কী জানো?" হুদহুদ বলল। "যেদিন মানুষ তাঁকে সবচেয়ে বেশি অপমান করল, সেদিন রাতেই অন্য এক জাতি এসে ঈমান আনল।"
"তিনি টেরও পাননি?"
"না। আল্লাহ পরে জানালেন।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "এইজন্যই মনে রেখো, সেনাপতি — তোমার ভালো কাজটা কে দেখছে, তুমি জানো না।"
তারপর সে দ্বিতীয় আয়াতটা পড়ল: يَهْدِىٓ إِلَى ٱلرُّشْدِ فَـَٔامَنَّا بِهِۦ (ইয়াহদী ইলার রুশদি ফাআমান্না বিহি — যা সত্যের পথ দেখায়; তাই আমরা এতে ঈমান এনেছি)।
"يَهْدِى!" মাহদী ধরে ফেলল।
"তোমার নামের পরিবার," হুদহুদ বলল। "জিনরাও ওই একই শব্দ ব্যবহার করেছে।"
"আর শেষে তারা বলল — وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَآ أَحَدًا (ওয়ালান নুশরিকা বিরব্বিনা আহাদা — আমরা কখনোই আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না)।"
"أَحَدًا!" মাহদী চেঁচিয়ে উঠল।
"হ্যাঁ। বিলালের (রা.) শব্দ। সূরা ইখলাসের শব্দ।" হুদহুদ ডানা মেলল। "মানুষ, জিন, দাস, নবী — সবাই ঘুরেফিরে একই শব্দে এসে পৌঁছায়।" 🌌