🗺️ আজকের অভিযান
আম্মুর ফোনে একটা মেসেজ এল। কে যেন গ্রুপে পাঠিয়েছে।
মাহদী পড়ল: "এই দোয়াটা ২০ জনকে পাঠান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনার একটা বড় সুসংবাদ আসবে। যে পাঠাবে না, তার সাত বছরের বিপদ শুরু হবে। — একজন বড় আলেম বলেছেন"
"আম্মু! ২০ জনকে পাঠাতে হবে!"
আম্মু ফোনটা নিলেন। পুরোটা পড়লেন। তারপর ডিলিট করে দিলেন।
"আম্মু! আপনি মুছে দিলেন?!"
"হ্যাঁ।"
"কিন্তু যদি সত্যি হয়? সাত বছরের বিপদ..."
আম্মু ফোনটা টেবিলে রেখে মাহদীর দিকে ঘুরে বসলেন। গলাটা আজ শক্ত।
"মাহদী, একটা কথা মন দিয়ে শোনো। আজ পর্যন্ত তুমি আমার কাছে যত কথা শিখেছ, তার মধ্যে এটা সবচেয়ে জরুরি।"
মাহদী সোজা হয়ে বসল।
"মিথ্যা বলা খারাপ। এটা তুমি জানো। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর মিথ্যা কোনটা জানো?"
"কোনটা?"
"আল্লাহর নামে মিথ্যা।" আম্মু মেসেজটার দিকে ইশারা করলেন। "কে বলেছে ২০ জনকে পাঠালে সুসংবাদ আসবে? কোন হাদিসে আছে? কোন আয়াতে?"
"লেখা আছে একজন বড় আলেম বলেছেন।"
"কোন আলেম? নাম কই? কোন বই? কোন পাতা?"
মাহদী চুপ।
"এটাই তো ফাঁদ, বাবা। নাম নেই, প্রমাণ নেই — শুধু ভয় আছে।" আম্মু বললেন। "আর মানুষ ভয় পেয়ে পাঠিয়ে দেয়, তারপর কোটি মানুষ ভাবে এটা দ্বীনের কথা।"
"তাহলে আমার কী করা উচিত ছিল?"
"তুমি যেটা করেছ — জিজ্ঞেস করা।" আম্মু একটু নরম হলেন। "আর মনে রেখো: আল্লাহ ভয় দেখিয়ে দোয়া করান না। যে মেসেজ তোমাকে ভয় দেখিয়ে কিছু করায়, সেটা দ্বীনের কথা নয়।"
সেই রাতে হুদহুদ বলল, "আজ জিনরা আরও দুইটা কথা বলবে। আর দ্বিতীয়টা শুনে তুমি চমকে যাবে।"
প্রথম আয়াত: وَأَنَّهُۥ تَعَـٰلَىٰ جَدُّ رَبِّنَا مَا ٱتَّخَذَ صَـٰحِبَةً وَلَا وَلَدًا (ওয়া আন্নাহু তাআলা জাদ্দু রব্বিনা মাত্তাখাযা সাহিবাতাও ওয়ালা ওয়ালাদা — আর নিশ্চয়ই আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ; তিনি কোনো সঙ্গিনী নেননি, সন্তানও নেননি)
মাহদী প্রায় লাফিয়ে উঠল।
"হুদহুদ! এটা তো সূরা ইখলাস! লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ!"
"একদম একই কথা," হুদহুদ মাথা নাড়ল। "মক্কার মানুষ জিজ্ঞেস করেছিল আল্লাহর বংশ কী? — উত্তর এল সূরা ইখলাস। আর এখানে জিনরা নিজেরাই একই কথা বলছে।"
"জিনরা এটা জানল কীভাবে?"
"কুরআন শুনে।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "একরাতের তেলাওয়াত শুনে তারা এতটা বুঝে ফেলল, মাহদী। আর কেউ কেউ সারাজীবন পড়েও..." — সে থেমে গেল।
মাহদী কান লাল করে মাটির দিকে তাকাল।
"এবার দ্বিতীয় আয়াতটা," হুদহুদ বলল।
وَأَنَّهُۥ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى ٱللَّهِ شَطَطًا (ওয়া আন্নাহু কানা ইয়াকূলু সাফীহুনা আলাল্লাহি শাতাতা — আর আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহ সম্বন্ধে খুবই অবান্তর কথা বলত)
"سَفِيه মানে নির্বোধ, বোকা," হুদহুদ বলল। "জিনরা স্বীকার করছে — আমাদের মধ্যেও কিছু বোকা আছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে যা খুশি বলত।"
"شَطَط মানে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া কথা। এমন কথা যার কোনো ভিত্তি নেই, শুধু বাড়িয়ে বলা।"
মাহদী চুপ করে রইল কয়েক সেকেন্ড।
তারপর বলল, "হুদহুদ, আজ আম্মুর ফোনে একটা মেসেজ এসেছিল। লেখা ছিল ২০ জনকে পাঠালে সুসংবাদ আসবে, না পাঠালে সাত বছরের বিপদ।"
হুদহুদ ডানা গুটিয়ে সোজা হয়ে বসল।
"কে বলেছে কথাটা?"
"লেখা ছিল একজন বড় আলেম বলেছেন। নাম ছিল না।"
"তাহলে সেটা কী, মাহদী?"
মাহদী আয়াতটার দিকে তাকাল। তারপর আস্তে বলল — "شَطَطًا।"
"একদম ঠিক।" হুদহুদের গলা গম্ভীর। "আর খেয়াল করেছ, জিনরা এই কথাটা কাদের সম্পর্কে বলেছে? নিজেদের লোকদের সম্পর্কে। তারা বলেনি মানুষরা বাজে কথা বলে। বলেছে আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা।"
"তার মানে?"
"তার মানে সবচেয়ে বড় বিপদ বাইরে থেকে আসে না, সেনাপতি। আসে নিজের ঘর থেকে। যে মানুষটা আল্লাহর নামে বানিয়ে কথা বলে, সে সাধারণত বাইরের কেউ নয় — সে আমাদেরই একজন।"
মাহদীর গা শিরশির করে উঠল।
"তাহলে বাঁচব কীভাবে?"
"দুইটা প্রশ্ন। শুধু দুইটা।" হুদহুদ বলল। "যখনই কেউ আল্লাহর নামে কিছু বলে, জিজ্ঞেস করো — কোন আয়াতে? কোন হাদিসে?"
"আর যদি উত্তর না পাই?"
"তাহলে চুপ করে যাও, আর ছড়িয়ো না।" হুদহুদ ডানা মেলল। "মনে আছে ক্লাস ৫৯-এ কী শিখেছিলে?"
"জানি না বলা।"
"হ্যাঁ। আর আল্লাহর ব্যাপারে জানি না বলা লজ্জার নয়, মাহদী। আল্লাহর ব্যাপারে না-জেনে বলা — সেটাই লজ্জার।" 📵