🗺️ আজকের অভিযান
পরদিন মাহদী ছেলেটাকে খুঁজে বের করল। নাম রায়হান।
"আয়, একসাথে পড়ি," মাহদী বলল। "আমিও শিখছি।"
রায়হান সন্দেহের চোখে তাকাল। "তুই আমাকে সাহায্য করবি কেন? আমি তো..." — সে থেমে গেল।
"তুই তো কী?"
"আমি তো তোদের সাথে ভালো ব্যবহার করিনি কোনোদিন।"
মাহদী কী বলবে ভেবে পেল না। শেষে বলল, "তো কী হয়েছে? চল, বারান্দায় বসি।"
সেদিন বিকেলে দুজনে সূরা লাইলের প্রথম পাঁচ আয়াত পড়ল।
রাতে দাদি ঘটনাটা শুনে বললেন, "জানো দাদুভাই, ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর কাজগুলো সবসময় এমনই ছিল — যার কাছে কিছু পাওনা ছিল না, তার জন্য করা।"
"মানে?"
দাদি হাসলেন। "সেটা তোমার হুজুর তোমাকে বলবেন। অথবা..." — তিনি রহস্য করে বললেন — "...আজ রাতেই জানবে।"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে নিয়ে গেল মরুভূমির মতো একটা জায়গায়। তপ্ত বালু, মাথার উপর কড়া রোদ।
দূরে একজন মানুষ চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন বালুর উপর, আর তাঁর বুকের উপর বিশাল একটা পাথর।
মাহদী ছুটে যেতে চাইল। হুদহুদ ডানা দিয়ে আটকাল। "এটা স্মৃতির ছবি। ছোঁয়া যাবে না।"
"উনি কে?"
"বিলাল (রা.)।" হুদহুদের গলা কেঁপে গেল। "তিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস। ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে তাঁর মালিক তাঁকে রোজ দুপুরে তপ্ত বালুতে ফেলে বুকের উপর পাথর চাপিয়ে রাখত।"
"কেন?"
"যাতে তিনি বলেন আমি ফিরে গেলাম।"
"উনি বলেছিলেন?"
হুদহুদ মাথা নাড়ল। "না। তিনি শুধু একটাই শব্দ বলতেন, বারবার।"
আর ঠিক তখনই মাহদী শুনতে পেল — ফিসফিস, ভাঙা গলায়, কিন্তু থামছে না:
"أَحَدٌ... أَحَدٌ..."
মাহদীর গায়ে কাঁটা দিল।
"আহাদ," সে ফিসফিস করে বলল। "সূরা ইখলাসের শব্দটা! ক্লাস তিনে শিখেছিলাম!"
"হ্যাঁ, সেনাপতি।" হুদহুদ বলল। "এক। শুধু এক। মার খেতে খেতে তিনি এই একটা শব্দই ধরে রেখেছিলেন।"
"তারপর কী হলো?"
"তারপর একজন লোক ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দাঁড়ালেন। মালিককে জিজ্ঞেস করলেন — কত টাকা নেবে?"
"তিনি কিনে নিলেন?"
"কিনলেন, আর সাথে সাথেই মুক্ত করে দিলেন।" হুদহুদ বলল। "লোকটার নাম আবু বকর (রা.)। আর তিনি শুধু বিলালকে নয় — এমন সাতজন দাসকে কিনে মুক্ত করেছিলেন।"
"বিলাল (রা.) কি তাঁর আত্মীয় ছিলেন?"
"না।"
"বন্ধু?"
"না।"
"তাহলে আবু বকর (রা.)-এর লাভটা কী ছিল?"
হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "এইটাই আজকের আয়াত, মাহদী।"
সে পড়ল:
وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلْأَتْقَى · ٱلَّذِى يُؤْتِى مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ (ওয়া সাইউজান্নাবুহাল আতকা · আল্লাযী ইউতী মালাহু ইয়াতাযাক্কা — আর তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে, যে তার সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য)
"يَتَزَكَّىٰ!" মাহদী ধরে ফেলল। "যাকাতের সেই পরিবার! পবিত্র করা!"
"শাবাশ। এবার পরের আয়াতটা — এটাই আসল।"
وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَىٰ (ওয়া মা লিআহাদিন ইনদাহু মিন নি'মাতিন তুজযা — আর তার কাছে কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে)
"মানে?" মাহদী জিজ্ঞেস করল।
"মানে — সে কারো কাছে ঋণী ছিল না। কেউ তার কোনো উপকার করেনি যে সে শোধ দিচ্ছে। বিলাল (রা.) আবু বকরের (রা.) কোনো উপকার করেননি কোনোদিন।"
"তাহলে কেন করলেন?"
হুদহুদ শেষ দুটো আয়াত পড়ল:
إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِ ٱلْأَعْلَىٰ · وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ (ইল্লাবতিগাআ ওয়াজহি রব্বিহিল আ'লা · ওয়ালাসাওফা ইয়ারদা — কেবল তার মহান রবের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়; আর অচিরেই সে সন্তুষ্ট হবে)
মাহদী চুপ করে বসে রইল।
তারপর হঠাৎ বলল, "হুদহুদ! وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ — এই শব্দটা সূরা দুহাতেও ছিল! فَتَرْضَىٰ!"
হুদহুদ ডানা ঝাপটে লাফিয়ে উঠল। "মাহদী! তুমি ঠিক ধরেছ! আল্লাহ নবীজিকে (সা.) বলেছিলেন তুমি সন্তুষ্ট হবে। আর এখানে বলছেন যে দেয়, সে-ও সন্তুষ্ট হবে।"
"একই প্রতিশ্রুতি!"
"একই প্রতিশ্রুতি।" হুদহুদ শান্ত হলো। "আর আজ বিকেলে তুমি কী করেছ, মাহদী? এমন একটা ছেলেকে সাহায্য করেছ, যে তোমার কোনো উপকার করেনি।"
মাহদী মাটির দিকে তাকিয়ে রইল।
"ছোট্ট কাজ," হুদহুদ বলল, "কিন্তু একই দরজা দিয়ে ঢুকেছ।" 🤍