🗺️ আজকের অভিযান
ছুটির পর একটা ছেলে মাহদীর পাশে এসে দাঁড়াল।
সেই ছেলেটা — যে পাথরটা ছুঁড়েছিল।
"এই," সে মাটির দিকে তাকিয়ে বলল, "তুই এত কিছু জানিস কোত্থেকে? সেদিন সূরার ওই কথাগুলো..."
মাহদী কী বলবে বুঝতে পারল না।
"আমাকে একটু শিখাবি?" ছেলেটা বলল। তারপর দ্রুত যোগ করল, "থাক, লাগবে না।" — আর হাঁটা দিল।
সারা বিকেল মাহদীর মাথায় ঘুরল কথাটা।
রাতে সে আম্মুর কাছে গেল। "আম্মু, আমি তো নিজেই ঠিকমতো জানি না। আমি কাউকে কীভাবে শেখাব? যদি ভুল শিখিয়ে ফেলি?"
আম্মু ল্যাপটপ বন্ধ করলেন।
"একটা কথা বলি। তোমার আব্বু কী করেন?"
"নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন।"
"আর আমি কী করি?"
"সেটা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেন।"
"ঠিক।" আম্মু চেয়ারটা ঘুরিয়ে বসলেন। "এখন শোনো — আমি যখন একজন কৃষকের হাতে নতুন বীজ তুলে দিই, তখন আমার দায়িত্ব কতটুকু?"
মাহদী ভাবল। "বীজটা পৌঁছে দেওয়া।"
"আর বীজটা গজাবে কি না?"
"...সেটা তো আপনার হাতে না।"
আম্মু হাসলেন। "তাহলে আমি রাতে ঘুমাতে পারি কীভাবে জানো? কারণ আমি জানি আমার কাজ পৌঁছে দেওয়া, গজানো নয়।"
তিনি মাহদীর মাথায় হাত রাখলেন। "তুমি যা জানো, শেখাও। ভুল হলে বলে দিয়ো আমি জানি না, হুজুরকে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু ছেলেটার মন বদলানোর দায়িত্ব তোমার নয়, বাবা। ওটা অন্য কারো।"
সেই রাতে হুদহুদ বলল, "আজকের আয়াতটা আমি নয় সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করছি বলার জন্য।"
সে পড়ল:
إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ (ইন্না আলাইনা লালহুদা — নিশ্চয়ই পথ দেখানো আমাদেরই দায়িত্ব)
মাহদী স্থির হয়ে গেল।
"ٱلْهُدَىٰ," সে ফিসফিস করে বলল।
"হ্যাঁ। তোমার নাম।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "কিন্তু আজ শব্দটা নতুন একটা জায়গায় বসেছে, খেয়াল করেছ? عَلَيْنَا — আমাদের উপর।"
"মানে?"
"মানে আল্লাহ বলছেন — হেদায়েত দেওয়াটা আমার কাজ। কারো মন বদলানো, কারো বুক খুলে দেওয়া — ওটা আমার দায়িত্ব, তোমার নয়।"
মাহদীর আম্মুর কথাটা মনে পড়ল। আমার কাজ পৌঁছে দেওয়া, গজানো নয়।
"হুদহুদ, আজ একটা ছেলে আমাকে শেখাতে বলেছিল। ওই ছেলেটা — যে কুকুরছানাটাকে পাথর মেরেছিল।"
"তুমি কী বললে?"
"কিছুই বলতে পারিনি। ও চলে গেল।"
হুদহুদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
"তুমি ভয় পেয়েছিলে, তাই না? ভেবেছিলে দায়িত্বটা খুব ভারী।"
মাহদী মাথা নাড়ল।
"তাহলে আজকের আয়াতটা তোমার কাঁধ থেকে ওজনটা নামিয়ে নিল।" হুদহুদ বলল। "নবীজিকেও (সা.) আল্লাহ বলেছিলেন — তুমি যাকে ভালোবাসো, তাকে হেদায়েত দিতে পারবে না; আল্লাহই দেন যাকে চান।"
"নবীজিও পারতেন না?!"
"না। তাঁর নিজের চাচা আবু তালিব — যিনি তাঁকে ছোটবেলা থেকে আগলে রেখেছিলেন — তিনিও ঈমান আনেননি। নবীজি (সা.) কেঁদেছিলেন।"
দুজনে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
"তাহলে আমার কাজ কী?"
"বীজটা পৌঁছে দেওয়া।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "কাল ছেলেটাকে গিয়ে বলো — আয়, একসাথে পড়ি। আমিও শিখছি।"
তারপর হুদহুদ পরের আয়াতগুলোতে গেল। "এবার সতর্কবাণী। আর দেখো আল্লাহ কী সুন্দর করে বললেন — فَأَنذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظَّىٰ (ফা আনযারতুকুম নারান তালায্যা — অতঃপর আমি তোমাদের সতর্ক করে দিলাম লেলিহান আগুন সম্পর্কে)।"
"أَنذَرْتُ মানে আমি সতর্ক করলাম। মনে রেখো মাহদী — সতর্ক করাটাই রহমত। যে সত্যিই ধরতে চায়, সে আগে থেকে জানায় না।"
তারপর শেষ আয়াতটা: ٱلَّذِى كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ (আল্লাযী কায্যাবা ওয়া তাওয়াল্লা — যে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়)।
মাহদী প্রায় লাফিয়ে উঠল। "হুদহুদ! এই লাইনটা হুবহু সূরা আলাকে ছিল! যেদিন তুমি নামটা বললে!"
হুদহুদ ধীরে মাথা নাড়ল। "হুবহু। كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ — মিথ্যা বলা, আর মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া।"
"দুইটা কাজ, মাহদী। প্রথমে সে সত্যকে মিথ্যা বলে, তারপর পিঠ ঘুরিয়ে চলে যায়। এই দুইটা সবসময় একসাথে আসে।"
"তাহলে উল্টোটা কী?"
হুদহুদের চোখ চকচক করল। "সত্যকে সত্য বলা, আর মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। ঠিক যেমন আজ বিকেলে একটা ছেলে তোমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।" 🌱