🗺️ আজকের অভিযান
মাহদীর মাথায় সেই নামটা এখনো ঘুরছে।
বিকেলে সে দাদার ঘরে গেল। "দাদা, একটা প্রশ্ন করি? যদি কেউ এসে বলে সে খুব বড় কিছু — কিছু একটা যা কেউ বিশ্বাস করে না — বুঝব কীভাবে সে সত্যি বলছে?"
দাদা বইটা নামিয়ে রাখলেন। "বাহ্, আজ তুমি বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা করেছ।"
"বিজ্ঞানের?"
"হ্যাঁ। বিজ্ঞানে আমরা একটা নিয়ম মানি — দাবি যত বড়, প্রমাণ তত বড় লাগে।"
তিনি টেবিল থেকে একটা কলম তুললেন। "আমি যদি বলি এই কলমটা নীল, তুমি বিশ্বাস করবে। ছোট দাবি, চোখেই দেখা যায়।"
"আর যদি বলি আমি কাল রাতে চাঁদে গিয়েছিলাম?"
মাহদী হেসে ফেলল।
"হাসছ কেন? কারণ বিরাট দাবির জন্য বিরাট প্রমাণ লাগে। ছবি চাই, রকেট চাই, সাক্ষী চাই।"
দাদা কলমটা নামালেন।
"এখন ভাবো দাদুভাই। কেউ যদি এসে বলে আমি আল্লাহর পাঠানো, সেটা তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দাবি। তাহলে প্রমাণটা কেমন হওয়া উচিত?"
"সবচেয়ে বড়?"
"ঠিক।" দাদা চশমা মুছলেন। "আর এইজন্যই আল্লাহ প্রতিটা নবীর সাথে নিদর্শন পাঠিয়েছেন। মূসা (আ.)-এর লাঠি, ঈসা (আ.)-এর অসুস্থকে সুস্থ করা।"
"আর নবীজির (সা.)?"
দাদা হাসলেন। "সেটা তোমার হাতেই আছে, দাদুভাই। রোজ পড়ো।"
সেই রাতে নতুন এক সূরার গেট। উপরে লেখা ٱلْبَيِّنَة।
"এই সূরার নামের মানে কী বলো তো?" হুদহুদ জিজ্ঞেস করল।
মাহদী শব্দটার দিকে তাকিয়ে রইল। "বাইয়্যিনাহ... মানে..."
"ভাবো। ب ي ن পরিবার। বয়ান, মুবীন..."
"স্পষ্ট!" মাহদী চেঁচিয়ে উঠল। "মানে... স্পষ্ট প্রমাণ?"
"একদম!" হুদহুদ লাফাল। "আর ভেবে দেখো — গত সপ্তাহে আমি তোমাকে মিথ্যার নাম বলেছিলাম। আর এই সপ্তাহে আল্লাহ তোমাকে একটা গোটা সূরা দিলেন যার নাম প্রমাণ।"
মাহদীর গায়ে কাঁটা দিল।
"তার মানে..."
"মিথ্যার বিরুদ্ধে অস্ত্র হলো প্রমাণ, মাহদী। চোখের ধোঁকার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ।"
হুদহুদ প্রথম আয়াতটা পড়ল:
لَمْ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ (লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতাবি ওয়াল মুশরিকীনা মুনফাক্কীনা হাত্তা তাতিয়াহুমুল বাইয়্যিনাহ — আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে এবং মুশরিকরা, তারা নিবৃত্ত হবে না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসবে)
"লম্বা আয়াত!" মাহদী বলল।
"হ্যাঁ, এই সূরার আয়াতগুলো বড়। কিন্তু ভয় পেয়ো না — আমরা আস্তে আস্তে যাব। আজ শুধু দুইটা আয়াত।"
"أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ মানে কী?"
"কিতাবওয়ালারা — ইহুদি ও খ্রিস্টানরা, যাদের কাছে আগে আল্লাহর কিতাব এসেছিল। আর ٱلْمُشْرِكِين মানে যারা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরিক করত।"
"তারা কী চাইছিল?"
"তারা বলত — প্রমাণ দেখাও! আল্লাহ যদি সত্যিই কাউকে পাঠান, নিদর্শন কই?"
মাহদীর দাদার কথা মনে পড়ল। দাবি যত বড়, প্রমাণ তত বড় লাগে।
"তারপর আল্লাহ কী করলেন?"
হুদহুদ দ্বিতীয় আয়াতটা পড়ল, ধীরে ধীরে:
رَسُولٌ مِّنَ ٱللَّهِ يَتْلُوا۟ صُحُفًا مُّطَهَّرَةً (রাসূলুম মিনাল্লাহি ইয়াতলূ সুহুফাম মুতাহহারাহ — আল্লাহর কাছ থেকে এক রাসূল, যিনি তেলাওয়াত করেন পবিত্র পত্রসমূহ)
মাহদী কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করল। তারপর বলল, "এইটুকু? প্রমাণটা... একজন মানুষ আর কিছু পাতা?"
"হ্যাঁ।" হুদহুদ মাথা কাত করল। "হতাশ হলে?"
"একটু। আমি ভেবেছিলাম বিরাট কিছু হবে — পাহাড় ফেটে যাবে, আকাশ থেকে আগুন নামবে।"
"তাহলে একটা প্রশ্ন করি," হুদহুদ বলল। "পাহাড় ফাটলে কতদিন মনে থাকত?"
মাহদী থমকে গেল।
"যারা দেখত তাদের এক জীবন। তারপর? তারপর শুধু গল্প।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "কিন্তু একটা কিতাব? চৌদ্দশো বছর পরেও একটা নয় বছরের ছেলে সাতক্ষীরার বারান্দায় বসে সেটা পড়তে পারে।"
মাহদী কিছু বলতে পারল না।
"মূসা (আ.)-এর লাঠি এখন কোথায়? ঈসা (আ.) যাদের সুস্থ করেছিলেন, তাঁরা কোথায়?" হুদহুদ বলল। "গেছে। সব নিদর্শন সময়ের সাথে চলে যায়।"
"একটাই নিদর্শন থেকে গেছে — যেটা পড়া যায়।"
সে মাহদীর দিকে তাকাল।
"এইজন্যই প্রথম শব্দটা ছিল ٱقْرَأْ, সেনাপতি। আল্লাহ এমন একটা মুজিযা পাঠিয়েছেন যেটা শেষ হয় না — কারণ প্রত্যেক প্রজন্ম নিজে খুলে দেখতে পারে।" 📜