🗺️ আজকের অভিযান
দুপুরে ভীষণ গরম। মাহদী মাঠ থেকে ফিরে কলসি থেকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি ঢেলে এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেলল।
দাদা বারান্দায় বসে দেখছিলেন। "আহ্ শব্দটা করলে কেন?"
"এত আরাম লাগল দাদা!"
দাদা হাসলেন। তারপর বললেন, "নবীজি (সা.) একদিন সাহাবিদের নিয়ে খেজুর আর ঠান্ডা পানি খেয়েছিলেন। খাওয়া শেষে তিনি বললেন — এই নিয়ামত সম্পর্কেও একদিন প্রশ্ন করা হবে।"
"ঠান্ডা পানির জন্য প্রশ্ন?!" মাহদী গ্লাসটার দিকে তাকাল।
"হ্যাঁ। প্রশ্ন মানে শাস্তি নয়, দাদুভাই — প্রশ্ন মানে হিসাব। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন: দিয়েছিলাম তো, কী করলে?"
তারপর দাদা চুলার দিকে আঙুল তুললেন। "আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি। আগুন গরম — তুমি জানো?"
"জানি।"
"কীভাবে জানো?"
"সবাই বলে। বইয়ে লেখা।"
"ঠিক। এটাকে বলে জেনে নিশ্চিত হওয়া।" দাদা উঠে গিয়ে চুলাটা জ্বালালেন। নীল শিখা লাফিয়ে উঠল। "এবার দেখছ। এটা দেখে নিশ্চিত হওয়া।"
"আর তিন নম্বরটা?"
"তিন নম্বরটা হলো ছুঁয়ে ফেলা।" দাদা চুলাটা নিভিয়ে দিলেন। "সেটা কেউ শিখতে চায় না, দাদুভাই। ওটা আর জানা নয় — ওটা ভোগা।"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে দোকানের বাইরে নিয়ে এল।
"আজ সূরার শেষ অংশ। আর আজ তুমি এমন কিছু শিখবে যা তোমার দাদা আজ দুপুরেই শিখিয়ে দিয়েছেন।"
মাহদী অবাক হয়ে তাকাল।
"كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ ٱلْيَقِينِ (কাল্লা লাও তা'লামূনা ইলমাল ইয়াকীন — কখনো নয়! যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে...)"
"عِلْمُ ٱلْيَقِين (ইলমুল ইয়াকীন) — জেনে নিশ্চিত হওয়া। শুনে, পড়ে, বিশ্বাস করে।"
তারপর হুদহুদ পরের আয়াতে গেল: "لَتَرَوُنَّ ٱلْجَحِيمَ · ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ ٱلْيَقِينِ (লাতারাউন্নাল জাহীম · সুম্মা লাতারাউন্নাহা আইনাল ইয়াকীন — তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে; তারপর অবশ্যই তা দেখবে চাক্ষুষ প্রত্যয়ে)।"
"عَيْنُ ٱلْيَقِين (আইনুল ইয়াকীন) — দেখে নিশ্চিত হওয়া। عَيْن মানে চোখ।"
মাহদী ফিসফিস করে বলল, "দাদার চুলা।"
"ঠিক তাই।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "আর তৃতীয় একটা ধাপও আছে — حَقُّ ٱلْيَقِين, ছুঁয়ে নিশ্চিত হওয়া। কুরআনে সেটা অন্য এক সূরায় আছে।"
"কিন্তু শোনো মাহদী — আল্লাহ এই তিনটে ধাপ পরপর সাজিয়েছেন কেন?"
মাহদী মাথা নাড়ল।
"যাতে তুমি প্রথম ধাপেই থেমে যাও।" হুদহুদের গলা নরম হলো। "তিনি বলছেন — জেনেই বিশ্বাস করে ফেলো। দেখার অপেক্ষা কোরো না। কারণ যেদিন দেখবে, সেদিন আর ফিরে আসার রাস্তা থাকবে না।"
মাহদী চুপ করে রইল।
"আর সূরাটা শেষ হয় সবচেয়ে অবাক করা লাইনটা দিয়ে," হুদহুদ বলল। "ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ (সুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমাইযিন আনিন নাঈম — তারপর সেদিন তোমাদের অবশ্যই নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে)।"
"সূরাটা শুরু হয়েছিল তোমরা বেশি বেশি চাও বলে। শেষ হচ্ছে যা পেয়েছ তার হিসাব দাও বলে।"
"তার মানে নিয়ামত পাওয়া খারাপ?" মাহদী উদ্বিগ্ন হয়ে বলল।
"একদম না!" হুদহুদ হেসে ফেলল। "প্রশ্ন করা হবে মানে জিনিসটা মূল্যবান। কেউ তোমাকে ভাঙা পেন্সিলের হিসাব জিজ্ঞেস করে না। যেটার হিসাব চাওয়া হয়, সেটা দামি।"
"তাহলে আজ দুপুরের ওই এক গ্লাস ঠান্ডা পানি..."
"...আল্লাহর কাছে যথেষ্ট দামি যে তার কথা তুলবেন।" হুদহুদ ডানা মেলল। "ভাবো তো, সেনাপতি — তোমার এত ছোট একটা আরামও তাঁর খাতায় লেখা আছে।" 💧
📜 গল্প: দুই গোত্রের কবরস্থানে গোনাগুনি
মক্কায় দুটো গোত্রের মধ্যে একবার ঝগড়া বেধে গেল — কাদের লোক বেশি, কারা বড়।
তারা গুনতে শুরু করল। এক গোত্র বলে আমরা বেশি, আরেক গোত্র বলে না, আমরা।
তারপর একদল বলল, "চলো কবরস্থানে যাই। মরে যাওয়া লোকগুলোকেও গুনি!"
সত্যিই তারা কবরস্থানে গিয়ে কবর গুনতে লাগল — এই কবরটা আমাদের, ওইটা আমাদের।
তখন এই সূরা নাযিল হলো। আর প্রথম দুই আয়াতেই আল্লাহ পুরো ছবিটা এঁকে দিলেন: প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের ভুলিয়ে রেখেছে — যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও।
শব্দটা খেয়াল করো — زُرْتُمُ (যুরতুম — তোমরা যিয়ারত করলে)। যিয়ারত মানে বেড়াতে যাওয়া, যেখানে মানুষ থাকে না।
অর্থাৎ কবরও শেষ ঠিকানা নয় — সেটাও একটা থামার জায়গা মাত্র!
তারপর সূরাটা শেষ হয় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত লাইনটা দিয়ে: ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ — সেদিন তোমাদের অবশ্যই নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।
নবীজি (সা.) একদিন সাহাবিদের নিয়ে খেজুর আর ঠান্ডা পানি খেলেন। খাওয়া শেষে তিনি বললেন — এই নিয়ামত সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হবে। 💧
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সূরাটা প্রতিযোগিতাকে নিষেধ করে না — ভুলে যাওয়াকে নিষেধ করে। শব্দটা أَلْهَىٰ (ভুলিয়ে রাখা)। জিনিস দোষের নয়; জিনিস যখন আসল কাজ ভুলিয়ে দেয়, তখনই দোষ।
🕌 কোথায় কাজে লাগাব
- কেউ যখন জিজ্ঞেস করে "তোমার কয়টা আছে?" — থেমে ভাবো, প্রশ্নটা আসলে কী।
- পানি খাওয়ার আগে তিন সেকেন্ড থেমে "আলহামদুলিল্লাহ" বলো।
- কিছু গোনার ইচ্ছা হলে নিয়ামত গোনো — সেটাই একমাত্র গোনা যা মানুষকে বিনয়ী বানায়।