🗺️ আজকের অভিযান
পরদিন মাহদী সেই ভিড়ের জায়গাটায় আবার গেল।
লোকটা আজ নেই। কিন্তু কয়েকজন দাঁড়িয়ে সেই ভিডিওটা নিয়েই কথা বলছে।
একজন বলছেন, "আমি পঞ্চাশজনকে পাঠিয়ে দিয়েছি। মানুষকে সাবধান করা দরকার!"
তাঁর মুখে গর্ব।
মাহদী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি ফিরল।
রাতে সে দাদাকে জিজ্ঞেস করল, "দাদা, একজন মানুষ খারাপ কাজ করছে, কিন্তু ভাবছে সে ভালো কাজ করছে — এটা কি সম্ভব?"
দাদা বইটা নামিয়ে রাখলেন।
অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।
"দাদুভাই," তিনি শেষে বললেন, "তুমি আজ আমাকে এমন একটা প্রশ্ন করেছ যেটা নিয়ে আমি চল্লিশ বছর ভেবেছি।"
"উত্তর পেয়েছেন?"
"পেয়েছি। আর উত্তরটা ভয়ংকর।" দাদা চশমা খুললেন। "হ্যাঁ, সম্ভব। আর এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা।"
"কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক?"
"কারণ যে জানে সে ভুল করছে, সে একদিন ফিরে আসতে পারে।" দাদা বললেন। "কিন্তু যে ভাবে সে ঠিকই করছে — সে ফিরবে কেন?"
ঘরটা চুপ হয়ে গেল।
"তাহলে বাঁচব কীভাবে দাদা?"
দাদা অনেকক্ষণ ভাবলেন।
"তিনটে জিনিস, দাদুভাই। এক — নিয়মিত নিজেকে প্রশ্ন করা। দুই — এমন কাউকে পাশে রাখা যে তোমাকে সত্যি কথা বলবে। আর তিন —"
তিনি থামলেন।
"তিন?"
"তিন — দোয়া করা যেন আল্লাহ তোমাকে তোমার নিজের চোখে না ছেড়ে দেন।"
সেই রাতে গুহায় আলো ফিরে এসেছে।
হুদহুদ বলল, "কাল সে তোমাকে বাগান আর আগুন দেখিয়েছিল। আজ শোনো তার আসল অস্ত্রটা কী।"
"আসল অস্ত্র?"
"বাগান-আগুন তো চোখের খেলা। ওটা ধরা পড়ে যায়।" হুদহুদ বলল। "কিন্তু আসল অস্ত্র এমন, যা কেউ টেরই পায় না।"
সে আয়াতটা পড়ল:
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِٱلْأَخْسَرِينَ أَعْمَـٰلًا (কুল হাল নুনাব্বিউকুম বিল আখসারীনা আ'মালা — বলুন: আমরা কি তোমাদের জানাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের কথা?)
"ٱلْأَخْسَرِين," মাহদী বলল। "খুসর! সূরা আসর!"
"চব্বিশ সপ্তাহ পরে ফিরে এল," হুদহুদ বলল। "কিন্তু এবার সবচেয়ে বেশি।"
"তারা কারা?"
হুদহুদ পরের আয়াতটা পড়ল — আর প্রতিটা শব্দে থামল:
ٱلَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا (আল্লাযীনা দাল্লা সা'ইউহুম ফিল হায়াতিদ দুনইয়া — যাদের দৌড় দুনিয়ার জীবনে হারিয়ে গেছে)
"سَعْى!" মাহদী বলল। "সূরা লাইল! সবাই দৌড়াচ্ছে, কিন্তু কোন দিকে!"
"হ্যাঁ। আর এবার শেষ অংশটা শোনো, সেনাপতি।"
وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا (ওয়া হুম ইয়াহসাবূনা আন্নাহুম ইউহসিনূনা সুন'আ — অথচ তারা মনে করে তারা ভালোই করছে)
মাহদী স্তব্ধ হয়ে গেল।
"তারা... জানেও না?"
"জানে না।" হুদহুদের গলা শান্ত। "তারা ভাবে তারা ঠিক পথেই আছে। শেষ দিন পর্যন্ত ভাববে।"
মাহদীর গা শিরশির করে উঠল।
"হুদহুদ, এটা তো... এটা তো সবচেয়ে ভয়ংকর।"
"সবচেয়ে ভয়ংকর।" হুদহুদ মাথা নাড়ল। "কারণ যে জানে সে হারিয়ে গেছে, সে রাস্তা জিজ্ঞেস করে। আর যে ভাবে সে ঠিক পথেই আছে, সে জিজ্ঞেসই করে না।"
"আর এইখানেই দাজ্জালের আসল জয়, মাহদী। সে তোমাকে খারাপ বানাতে চায় না। সে চায় তুমি খারাপ হয়েও নিজেকে ভালো ভাবো।"
মাহদী কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
"তাহলে আমি কীভাবে জানব আমি ঠিক পথে আছি কি না?"
হুদহুদ ঘুরে দেয়ালের লেখাটার দিকে তাকাল।
"মনে আছে রাজমিস্ত্রি চাচার কথা?"
মাহদীর মনে পড়ল। ওলন দড়ি।
"তিনি কী বলেছিলেন?"
"বলেছিলেন — আমি দেয়াল দেখে বিচার করি না। আমি দড়ি দেখে বিচার করি। কারণ দড়িটা কখনো বদলায় না।"
হুদহুদ ডানা মেলল।
"নিজের মন দিয়ে নিজেকে মেপো না, সেনাপতি। নিজের মনটাই তো বাঁকা হয়ে যেতে পারে।"
"তাহলে কী দিয়ে মাপব?"
হুদহুদ দেয়ালের আয়াতগুলোর দিকে ডানা তুলল।
"এইটা দিয়ে। আর এটা কোনোদিন বাঁকা হয় না।" 📏