🗺️ আজকের অভিযান
মাদ্রাসায় আজ এক ছোট ছেলে মাহদীকে জিজ্ঞেস করল, "ভাইয়া, আল্লাহ কোথায় থাকেন?"
মাহদী মুখ খুলল। তারপর বন্ধ করল।
তার পাশে দাঁড়ানো আরেকটা ছেলে সাথে সাথে বলে দিল, "আকাশে!" আরেকজন বলল, "সব জায়গায়!" দুজনে তর্ক লাগিয়ে দিল।
মাহদী চুপ করে রইল। তারপর বলল, "আমি জানি না। হুজুরকে জিজ্ঞেস করি চলো।"
ছেলে দুটো হাসল। "তুই না এত জানিস!"
বাড়ি ফিরে মাহদীর খারাপ লাগছিল।
দাদা শুনে বললেন, "তারপর কী হলো?"
"হুজুর বললেন প্রশ্নটা খুব বড়, আর আলেমরা খুব সাবধানে উত্তর দেন। উনি আমাকে বললেন তুমি ঠিক কাজ করেছ।"
"তোমার এখনো খারাপ লাগছে কেন?"
"সবাই হেসেছিল, দাদা।"
দাদা বইটা বন্ধ করে রাখলেন।
"দাদুভাই, আমি চল্লিশ বছর অধ্যাপনা করেছি। শোনো — বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় বাক্যটা কী জানো?"
"কী?"
"আমরা জানি না।" দাদা হাসলেন। "প্রত্যেকটা আবিষ্কার শুরু হয়েছে কেউ সৎভাবে এই কথাটা বলেছিল বলে। যে দিন কেউ জানি না বলা বন্ধ করে দেয়, সেদিন সে শেখাও বন্ধ করে দেয়।"
"আর যারা হাসল?"
"তারা এমন একটা উত্তর দিয়েছে যেটা তারা নিজেরাও যাচাই করেনি।" দাদা চশমা মুছলেন। "হাসাটা সহজ, দাদুভাই। থামাটা কঠিন।"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে নিয়ে গেল এক বিশাল দরজার সামনে। আগের সব দরজার চেয়ে বড়।
উপরে লেখা: ٱلْبَقَرَة
"কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা," হুদহুদ বলল। "আজ আমরা শুধু এর প্রথম কয়েকটা আয়াত নেব।"
দরজায় খোদাই করা তিনটে হরফ:
الٓمٓ
"এটা কী?" মাহদী জিজ্ঞেস করল।
"পড়ো তো।"
"আ... আলম?"
"না।" হুদহুদ মাথা নাড়ল। "এগুলো শব্দ নয়, আলাদা আলাদা হরফ। পড়তে হয় নাম ধরে ধরে — আলিফ, লা——ম, মী——ম।"
মাহদী পড়ল। তারপর জিজ্ঞেস করল, "মানে কী?"
হুদহুদ চুপ করে রইল।
"হুদহুদ? মানে কী?"
"আমরা জানি না।"
মাহদী থমকে গেল। "কী?"
"আমরা জানি না, মাহদী। কুরআনে ২৯টা সূরা এমন হরফ দিয়ে শুরু হয়। সাহাবিরা নবীজিকে (সা.) কাছে পেয়েছিলেন, তবু আমাদের কাছে এমন কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা আসেনি।"
"আলেমরা অনেক মত দিয়েছেন। কিন্তু কেউ বলেননি এটাই চূড়ান্ত।"
মাহদী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, "তাহলে আল্লাহ এগুলো রাখলেন কেন?"
"এটাও আমরা নিশ্চিত জানি না।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "তবে একটা জিনিস খেয়াল করার মতো। কুরআনের একদম শুরুতেই আল্লাহ এমন কিছু রেখেছেন যা মানুষ বুঝতে পারে না।"
"কেন?"
"হয়তো এই কারণে — যাতে প্রথম পাতাতেই মানুষ শিখে নেয় যে সে সব জানে না। বই খুলেই একটা পাঠ: তুমি ছোট।"
মাহদীর দাদার কথাটা মনে পড়ল। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় বাক্যটা হলো — আমরা জানি না।
"হুদহুদ, আজ আমি একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। সবাই হেসেছিল।"
"তুমি কী বলেছিলে?"
"বলেছিলাম জানি না।"
হুদহুদ ঝুঁটি ফুলিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
"মাহদী, আজ তুমি কুরআনের দ্বিতীয় সূরার প্রথম আয়াতের পাঠটা মাদ্রাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আগেই শিখে ফেলেছ।"
তারপর সে দরজা ঠেলে খুলল।
ذَٰلِكَ ٱلْكِتَـٰبُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ (যালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফীহি হুদাল লিলমুত্তাকীন — এটা সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত)
মাহদী একটা শব্দে আটকে গেল।
"هُدًى।"
"হ্যাঁ," হুদহুদ বলল। "খালি, একা, কোনো লেজ ছাড়া। তোমার নামের মূল শব্দটা, একদম খাঁটি রূপে।"
"আর দেখো কী বলা হচ্ছে — কিতাবটা হেদায়েত কাদের জন্য?"
"মুত্তাকীদের জন্য।"
"তার মানে বইটা খুললেই হেদায়েত পাওয়া যায় না, মাহদী। যে নিতে চায়, সে পায়। সূর্য সবার উপরেই ওঠে — কিন্তু চোখ বন্ধ করে রাখলে অন্ধকারই থাকবে।"
তারপর তৃতীয় আয়াত: ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ (আল্লাযীনা ইউমিনূনা বিল গইব — যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে)।
"ٱلْغَيْب মানে কী?" মাহদী জিজ্ঞেস করল।
"অদৃশ্য। যা চোখে দেখা যায় না।"
হুদহুদের ঝুঁটিটা একবার কেঁপে উঠল।
"আর এই শব্দটা মনে রেখো, সেনাপতি। কারণ পরের দ্বীপটা পুরোটাই এই শব্দের।" 🚪