🗺️ আজকের অভিযান
ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী দাদার কলমটা বের করল। তারপর একটা নতুন খাতা খুলল।
প্রথম পাতায় সে লিখল — বড় বড় করে, যত্ন করে:
"আমি যা জানি না, তা কখনো জানি বলব না।"
নিচে তারিখ দিল।
তাসমিয়া উঁকি দিয়ে দেখল। "এটা কী?"
"একটা শর্ত।"
"কার সাথে?"
মাহদী কলমের ঢাকনাটা লাগাল। "দাদার সাথে। আর নিজের সাথে।" 🖋️
সেই রাতে ম্যাপের তৃতীয় দ্বীপটা পুরো সোনালি হয়ে জ্বলে উঠল! 🌙
হুদহুদ সোনালি তৃতীয় টুকরোটা ঢালে বসিয়ে দিল। খট।
"তিন টুকরো হলো। আরও তিনটা বাকি।"
তারপর সে মাহদীর সামনে এসে দাঁড়াল।
"এই দ্বীপে কী কী হলো, বলো তো?"
মাহদী গুনতে লাগল।
"এক — আমি জানলাম কেউ ভালো কাজ করলে অন্যের গায়ে জ্বালা ধরে কেন।"
"দুই — আমি ছায়াটার নাম জানলাম।"
"তিন — আমি জানলাম অস্ত্রটা সিজদা।"
"চার — সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা এখানে।" — সে নিজের বুক ছুঁলো।
"পাঁচ — চুপ করে থাকাও একটা কাজ।"
"ছয় — যে দেয়, তার রাস্তা সহজ হয়।"
"সাত — হেদায়েত দেওয়া আমার দায়িত্ব না। পৌঁছে দেওয়াটা আমার।"
"আট —" সে থামল।
"আট?" হুদহুদ মাথা কাত করল।
"আট — আমি সেনাপতি। কিন্তু আমি সেই মাহদী নই।"
হুদহুদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
"এই আটটার মধ্যে সবচেয়ে জরুরি কোনটা জানো?"
"কোনটা?"
"শেষেরটা।" হুদহুদ বলল। "কারণ প্রথম সাতটা তোমাকে শক্তি দেয়। আর শেষেরটা তোমাকে সেই শক্তি থেকে বাঁচায়।"
তারপর সে দূরে সমুদ্রের দিকে তাকাল।
কুয়াশার ভেতর একটা দ্বীপের রেখা — কিন্তু এই দ্বীপটা অন্যরকম। ঝাপসা। যেন আছেও, আবার নেই-ও।
"সামনে ঢালের দ্বীপ 🛡️," হুদহুদ বলল।
"ওটা এত ঝাপসা কেন?"
"কারণ ওখানে তুমি এমন জিনিস শিখবে যা চোখে দেখা যায় না।" হুদহুদ বলল। "জিন, ফেরেশতা, সাত আসমান। আর সেই আয়াতটা — যেটাকে নবীজি (সা.) কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত বলেছেন।"
"আয়াতুল কুরসি?"
"তুমি জানো!"
"দাদি রোজ রাতে পড়েন।"
হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "তাহলে এবার তুমি শিখবে কেন পড়েন।"
সে ডানা মেলল।
"আর একটা শব্দ মনে রেখো, সেনাপতি — ٱلْغَيْب। অদৃশ্য।"
"পরের দ্বীপে তুমি শিখবে — যা দেখা যায় না, তা-ও সত্যি হতে পারে।" 🛡️