🗺️ আজকের অভিযান
আজ মাহদীর দিনটা দারুণ গেছে। মাদ্রাসায় তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হয়েছে।
বাড়ি ফিরে সে সবাইকে বলেছে। দাদিকে বলেছে, নানিকে ফোন করে বলেছে, এমনকি দুধওয়ালা চাচাকেও বলেছে।
আর তাসমিয়াকে বলেছে তিনবার। শেষবার একটু বেশিই বলেছে — "তুমি তো এখনো আলিফ-বা-তা-ই ঠিকমতো পারো না।"
তাসমিয়া কিছু বলল না। শুধু ঘরে চলে গেল।
রাতে আব্বুর ভিডিও কল এল। তুরস্কের এরজুরুম শহর থেকে — পেছনে জানালার বাইরে বরফ পড়ছে।
"শুনলাম আমার ছেলে ফার্স্ট হয়েছে!" আব্বু মামুনুর রেজা হাসছেন। "মাশাআল্লাহ। তোমাকে একটা ইতিহাসের গল্প বলি?"
"বলুন আব্বু।"
"আমি এখন যে দেশে আছি, এখানকার এক তরুণ সুলতান ছিলেন — সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি কনস্টান্টিনোপল শহর জয় করেন। হাজার বছরে কেউ পারেনি, তিনি পারলেন।"
"তারপর কী করলেন? বিরাট উৎসব?"
"বলা হয়, তিনি শহরে ঢুকে ঘোড়া থেকে নেমে পড়লেন। তারপর মাটিতে সিজদা করলেন — একেবারে ধুলোয় কপাল ঠেকিয়ে।" আব্বু থামলেন। "সবচেয়ে বড় জয়ের দিনে তিনি সবার চেয়ে নিচু হয়ে গেলেন।"
মাহদী চুপ করে রইল। তাসমিয়ার বন্ধ দরজাটার দিকে তাকাল একবার।
সেই রাতে দ্বীপে দূরে ঢোলের আওয়াজ। দলে দলে মানুষ আসছে, হাসছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে।
"কী হয়েছে?" মাহদী অবাক।
"মক্কা বিজয়ের দিন," হুদহুদ বলল। "যে শহর থেকে নবীজিকে (সা.) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই শহর তাঁর পায়ের নিচে। যারা তাঁকে পাথর ছুঁড়েছিল, তারা সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপছে।"
"তিনি কী করলেন?" মাহদী রুদ্ধশ্বাসে জানতে চাইল।
"বললেন — যাও, তোমরা সবাই মুক্ত।"
"আর জানো, তিনি শহরে ঢুকেছিলেন কীভাবে? উটের পিঠে, মাথা এত নিচু করে যে দাড়ি প্রায় হাওদা ছুঁয়ে যাচ্ছিল।"
মাহদীর আব্বুর কথা মনে পড়ল। সবচেয়ে বড় জয়ের দিনে তিনি সবার চেয়ে নিচু হয়ে গেলেন।
"আর আল্লাহ পাঠালেন সূরা নাসর," হুদহুদ বলল। "খেয়াল করো, জিতে যাওয়ার পর আল্লাহ কী করতে বললেন। মিছিল? না। বললেন فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ (ফাসাব্বিহ বিহামদি রব্বিকা — তোমার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করো) আর وَٱسْتَغْفِرْهُ (ওয়াসতাগফিরহু — আর তাঁর কাছে ক্ষমা চাও)।"
"জিতে গিয়ে ক্ষমা?" মাহদী ভুরু কুঁচকাল।
"হ্যাঁ। কারণ জয়ের পরেই মানুষের মনে সবচেয়ে বড় বিপদটা ঢোকে — অহংকার। জেতার সময়ই সবচেয়ে সহজে মানুষ কাউকে ছোট করে ফেলে।"
মাহদী মাটির দিকে তাকাল। "হুদহুদ... আজ আমি একটা কাজ করেছি।"
"জানি," হুদহুদ নরম গলায় বলল। "কিন্তু দেখো, আল্লাহ সূরাটা শেষ করেছেন কী দিয়ে — إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابًۢا (ইন্নাহু কানা তাওয়্যাবা — নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী)। দরজাটা এখনো খোলা।"
"কাল সকালে তাসমিয়াকে কী বলবে, ভেবে রেখেছ?" 🕊️
📜 গল্প: যে সূরা বিদায়ের খবর নিয়ে এসেছিল
উমর (রা.) একবার বড় বড় সাহাবিদের এক মজলিসে ছোট্ট ইবনে আব্বাসকে (রা.) ডেকে বসালেন। বয়স্করা একটু অসন্তুষ্ট হলেন — এই বাচ্চা এখানে কেন?
উমর (রা.) সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, "إِذَا جَآءَ نَصْرُ ٱللَّهِ وَٱلْفَتْحُ — এই সূরার মানে কী?"
কেউ বললেন, "জয় এলে আল্লাহর প্রশংসা করতে বলা হয়েছে।" কেউ চুপ থাকলেন।
তখন উমর (রা.) ছোট্ট ইবনে আব্বাসের (রা.) দিকে ফিরলেন। "তুমি কী বলো?"
ছেলেটা বলল, "এটা নবীজির (সা.) বিদায়ের খবর। আল্লাহ যেন বলছেন — কাজ শেষ হয়ে এসেছে, এবার প্রস্তুত হও।"
উমর (রা.) বললেন, "আমিও ঠিক এটাই বুঝি।"
সত্যিই — এই সূরা নাযিল হওয়ার অল্প কিছুদিন পরেই নবীজি (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন।
তাই সূরাটা শুধু বিজয়ের গান নয়। এটা একটা কোমল কণ্ঠে বলা কথা: সবচেয়ে বড় জয়ের দিনেও মনে রেখো, ফিরে যেতে হবে। 🕊️
📚 সহীহ বুখারী ৪৯৭০
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? গল্পটা আরেকটা জিনিসও শেখায় — বয়স নয়, বোঝাটাই আসল। ছোট্ট একটা ছেলে বড়দের চেয়ে গভীরে দেখেছিল, কারণ সে ভেবেছিল।
🕌 কোথায় কাজে লাগাব
- কোনো কিছু জিতলে বা শেষ করলে — তাসবিহ আর ইসতিগফার পড়ো।
- কোনো কাজ শেষ হলে বলো: سُبْحَانَ ٱللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ ٱللَّهَ — নবীজি (সা.) এই সূরার পর এটাই বেশি বলতেন।
- নামাজে পড়ার জন্য সহজ তিন আয়াত।