🗺️ আজকের অভিযান
ফার্মে বিপদ। বীজ বাছাইয়ের যন্ত্রটা হঠাৎ থেমে গেছে — আর আজই দুই ট্রাক বীজ পাঠাতে হবে।
দুইজন মিস্ত্রি এসেছেন। এক ঘণ্টা ধরে খুলছেন, লাগাচ্ছেন, মাথা চুলকাচ্ছেন। কিছুতেই চলছে না।
আম্মু ঘড়ি দেখলেন। তারপর ফোন বের করে ভিডিও কল দিলেন।
তুরস্কে তখন সকাল। আব্বু স্ক্রিনে এলেন, চোখে ঘুম।
"যন্ত্রটা চলছে না," আম্মু বললেন, আর ক্যামেরাটা ঘুরিয়ে ধরলেন।
আব্বু কয়েক সেকেন্ড তাকালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, "শব্দটা কেমন হচ্ছিল থামার আগে? ঘড়ঘড়, না কিঁক?"
"কিঁক," মিস্ত্রি বললেন।
"পেছনের ঢাকনাটা খুলুন। ভেতরে ডান দিকে তিন নম্বর বিয়ারিং আছে। ওটা ঘুরিয়ে দেখুন — আটকে গেছে।"
মিস্ত্রি ঢাকনা খুললেন। তিন নম্বর বিয়ারিংটা সত্যিই জ্যাম।
দুই মিনিটে যন্ত্র চালু।
মিস্ত্রি হাঁ করে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। "স্যার, আপনি দেখলেন কীভাবে? আপনি তো হাজার হাজার মাইল দূরে!"
আব্বু হাসলেন। "আমি দেখিনি, ভাই। আমি যন্ত্রটা বানিয়েছি।"
ফোন রাখার পর আম্মু মাহদীর দিকে তাকালেন।
"কথাটা মাথায় রেখো, বাবা। যে বানায়, সে ভেতরটা জানে। বাইরে থেকে দেখতে হয় না।"
সেই রাতে জাহাজ থামল নতুন এক দ্বীপে — আর মাহদী মুখ হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল।
সোনার দরজা। সোনার সিঁড়ি। দূরে পাহাড়ের গায়ে একটা প্রাসাদ, এত উঁচু যে চূড়াটা মেঘের ভেতর।
"রাজত্বের দ্বীপ," হুদহুদ বলল। "চার সপ্তাহ থাকব।"
"এত সোনা!"
"হ্যাঁ। আর এই দ্বীপের পাঠটাও সোনার — এসব কার?"
তারা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল। মাহদী হঠাৎ খেয়াল করল হুদহুদ ফিসফিস করে কথা বলছে।
"তুমি আস্তে কথা বলছ কেন?"
"পরীক্ষা করছিলাম," হুদহুদ চোখ টিপল। "আজকের আয়াতটা ঠিক এই নিয়ে।"
وَأَسِرُّوا۟ قَوْلَكُمْ أَوِ ٱجْهَرُوا۟ بِهِۦ ۖ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ (ওয়া আসিররূ কাওলাকুম আওয়িজহারূ বিহি · ইন্নাহু আলীমুম বিযাতিস সুদূর — তোমরা কথা গোপনে বলো বা প্রকাশ্যে বলো, তিনি বুকের ভেতরের সবকিছু জানেন)
"দুইটা নতুন শব্দ," হুদহুদ বলল। "أَسِرُّوا۟ — গোপনে বলো, মূল سِرّ। আর ٱجْهَرُوا۟ — প্রকাশ্যে বলো, মূল جَهْر।"
মাহদী থমকে গেল। "সিররি নামাজ! জিহরি নামাজ!"
"একদম!" হুদহুদ ডানা ঝাপটাল। "তুমি নিজে থেকে ধরে ফেলেছ। যোহর-আসর সিররি, ফজর-মাগরিব-ইশা জিহরি।"
"আর ٱلصُّدُور?" সে যোগ করল।
মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল। "বুক! সূরা আদিয়াতে ছিল — مَا فِى ٱلصُّدُورِ!"
"শাবাশ।"
তারপর হুদহুদ থেমে গেল, আর পরের আয়াতটা পড়ল — খুব ধীরে।
أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ ٱللَّطِيفُ ٱلْخَبِيرُ (আলা ইয়া'লামু মান খালাক · ওয়া হুওয়াল লাতীফুল খাবীর — যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত)
মাহদী স্থির হয়ে গেল।
"হুদহুদ..." তার গলা কাঁপল। "আজ আম্মুর ফার্মে ঠিক এই কথাটা হয়েছে।"
সে পুরো ঘটনাটা বলল — যন্ত্র, মিস্ত্রি, আব্বুর ভিডিও কল, তিন নম্বর বিয়ারিং।
"আর আব্বু কী বলেছিলেন?"
"বলেছিলেন — আমি দেখিনি। আমি যন্ত্রটা বানিয়েছি।"
হুদহুদ অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
তারপর নরম গলায় বলল, "মাহদী, তোমার আব্বু আজ তোমাকে তাফসীর শিখিয়েছেন — নিজে না জেনেই।"
"আয়াতটা ঠিক এই প্রশ্নটাই করছে: أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ — যিনি বানিয়েছেন, তিনি জানবেন না?"
"আর দুইটা নাম দেখো — ٱللَّطِيف (আল-লাতীফ) মানে যিনি সবচেয়ে ছোট, সূক্ষ্ম জিনিসটাও জানেন। আর ٱلْخَبِير (আল-খাবীর) মানে যিনি ভেতরের খবর রাখেন।"
"خَبِير!" মাহদী চিনে ফেলল। "খবর! আর সূরা আদিয়াতের শেষ শব্দ!"
"হ্যাঁ, সেনাপতি।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল।
"তাহলে ভাবো — তোমার মাথার ভেতর যে ফিসফিসানিটা এখন চলছে, সেটা কে বানিয়েছেন?" 🔧