🗺️ আজকের অভিযান
মাদ্রাসায় আজ হুজুর সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, "বড় হয়ে কে কী হতে চাও?"
হাত উঠতে লাগল।
"ডাক্তার!" — "ইঞ্জিনিয়ার!" — "ক্রিকেটার!" — "হাফেজ!" — "আমি বিদেশ যাব!" — "আমি আব্বুর দোকান দেখব!"
হুজুর মাহদীর দিকে তাকালেন। "তুমি?"
মাহদী হাত তুলল না। কারণ সে সত্যিই জানে না।
রাতে আব্বুর ভিডিও কল। মাহদী প্রশ্নটা করল। "আব্বু, আমি জানি না আমি কী হব। এটা কি খারাপ?"
আব্বু হাসলেন। "তুমি জানো তোমার আম্মু ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন?"
"কী?"
"শিক্ষক। আর হলেন ব্যবসায়ী।" আব্বু কাঁধ ঝাঁকালেন। "আর আমি হতে চেয়েছিলাম ডাক্তার। হলাম কৃষিবিজ্ঞানী।"
"তাহলে ঠিক করে কী লাভ?"
"লাভ আছে — কিন্তু প্রশ্নটা একটু বদলাতে হবে।" আব্বু সামনে ঝুঁকলেন। "আমি কী হব — এটা আসল প্রশ্ন না, মাহদী। আসল প্রশ্ন হলো — আমি কোন দিকে দৌড়াচ্ছি?"
"পার্থক্যটা কী?"
"দেখো, আমি কৃষিবিজ্ঞানী হয়েছি। কিন্তু আমি চাইলে একই জ্ঞান দিয়ে কৃষককে ঠকাতেও পারতাম — ভেজাল বীজ বেচে। পেশাটা এক, দিকটা আলাদা।"
"তাহলে ডাক্তার হওয়া আর হাফেজ হওয়া..."
"...দুটোই ভালো, যদি দিকটা ঠিক থাকে। আর দুটোই কাজে আসবে না, যদি দিকটা ভুল হয়।"
আব্বু ঘড়ি দেখলেন। "একটা কথা মনে রেখো। সবাই দৌড়াচ্ছে, মাহদী। কেউ থেমে নেই। তুমি শুধু ঠিক করো তোমার দৌড়টা কার জন্য।"
সেই রাতে দ্বীপে নতুন এক সূরার গেট। উপরে লেখা ٱلَّيْل — রাত।
"সূরা লাইল," হুদহুদ বলল। "আর শুরুটা তোমার চেনা লাগবে।"
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ · وَٱلنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ (ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা · ওয়ান নাহারি ইযা তাজাল্লা — শপথ রাতের যখন সে আচ্ছন্ন করে, আর দিনের যখন সে উদ্ভাসিত হয়)
"এই তো!" মাহদী চেঁচিয়ে উঠল। "সূরা শামসেও ছিল! يَغْشَىٰ আর جَلَّىٰ — ঢাকা আর প্রকাশ!"
"বাহ্!" হুদহুদ ডানা ঝাপটাল। "শুধু এবার ক্রমটা উল্টো — সূরা শামসে দিন আগে, রাত পরে। এখানে রাত আগে, দিন পরে।"
"কেন?"
"কারণ সূরা শামসের বিষয় ছিল সূর্য — সেখানে আলো প্রধান। আর এই সূরার বিষয় হলো রাত — যেখানে মানুষ চুপচাপ, একা, নিজের হিসাব নিয়ে বসে।"
তারপর তৃতীয় শপথ: وَمَا خَلَقَ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰ (ওয়া মা খালাকায যাকারা ওয়াল উনসা — শপথ তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন)।
"তিনটে শপথ। রাত-দিন, নর-নারী — সব জোড়ায় জোড়ায়," হুদহুদ বলল। "আল্লাহ তোমাকে তৈরি করছেন এমন একটা কথার জন্য যেটাও জোড়ায়।"
আর তারপর আসল আয়াত:
إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ (ইন্না সা'ইয়াকুম লাশাত্তা — নিশ্চয়ই তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন রকম)
"سَعْى মানে দৌড়, চেষ্টা। আর شَتَّىٰ মানে ছড়ানো-ছিটানো, বিভিন্ন দিকে।"
হুদহুদ ডানা মেলে দূরে দেখাল। মাহদী দেখল — হাজার হাজার মানুষ, সবাই দৌড়াচ্ছে। কিন্তু কেউ একই দিকে যাচ্ছে না। কেউ পূর্বে, কেউ পশ্চিমে, কেউ গোল হয়ে ঘুরছে।
মাহদীর আব্বুর কথা মনে পড়ল। সবাই দৌড়াচ্ছে। কেউ থেমে নেই।
"হুদহুদ, আজ হুজুর জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি বড় হয়ে কী হব। আমি জানি না।"
"সমস্যা নেই," হুদহুদ বলল। "আয়াতটা জিজ্ঞেস করছে না তুমি কী হবে। আয়াতটা জিজ্ঞেস করছে তোমার দৌড়টা কোন দিকে।"
"তাহলে কয়টা দিক আছে?"
"হাজারটা মনে হয়," হুদহুদ বলল। "কিন্তু আল্লাহ পরের আয়াতেই সবগুলোকে দুইটায় নামিয়ে আনবেন।"
সে প্রথমটা পড়ল:
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَٱتَّقَىٰ (ফা আম্মা মান আ'তা ওয়াত্তাকা — অতঃপর যে দান করল আর তাকওয়া অবলম্বন করল)
"أَعْطَىٰ — সে দিল।" হুদহুদ থামল। "খেয়াল করেছ? প্রথম দলের প্রথম পরিচয়ই হলো — তারা দেয়।"
"কী দেয়?"
"যা আছে। টাকা, সময়, খাবার, একটা হাসি, একটা ভালো কথা।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "মনে আছে সূরা কাওসারে আল্লাহ নবীজিকে (সা.) কী বলেছিলেন? إِنَّآ أَعْطَيْنَـٰكَ — আমরা তোমাকে দিয়েছি। একই শব্দ!"
"তার মানে..."
"তার মানে যে দেয়, সে আল্লাহর কাজটাই করছে। ছোট আকারে।" 🏃