🗺️ আজকের অভিযান
শুক্রবার বিকেল। মাহদী দাদার কলম দিয়ে খাতায় হিসাব করছে।
খাতার নাম সে দিয়েছে শব্দের ঝুড়ি। এক পাশে আরবি, এক পাশে বাংলা।
সে গুনল। একশো সাতষট্টি।
তাসমিয়া উঁকি দিল। "এতগুলো শব্দ তুমি জানো?!"
"পরীক্ষা কর।"
তাসমিয়া চোখ বন্ধ করে আঙুল রাখল এক জায়গায়। "এটা?"
"رَبّ (রব — প্রতিপালক)। মোনাজাতে বলি ইয়া রব।"
"এটা?"
"ٱلْحَمْد (আল-হামদ — সব প্রশংসা)। আলহামদুলিল্লাহ। আর এখান থেকেই মুহাম্মাদ, আহমাদ নাম এসেছে।"
"এটা?"
"نَار (নার — আগুন)।" মাহদী হাসল। "সহজ দিলি।"
তাসমিয়া ভুরু কুঁচকে খাতার শেষ পাতায় গেল। "তাহলে এইটা?"
"شِهَاب (শিহাব — জ্বলন্ত শিখা)। কাল রাতে শিখেছি।"
তাসমিয়া খাতাটা বন্ধ করে দিল। "আমারও একটা ঝুড়ি চাই।"
মাহদী নতুন একটা খাতা বের করে দিল। প্রথম পাতায় লিখে দিল তিনটে শব্দ:
أَحَد (আহাদ — এক) · نُور (নূর — আলো) · مَاء (মা — পানি)
"রোজ তিনটে করে," সে বলল। "এক বছরে হাজারের বেশি হবে।"
সেই রাতে হুদহুদ ঝুঁটি নেড়ে বলল, "শুনলাম তোমার নাকি একটা ঝুড়ি হয়েছে?"
মাহদী লজ্জা পেল। "তুমি জানলে কীভাবে?"
"আমি চিঠি বয়ে বেড়াই, মনে নেই?" হুদহুদ চোখ টিপল। "তাহলে আজ শব্দ-পরীক্ষা। দাঁড়াও।"
সে দ্রুত বলতে লাগল, আর মাহদীকে সাথে সাথে উত্তর দিতে হলো:
"سَمَآء?" — "সামা, আকাশ। বাংলায় আসমান!"
"أَرْض?" — "আরদ, জমিন।"
"كَذَّاب?" — মাহদীর গলা এক মুহূর্ত থামল। "কাযযাব। মহা মিথ্যুক।"
"ءَالَآء?" — "আলা, নিয়ামতসমূহ।"
"فَلَاح?" — "ফালাহ, সফলতা। আজানে বলে হাইয়া আলাল ফালাহ।"
হুদহুদ ডানা ঝাপটে লাফাল। "পাঁচে পাঁচ! সেনাপতির ঝুড়ি ভরে উঠছে!"
তারপর সে আকাশের দিকে ডানা তুলল। "এবার আজকের নতুন শব্দ। উপরে তাকাও।"
মাহদী তাকাল — আর দম বন্ধ হয়ে গেল।
আকাশটা ফেটে যাচ্ছে। ফাটলের ভেতর দিয়ে লাল আলো ছড়িয়ে পড়ছে, আর গোটা আসমানটা রঙ বদলে হয়ে যাচ্ছে গাঢ় লাল — গলানো ধাতুর মতো, আবার গোলাপের মতোও।
فَإِذَا ٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَٱلدِّهَانِ (ফাইযানশাক্কাতিস সামাউ ফাকানাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহান — যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে, সেদিন তা হবে রক্তিম গোলাপের মতো, গলিত তেলের মতো)
"তিনটে নতুন শব্দ," হুদহুদ বলল। "ঝুড়িতে ঢোকাও।"
"এক — ٱنشَقَّتْ (ইনশাক্কাত — ফেটে গেল, চিরে গেল)। এখান থেকেই شَقّ (শাক্ক — ফাটল)।"
"দুই — وَرْدَة (ওয়ারদাহ — গোলাপ)।"
"তিন — دِهَان (দিহান — গলানো তেল বা গলিত ধাতু)।"
মাহদী আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।
"হুদহুদ, আল্লাহ কিয়ামতের আকাশকে গোলাপের সাথে তুলনা করলেন? এত ভয়ংকর দিনে?"
হুদহুদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
"তুমি খুব ভালো প্রশ্ন করেছ, সেনাপতি।"
"কুরআনে সবচেয়ে কঠিন দৃশ্যগুলোতেও আল্লাহ সুন্দর উপমা ব্যবহার করেন। মনে আছে? পাহাড় হবে ধুনা রঙিন পশমের মতো। মানুষ হবে ছড়ানো পতঙ্গের মতো। আর আজ আকাশ হবে গোলাপের মতো।"
"কেন?"
"কারণ ভয়টা যেন অন্ধ না করে দেয়। আল্লাহ চান তুমি ভাবো, ছবিটা দেখো, বোঝো — শুধু কাঁপতে থাকো না।"
তারপর হুদহুদ সেই লাইনটা পড়ল, যা এই সূরায় ফিরে ফিরে আসে:
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ (ফাবিআয়্যি আলাই রব্বিকুমা তুকায্যিবান — তোমরা দুইজন তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?)
"এই লাইনটা তুমি আজ পুরোপুরি মুখস্থ করবে, মাহদী।"
"কেন এত জোর দিচ্ছ?"
হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "কারণ এই একটা লাইন মুখস্থ করলে তোমার একত্রিশটা আয়াত পাকা হয়ে যাবে। এত সস্তায় এত লাভ কুরআনে আর কোথাও নেই!" 🌹