🗺️ আজকের অভিযান
বৃষ্টির পর রাস্তা কাদা কাদা। মাহদী স্যান্ডেল হাতে নিয়ে খালি পায়ে হাঁটছিল — হঠাৎ আউচ!
পায়ের নিচে কাচের টুকরো। কেউ ভাঙা বোতল রাস্তায় ফেলে গেছে।
বাড়ি ফিরে দাদি সুফিয়া খানম পা ধুয়ে ওষুধ লাগিয়ে দিলেন। মাহদী রেগে বলল, "যে ফেলেছে তার শাস্তি হওয়া উচিত!"
"হুম," দাদি ব্যান্ডেজ বাঁধতে বাঁধতে বললেন। "আর যে সরায়, তার কী হয় জানো?"
"কী হয়?"
"নবীজি (সা.) বলেছেন, ঈমানের অনেকগুলো শাখা আছে। সবচেয়ে উপরেরটা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আর সবচেয়ে নিচেরটা — রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা।"
মাহদী অবাক। "কাচ সরানোও ঈমানের অংশ?"
"সবচেয়ে ছোট অংশ। কিন্তু তালিকার ভেতরেই।" দাদি হাসলেন। "মানুষ দুই দলে ভাগ হয়ে যায়, দাদুভাই — যারা রাস্তায় কাঁটা ফেলে, আর যারা কাঁটা তোলে।"
সেই রাতে গ্রামের কোণে মাহদী দেখল একটা ভাঙা ঘর, দরজায় শুকনো কাঁটাগাছ।
"এখানে থাকত এক লোক," হুদহুদ বলল। "নবীজির (সা.) আপন চাচা। নাম আবু লাহাব — মানে আগুনের বাবা। নামটা পেয়েছিল কারণ তার মুখ ছিল আগুনের মতো লাল-সুন্দর।"
"চাচা? তাহলে তো সাহায্য করার কথা!"
"করেনি। উল্টো নবীজি (সা.) যেখানেই দাওয়াত দিতে যেতেন, সে পিছু পিছু গিয়ে চেঁচাত — ওর কথা শুনো না, ও মিথ্যুক!"
"আর তার স্ত্রী?" হুদহুদ কাঁটাগাছটার দিকে ডানা তুলল। "সে রাতে নবীজির (সা.) পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত।"
মাহদী নিজের ব্যান্ডেজ বাঁধা পায়ের দিকে তাকাল। দাদির কথাটা কানে বাজল — মানুষ দুই দলে ভাগ হয়ে যায়।
"তাই আল্লাহ পাঠালেন সূরা মাসাদ — تَبَّتْ يَدَآ أَبِى لَهَبٍ (তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাব — ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত)।"
"হাত কেন? সে তো মুখ দিয়ে খারাপ কথা বলত!"
"চমৎকার প্রশ্ন!" হুদহুদ খুশি হলো। "আরবিতে হাত মানে অনেক সময় যা তুমি করো — তোমার কাজ, তোমার কামাই। আর দেখো পরের আয়াতেই আছে مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ (মা আগনা আনহু মালুহু ওয়া মা কাসাব — তার সম্পদ আর তার উপার্জন তার কোনো কাজে আসেনি)। সে ছিল মক্কার ধনী লোক। টাকাটা একটুও কাজে লাগল না।"
হুদহুদ তারপর গলা নামাল। "আর সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপারটা এখনো বলিনি। এই সূরা নাযিল হওয়ার পরেও আবু লাহাব প্রায় দশ বছর বেঁচে ছিল।"
"তো?"
"ভাবো একবার! সে তো চাইলেই লোক জড়ো করে বলতে পারত — দেখো, আমি আজ কালিমা পড়ে ফেললাম! তোমাদের কুরআন মিথ্যা প্রমাণ হয়ে গেল! মিথ্যা করেও তো বলতে পারত।"
"বলেনি?"
"একবারও না। পারেনি।" হুদহুদ চুপ করল। "দশ বছর ধরে সুযোগটা তার হাতেই ছিল।"
তারপর সে মাহদীর দিকে ফিরল, আর গলাটা নরম হয়ে এল। "কিন্তু সূরাটা শুধু একজন লোকের গল্প নয়, মাহদী। এটা একটা প্রশ্ন — তুমি কোন দলে? যারা পথে কাঁটা ফেলে, না যারা তোলে?"
"কাল সকালে ওই কাচের টুকরোগুলো কে সরাবে বলো তো?" 🔥
📜 গল্প: দশ বছরের খোলা চ্যালেঞ্জ
নবীজি (সা.) একদিন সাফা পাহাড়ে উঠে মক্কার সবাইকে ডাকলেন। সবাই জড়ো হলো। তিনি বললেন, "আমি যদি বলি এই পাহাড়ের পেছনে একটা বাহিনী লুকিয়ে আছে — তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে?"
সবাই বলল, "অবশ্যই! তুমি তো কখনো মিথ্যা বলোনি।"
তখন তিনি আল্লাহর বার্তা দিতে শুরু করলেন। আর ভিড়ের ভেতর থেকে চেঁচিয়ে উঠল তাঁরই আপন চাচা — আবু লাহাব: "তোর সর্বনাশ হোক! এই কথা বলার জন্য আমাদের ডেকেছিস?"
তার স্ত্রীও পিছিয়ে ছিল না — রাতের অন্ধকারে সে নবীজির (সা.) চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত।
তখন আল্লাহ এই সূরাটা নাযিল করলেন। আর এখানেই সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপারটা।
সূরায় লেখা হয়ে গেল — আবু লাহাব জাহান্নামে যাবে। অর্থাৎ সে কোনোদিন ঈমান আনবে না।
কিন্তু সূরাটা নাযিল হওয়ার পরেও সে প্রায় দশ বছর বেঁচে ছিল। এই দশ বছর তার হাতে একটা সহজ অস্ত্র ছিল — সে শুধু লোক জড়ো করে মিথ্যা করেও যদি বলত "আমি মুসলিম হয়ে গেলাম", তাহলেই কুরআনের একটা কথা মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যেত।
সে বলেনি। একবারও না। 🔥
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সূরাটা কুরআনের একটা খোলা চ্যালেঞ্জ — চৌদ্দশো বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আর একই সাথে এটা শেখায়: নবীজির (সা.) আত্মীয় হয়েও কেউ বাঁচেনি। বংশ নয়, কাজই আসল।
🕌 কোথায় কাজে লাগাব
- রাগ হলে মনে করো — আবু লাহাবের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল তার নিজের রাগ।
- রাস্তা থেকে কাঁটা, কাচ বা কলার খোসা সরিয়ে ফেলো — এটা ঈমানেরই একটা শাখা।
- নামাজে পড়ার সময় ভাবো: আমার হাত দুটো আজ কী করল?