🗺️ আজকের অভিযান
আব্বুর ভিডিও কলে আজ পেছনে একটা বড় স্ক্রিন — রকেট উৎক্ষেপণের ভিডিও চলছে।
"আব্বু, ওটা কী?"
"আজ ক্লাসে দেখাচ্ছিলাম।" আব্বু ক্যামেরাটা ঘোরালেন। "মাহদী, তুমি জানো মুসলিমরা এক সময় আকাশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করত?"
"সত্যি?"
"সত্যি। উলুগ বেগ নামে একজন ছিলেন — সমরকন্দে। তিনি একটা বিরাট মানমন্দির বানিয়েছিলেন, আর হাজারখানেক তারার অবস্থান মেপে রেখে গিয়েছিলেন। প্রায় ছয়শো বছর আগে।"
"কতটা নিখুঁত?"
"এত নিখুঁত যে পরে টেলিস্কোপ দিয়ে মেপেও দেখা গেল তাঁর হিসাব প্রায় মিলে যায়। আর তাঁর কাছে টেলিস্কোপ ছিল না।"
মাহদী স্ক্রিনের রকেটটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"আব্বু, একটা কথা জিজ্ঞেস করি? আমাদের হুজুরের এক আত্মীয় বলছিলেন — কুরআনে নাকি রকেটের কথা আছে। সূরা আর-রহমানে। মানুষ আকাশ পেরিয়ে যাবে।"
আব্বু চুপ করে রইলেন কিছুক্ষণ।
"তোমার দাদা তোমাকে তিন ভাগে ভাবতে শিখিয়েছেন, না?"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে চলো তিন ভাগে ভাবি।"
"এক — আয়াত যা বলেছে। আল্লাহ জিন আর মানুষকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন: পারলে আসমান-জমিনের সীমানা পেরিয়ে যাও। পারবে না, সুলতান ছাড়া।"
"দুই — আজ যা হয়েছে। মানুষ রকেট বানিয়েছে, চাঁদে গেছে, মহাকাশে স্টেশন বানিয়েছে। সত্যি কথা।"
"তিন — যেখানে থামতে হবে।" আব্বু সামনে ঝুঁকলেন। "শব্দটা হলো سُلْطَان। আলেমরা এর মানে নিয়ে একমত নন — কেউ বলেন ক্ষমতা, কেউ বলেন প্রমাণ, কেউ বলেন আল্লাহর অনুমতি।"
"আর আয়াতটার আগে-পরে কী নিয়ে কথা হচ্ছে? কিয়ামতের দিন পালানোর চেষ্টা। রকেট নিয়ে নয়।"
"তাহলে ওই আত্মীয় ভুল বলেছেন?"
"উনি বাড়িয়ে বলেছেন," আব্বু সাবধানে বললেন। "আর বাড়িয়ে বলার বিপদটা কী জানো? একদিন তুমি বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, আর কেউ তোমাকে প্রশ্ন করবে। তখন যদি উত্তর দিতে না পারো, তোমার মনে হবে গোটা জিনিসটাই বুঝি মিথ্যা।"
"আর সেটা শুরু হয়েছিল কারো একটা বাড়িয়ে বলা কথা দিয়ে।"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে নিয়ে গেল দ্বীপের একদম কিনারায়। সামনে শুধু আকাশ আর শূন্যতা।
"নতুন সূরা," সে বলল। "নাম আর-রহমান। আর এই সূরার একটা লাইন ৩১ বার ফিরে আসে।"
তারপর সে আজকের আয়াতটা পড়ল:
يَـٰمَعْشَرَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ إِنِ ٱسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا۟ مِنْ أَقْطَارِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ فَٱنفُذُوا۟ ۚ لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَـٰنٍ (ইয়া মা'শারাল জিন্নি ওয়াল ইনসি ইনিসতাতা'তুম আন তানফুযূ মিন আকতারিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ফানফুযূ · লা তানফুযূনা ইল্লা বিসুলতান — হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! আসমান ও যমীনের সীমানা যদি অতিক্রম করতে পারো, করো। কিন্তু পারবে না সনদ ছাড়া)
"এটা কি চ্যালেঞ্জ?" মাহদী জিজ্ঞেস করল।
"চ্যালেঞ্জ।" হুদহুদ বলল। "আর খেয়াল করো — جِنّ আর إِنس, দুই জাতিকে একসাথে ডাকা হচ্ছে।"
"এইজন্যই কি পরের লাইনে সব শব্দ দুইজনের রূপে?"
হুদহুদ ডানা ঝাপটে লাফিয়ে উঠল। "মাহদী! তুমি ব্যাকরণটা নিজে থেকে ধরে ফেলেছ!"
তারপর সে সেই বিখ্যাত লাইনটা পড়ল:
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ (ফাবিআয়্যি আলাই রব্বিকুমা তুকায্যিবান — তোমরা দুইজন তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?)
মাহদী শব্দটায় আটকে গেল।
"تُكَذِّبَانِ।"
"হ্যাঁ," হুদহুদ শান্তভাবে বলল। "সেই পরিবার। ك ذ ب।"
"এই সূরায় লাইনটা কতবার আসে বললে?"
"একত্রিশ বার।"
মাহদী চুপ করে রইল।
"একত্রিশ বার আল্লাহ একই প্রশ্ন করছেন," হুদহুদ বলল। "কোন নিয়ামতটা তুমি মিথ্যা বলবে? আর প্রতিবার উত্তরটা একটাই — কোনোটাই না।"
"হুদহুদ, আজ আব্বু বলেছেন এই আয়াতটা রকেটের কথা নয়।"
"তোমার আব্বু ঠিক বলেছেন।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "কিন্তু একটা জিনিস ভেবে দেখো, সেনাপতি।"
"কী?"
"আয়াতটা বলছে لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَـٰنٍ — পারবে না, সুলতান ছাড়া। এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ চাঁদে গেল কী দিয়ে?"
মাহদী ভাবল। "রকেট দিয়ে।"
"আর রকেট বানাল কী দিয়ে?"
"...জ্ঞান দিয়ে।"
"আর জ্ঞানটা কে দিয়েছেন?"
মাহদী মাথা তুলল।
"এইটুকুই বোলো, মাহদী," হুদহুদ বলল। "কুরআন রকেটের কথা বলেছে — বোলো না। কিন্তু মানুষ নিজের ক্ষমতায় এক ইঞ্চিও উপরে ওঠেনি, এটা বোলো। যা কিছু সে পেয়েছে, দেওয়া হয়েছে।"
"এইটুকু সত্যি, আর এইটুকুই যথেষ্ট।" 🚀