🗺️ আজকের অভিযান
পরদিন সকালে মাহদী মাদ্রাসায় গেল — আর ওই দুই ছেলেকে দেখেও কিছু বলল না।
সে শুধু সালাম দিল, তারপর নিজের জায়গায় গিয়ে বসল।
টিফিনের সময় রায়হান এসে পাশে বসল। "কাল ওরা তোকে নিয়ে হেসেছে, শুনেছি।"
"হুম।"
"আজ কিছু বললি না কেন?"
মাহদী কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, "দাদা বলেছেন যে মানুষ কারো ভালো চেয়ে কষ্ট পায়, সে ভালো একটা দলে আছে।"
রায়হান কিছুক্ষণ ভাবল।
তারপর বলল, "আমিও ওই দলে আছি।"
"তুই?"
"আমার বড় ভাই নামাজ পড়ে না। আমি বললেই রাগ করে।" রায়হান টিফিন বাক্সটা খুলল। "গত সপ্তাহে বলেছিলাম, তিন দিন কথা বলেনি।"
মাহদী তার দিকে তাকিয়ে রইল।
সে জানতই না রায়হানের এই কষ্টটা আছে।
"তাহলে আমরা দুইজন," সে বলল।
রায়হান হাসল। "দুইজন।"
বিকেলে তারা বারান্দায় বসল, সবসময়ের মতো।
কিন্তু আজ কেউ পড়া শুরু করার আগে মাহদী বলল, "একটা নতুন জিনিস করি? পড়ার আগে দোয়া?"
"কী দোয়া?"
"জানি না এখনো। আজ রাতে শিখে কাল বলব।"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে গুহার আরও গভীরে নিয়ে গেল।
এখানে দেয়ালের লেখা বদলে গেছে। আর মেঝেতে... পায়ের ছাপ। কয়েক জোড়া। ছোট ছোট।
মাহদী থমকে দাঁড়াল।
"এগুলো কার?"
"আজকের আয়াত পড়ি, তাহলেই জানবে।"
أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَـٰبَ ٱلْكَهْفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُوا۟ مِنْ ءَايَـٰتِنَا عَجَبًا (আম হাসিবতা আন্না আসহাবাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কানূ মিন আয়াতিনা আজাবা — তুমি কি মনে করো গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা আমাদের নিদর্শনগুলোর মধ্যে বিস্ময়কর কিছু?)
"عَجَبًا!" মাহদী বলল। "সূরা জিন! قُرْءَانًا عَجَبًا — বিস্ময়কর কুরআন!"
"একই শব্দ।" হুদহুদ বলল। "আর খেয়াল করো আল্লাহ কী বলছেন — তুমি কি ভাবো এটা এমন কিছু বিস্ময়কর?"
"মানে?"
"মানে — আসমান-জমিন, রাত-দিন, তোমার নিজের নিঃশ্বাস — এগুলোর তুলনায় গুহার ঘটনাটা তেমন বড় কিছু নয়। আমরা রোজকার নিদর্শনগুলো দেখি না, আর অদ্ভুত ঘটনা শুনলে অবাক হই।"
তারপর হুদহুদ ধীরে ধীরে পায়ের ছাপগুলোর দিকে ডানা তুলল।
إِذْ أَوَى ٱلْفِتْيَةُ إِلَى ٱلْكَهْفِ (ইয আওয়াল ফিতইয়াতু ইলাল কাহফ — যখন তরুণেরা গুহায় আশ্রয় নিল)
"ٱلْفِتْيَة," হুদহুদ বলল। "মানে তরুণ। যুবক। অল্পবয়সী।"
মাহদী পায়ের ছাপগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। ছোট ছোট।
"তারা কত বড় ছিল?"
"কুরআন সংখ্যা বলেনি। কিন্তু শব্দটা বলেছে — فِتْيَة, তরুণ। আল্লাহ তাদের পুরুষ বলেননি।"
"তারা কী করেছিল?"
হুদহুদ ঘুরে দাঁড়াল।
"তাদের গোটা শহর মূর্তিপূজা করত। রাজা, পরিবার, বন্ধু — সবাই।"
"আর এই কয়েকটা ছেলে বলল — না।"
মাহদী নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনছিল।
"তারা একা ছিল, মাহদী। সম্পূর্ণ একা। কেউ তাদের পক্ষে দাঁড়ায়নি। শহর ছেড়ে পালাতে হলো। আর তারা এই গুহায় এসে লুকাল।"
"তারপর?"
"তারপর তারা একটা দোয়া করল।" হুদহুদ বলল। "আর সেই দোয়াটা আজ তোমার।"
رَبَّنَآ ءَاتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا (রব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রহমাতাও ওয়া হায়্য়ি লানা মিন আমরিনা রশাদা — হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দিন, আর আমাদের কাজে সঠিক পথ সহজ করে দিন)
মাহদী শব্দগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।
"رَشَدًا," সে আস্তে বলল। "সূরা জিনে ছিল — يَهْدِىٓ إِلَى ٱلرُّشْدِ।"
"আর رَحْمَة?"
"রহমত। মরহুম। রাহমান।"
"আর هَيِّئْ মানে সহজ করে দিন, ব্যবস্থা করে দিন।"
হুদহুদ পায়ের ছাপগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
"সেনাপতি, খেয়াল করো তারা কী চায়নি।"
"কী চায়নি?"
"তারা চায়নি শত্রুদের ধ্বংস করে দিন। চায়নি আমাদের রাজা বানিয়ে দিন। চায়নি সবাইকে বুঝিয়ে দিন যে আমরা ঠিক।"
"তারা মাত্র দুইটা জিনিস চেয়েছিল — রহমত, আর সঠিক পথ।"
মাহদী অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
"হুদহুদ, আজ রায়হান বলল ওর ভাই নামাজ পড়ে না। ও বললেই রাগ করে।"
"আর তুমি কী বললে?"
"বললাম আমরা দুইজন।"
হুদহুদ ডানা মেলল।
"তাহলে কাল বারান্দায় বসে এই দোয়াটা পড়ো, মাহদী। দুইজনে।"
"কারণ এই দোয়াটা এমন ছেলেদের, যারা তোমাদের মতোই একা বোধ করেছিল।"
সে গুহার আরও গভীরে তাকাল — যেখানে অন্ধকার ঘন।
"আর একটা কথা। এই ছেলেগুলো ভয় পেয়েছিল, পালিয়েছিল, লুকিয়েছিল।"
"আর আল্লাহ তাদের নাম কুরআনে লিখে দিয়েছেন।" 🕳️