🗺️ আজকের অভিযান
ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী উঠানের কোণে গেল — যেখানে সেই মাটির টবটা রাখা।
সে ঝুঁকে দেখল।
তারপর দৌড়ে ঘরে ঢুকে চেঁচিয়ে উঠল, "তাসমিয়া! উঠেছে!"
দুজনে দৌড়ে গিয়ে বসল টবের সামনে।
শুকনো মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে একটা সবুজ ডগা — এত ছোট যে ভালো করে না তাকালে দেখাই যায় না।
মাহদী খাতা এনে তারিখ লিখল। তারপর নিচে লিখল আয়াতটা:
"এটার মানে বলেছিলে," তাসমিয়া বলল। "যেটা মরে গেছে, সেটা আবার উঠে দাঁড়াবে।"
"হ্যাঁ।"
তাসমিয়া ডগাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"ভাইয়া, তাহলে করিম চাচাও উঠে দাঁড়াবেন?"
মাহদী বোনের দিকে তাকাল। তারপর মাটির ডগাটার দিকে।
"হ্যাঁ," সে বলল। "উঠে দাঁড়াবেন।" 🌱
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। রাজত্বের দ্বীপের দ্বিতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে।
"এই সপ্তাহের হিসাব দাও, সেনাপতি।"
মাহদী গুনতে লাগল।
"এক — রিজিক যাঁর হাতে, তিনি ধরে রাখতেও পারেন। তাই মাথা তুলে হাঁটতে হয়।"
"দুই — কান, চোখ, অন্তর। আর কান সবসময় আগে।"
"তিন — কিয়ামত কবে, নবীজিও (সা.) জানতেন না।"
"চার — আমরা কারো ব্যাপারে রায় দিই না। আমরা বলি মরহুম।"
হুদহুদ মাথা কাত করল। "এই চারটার মধ্যে মিল কী?"
মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল।
"চারটেই... আমি জানি না নিয়ে?"
"আরও ভালো করে ভাবো।"
মাহদী আবার ভাবল।
"চারটেই বলছে — কিছু জিনিস আমার হাতে নেই। আর সেটা ঠিক আছে।"
হুদহুদ ধীরে ধীরে ডানা মেলল।
"সেনাপতি, তুমি এই দ্বীপের নামটা এখন পুরোপুরি বুঝে ফেলেছ।"
"রাজত্ব কার — সেটাই যদি ঠিক থাকে, বাকি সব ঠিক হয়ে যায়।"
তারপর সে দূরে তাকাল, আর তার গলাটা বদলে গেল।
"সামনের সপ্তাহে সূরা মূলক শেষ হবে, মাহদী। আঠারো সপ্তাহে এই প্রথম একটা লম্বা সূরা তুমি পুরোটা শেষ করবে।"
মাহদী সোজা হয়ে দাঁড়াল।
"আর তারপর?"
হুদহুদের চোখ চকচক করে উঠল।
"আর তারপর, সেনাপতি — কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত।"
"আয়াতুল কুরসি?"
"যেটা তোমার দাদি রোজ রাতে পড়েন। যেটা পড়লে সকাল পর্যন্ত একজন পাহারাদার তোমার সাথে থাকে।"
হুদহুদ ডানা মেলল।
"প্রস্তুত হও। আগামী সপ্তাহে তোমার ঢালে পঞ্চম টুকরোটা বসবে।" 👑