🗺️ আজকের অভিযান
ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী বেরিয়ে গেল — হাতে ছোট একটা মাটির টব।
উঠানের কোণে সে টবটা রাখল, ভেতরে শুকনো মাটি ভরল, তিনটে সরিষার দানা পুঁতে দিল।
তাসমিয়া এসে দাঁড়াল। "কী করছ?"
"একটা পরীক্ষা।"
"কীসের পরীক্ষা?"
মাহদী মাটিটা হাত দিয়ে সমান করে দিল।
"নানার সরিষা শিলাবৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেছে," সে বলল। "চার মাসের কাজ, দশ মিনিটে।"
তাসমিয়ার মুখ শুকিয়ে গেল। "তাহলে?"
"তাহলে আবার শুরু।" মাহদী পানি ঢালল। "নানা বলেছেন উনি এই জমিটা তেত্রিশ বার মরতে দেখেছেন।"
সে খাতা বের করে টবের গায়ে একটা কাগজ সেঁটে দিল। তাতে লেখা:
وَإِلَيْهِ ٱلنُّشُورُ (ওয়া ইলাইহিন নুশূর — আর তাঁরই কাছে পুনরুত্থান)
"এটার মানে কী?" তাসমিয়া জিজ্ঞেস করল।
"মানে — যেটা মরে গেছে, সেটা আবার উঠে দাঁড়াবে।" 🌱
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। রাজত্বের দ্বীপের প্রথম গ্রামটা জ্বলে উঠেছে — সোনালি নয়, সোনার মতো।
"এই সপ্তাহের হিসাব দাও, সেনাপতি।"
মাহদী গুনতে লাগল।
"এক — যে বানিয়েছে, সে ভেতরটা জানে। আব্বু যন্ত্রটা না দেখেই সারিয়ে দিয়েছেন।"
"দুই — পৃথিবী ذَلُول, বশ মানা। আর মরা মাটি থেকে প্রাণ ওঠে — নুশূর।"
"তিন — ءَأَمِنتُم? নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থেকো না। উপরেও বিপদ, নিচেও।"
"চার — পাখিকে ধরে রাখেন আর-রাহমান। আর কীভাবে হয় আর কে করেন — দুইটা আলাদা প্রশ্ন।"
হুদহুদ মাথা নাড়ল। "এবার বলো — এই চারটে কি আলাদা আলাদা?"
মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল।
"না," সে শেষে বলল। "চারটেই একটা কথা বলছে।"
"কী কথা?"
"কিছুই আমার না।" মাহদী উপরের দিকে তাকাল। "যন্ত্রটাও না, মাটিটাও না, নিরাপত্তাটাও না, এমনকি পাখিটাও না।"
হুদহুদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
"তাহলে রাজত্বের দ্বীপের নামটা এখন বুঝলে?"
মাহদী মাথা নাড়ল।
"এই দ্বীপ তোমাকে ছোট বানাতে আসেনি, সেনাপতি।" হুদহুদ বলল। "এসেছে তোমার কাঁধ থেকে বোঝাটা নামাতে। যে ভাবে সব তার হাতে, সে রাতে ঘুমাতে পারে না।"
সে দূরে তাকাল।
"সামনের সপ্তাহে সূরা মূলকের আরও চার আয়াত। আর একটা প্রশ্ন আসবে যেটা এই সূরার সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন।"
"কী প্রশ্ন?"
হুদহুদের ঝুঁটি একবার কেঁপে উঠল।
"তোমার রিজিক যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে কে তোমাকে খাওয়াবে?" 👑