🗺️ আজকের অভিযান
নানার আড়তের বারান্দা থেকে পুবের দিকটা পরিষ্কার দেখা যায়।
ভোরে মাহদী নানার পাশে বসে চা খাচ্ছিল। নানা হঠাৎ আঙুল তুলে বললেন, "ওই যে তালগাছটা দেখছ? আজ সূর্য উঠবে ওটার ডান পাশ ঘেঁষে।"
একটু পরেই সূর্য উঠল — ঠিক তালগাছের ডান পাশে।
"নানা! আপনি কীভাবে জানলেন?"
নানা হাসলেন। "কারণ সূর্য রোজ একই জায়গায় ওঠে না, দাদুভাই।"
মাহদী হাঁ করে তাকিয়ে রইল। "ওঠে না?"
"না। সারা বছর ধরে সরতে থাকে। শীতে দক্ষিণ ঘেঁষে, গরমে উত্তর ঘেঁষে। ওই তালগাছ থেকে ওই আমগাছ পর্যন্ত — এই যে পুরো জায়গাটা, সারা বছরে সূর্য এই সবটা ঘুরে আসে।"
"আপনি এটা কবে থেকে জানেন?"
"ছোটবেলা থেকে। আমার বাবা শিখিয়েছিলেন।" নানা চায়ে চুমুক দিলেন। "চাষি ক্যালেন্ডার দেখে না, দাদুভাই। চাষি সূর্য কোথায় উঠছে সেটা দেখে। ওটা দেখেই বুঝি কোন বীজ ফেলার সময়।"
বিকেলে মাহদী কথাটা দাদাকে বলল। দাদা মাথা নাড়লেন।
"তোমার নানা যা চোখে দেখে শিখেছেন, বিজ্ঞানীরা সেটা মেপে বের করেছেন। পৃথিবী একটু হেলে আছে তো — তাই সূর্যের ওঠার জায়গা বছরজুড়ে সরে।"
তারপর দাদা যোগ করলেন, "আর আজ রাতে তোমার একটা আয়াত পড়ার কথা, না? رَبُّ ٱلْمَشَـٰرِقِ?"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে তিন ভাগে ভাবো।" দাদা আঙুল গুনলেন।
"এক — কুরআন যা বলেছে। উদয়স্থলগুলোর রব — বহুবচন। একটা নয়, অনেকগুলো।"
"দুই — আমরা যা জানি। সত্যিই সূর্য বছরজুড়ে অনেক জায়গা দিয়ে ওঠে।"
"তিন — যেখানে থামতে হবে।" দাদা চশমা মুছলেন। "আয়াতটা পৃথিবীর হেলান বা কক্ষপথ নিয়ে কিছুই বলেনি। আর তোমার নানা তো কোনো বিজ্ঞান না পড়েই জানেন — মরুভূমির মানুষও জানত। *তাই বোলো না কুরআন প্রমাণ করেছে। বলো — কী সুন্দর করে বলা হয়েছে।*"
সেই রাতে হুদহুদ মাহদীকে নিয়ে গেল দ্বীপের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ে।
চারপাশে শুধু আকাশ। আর আকাশজুড়ে অসংখ্য তারা — এত পরিষ্কার যে মাহদীর মনে হলো হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।
"আজকের আয়াতে আল্লাহ নিজের তিনটে পরিচয় দিয়েছেন," হুদহুদ বলল।
رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَـٰرِقِ (রব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মা বাইনাহুমা ওয়া রব্বুল মাশারিক — আসমানসমূহ, যমীন ও তাদের মাঝের সবকিছুর রব, এবং সকল উদয়স্থলের রব)
"ٱلْمَشَـٰرِقِ," মাহদী পড়ল। "নানা আজ সকালে ঠিক এটাই দেখিয়েছেন! সূর্য রোজ আলাদা জায়গায় ওঠে!"
"তোমার নানা একজন চাষি," হুদহুদ বলল। "আর চাষিরা আকাশ পড়তে জানে। যারা মাটি নিয়ে কাজ করে, তারা আকাশের দিকে তাকাতে বাধ্য।"
তারপর সে পরের আয়াতটা পড়ল:
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ (ইন্না যায়্যান্নাস সামাআদ দুনইয়া বিযীনাতিনিল কাওয়াকিব — নিশ্চয়ই আমরা নিকটবর্তী আসমানকে সাজিয়েছি নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্যে)
"زِينَة মানে সাজসজ্জা, অলংকার," হুদহুদ বলল। "আল্লাহ তারাগুলোকে বলছেন গয়না।"
মাহদী উপরে তাকিয়ে রইল।
"ভাবো তো, সেনাপতি — আল্লাহর আকাশ সাজানোর দরকার ছিল না। কাজ চলত। কিন্তু তিনি সাজিয়েছেন।"
"কেন?"
"কারণ যিনি সাজান, তিনি দেখার লোকের কথা ভেবেই সাজান।" হুদহুদ নরম গলায় বলল। "তারাগুলো তোমার জন্য।"
তারপর হঠাৎ তার গলা বদলে গেল।
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَـٰنٍ مَّارِدٍ (ওয়া হিফযাম মিন কুল্লি শাইতানিম মারিদ — এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে)
"রক্ষা?" মাহদী সোজা হয়ে বসল। "আকাশে পাহারা আছে?"
"আছে।" হুদহুদের ঝুঁটিটা কেঁপে উঠল। "আর সেই পাহারার গল্পটা কাল বলব।"
"কেন কাল?"
হুদহুদ উপরে তাকাল।
"কারণ কাল রাতে আকাশে তুমি একটা জিনিস দেখবে।" 🌠