🗺️ আজকের অভিযান
ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী শব্দের ঝুড়ি খুলল। তিনশো ছেচল্লিশ।
সে এই সপ্তাহের শব্দগুলো আলাদা একটা পাতায় লিখল:
خَـٰشِع (খাশি — বিনীত) · يَتَفَكَّرُونَ (ইয়াতাফাক্কারূন — তারা ফিকির করে) · ٱلْمُصَوِّر (আল-মুসাওয়ির — আকৃতিদাতা)
تُبْدُوا۟ (তুবদূ — প্রকাশ করো) · تُخْفُوا۟ (তুখফূ — গোপন করো) · أَطَعْنَا (আতা'না — আমরা মানলাম)
তারপর সে একটা নতুন পাতা খুলল, আর উপরে লিখল — যা আমি করেছি।
নিচে তিনটে লাইন:
১. মসজিদের ফ্রেমে ৩১টা নাম চিনেছি।
২. আম্মু ডাকলে "কেন" বলিনি।
৩. খারাপ চিন্তা এলে উঠে দাঁড়িয়েছি — চারবার।
তাসমিয়া উঁকি দিল। "এটা কী?"
"নতুন খাতা।"
"শব্দের খাতা তো আছেই!"
মাহদী পাতাটার দিকে তাকাল।
"শব্দের খাতা বলে আমি কী জানি," সে বলল। "এটা বলে আমি কী করেছি।"
তাসমিয়া কিছুক্ষণ ভেবে বলল, "আমারও একটা লাগবে।"
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। গুহার দ্বীপের দ্বিতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে।
"এই সপ্তাহে চারটে জিনিস," সে বলল। "বলো।"
"এক — পাহাড় পর্যন্ত ফেটে যেত। তাই চোখ ভিজলে লজ্জা নেই।"
"দুই — আল্লাহর নামগুলো। আমি একত্রিশটা চিনি।"
"তিন — মনের চিন্তার হিসাব। কিন্তু পাখিকে বাসা বাঁধতে না দিলে দোষ নেই।"
"চার — সামি'না ওয়া আতা'না।"
হুদহুদ মাথা কাত করল। "এই চারটের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কোনটা?"
মাহদী উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেল।
"চার নম্বরটা," সে শেষে বলল।
"কেন?"
"কারণ বাকি তিনটে মাথার ভেতরে। চার নম্বরটা পা দিয়ে করতে হয়।"
হুদহুদ ডানা ঝাপটে লাফিয়ে উঠল।
"সেনাপতি, তুমি জানো বাইশ সপ্তাহে তুমি কী শিখেছ? এই এক লাইনটাই।"
তারপর সে শান্ত হয়ে গেল।
"আর এবার শোনো। আর মাত্র দশটা ক্লাস বাকি।"
মাহদীর বুকটা ধক করে উঠল।
"সামনের সপ্তাহে তুমি সূরা বাকারার শেষ আয়াতটা শিখবে — যেটা সাহাবিদের ভয় দূর করে দিয়েছিল।"
"আর তারপর?"
হুদহুদ ঘুরে গুহার দিকে তাকাল।
ভেতর থেকে আজ একটা ক্ষীণ আলো আসছে — যেন কেউ ভেতরে বাতি জ্বেলেছে।
"আর তারপর," সে আস্তে বলল, "আমরা ভেতরে ঢুকব। আর সূরা কাহাফ শুরু হবে।"
"হুদহুদ, ছায়াটা কি ভেতরে আছে?"
হুদহুদ অনেকক্ষণ উত্তর দিল না।
তারপর বলল, "সে সবসময়ই ছিল, মাহদী। প্রথম রাত থেকে।"
"কিন্তু এতদিন সে তোমাকে দেখছিল।"
সে মাহদীর দিকে ফিরল।
"আর এবার তুমি তাকে দেখবে।" 🕳️