আজ মাহদীর দিনটা দারুণ গেছে। মাদ্রাসায় তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হয়েছে। বাড়ি ফিরে সে সবাইকে বলেছে — দাদিকে বলেছে, নানিকে ফোন করে বলেছে, এমনকি দুধওয়ালা চাচাকেও বলেছে। আর তাসমিয়াকে বলেছে তিনবার। শেষবার একটু বেশিই বলেছে — "তুমি তো এখনো আলিফ-বা-তা-ই ঠিকমতো পারো না।"
তাসমিয়া কিছু বলল না। শুধু ঘরে চলে গেল। মাহদীর বুকের ভেতরটা একটু কেমন করে উঠল। আর সাথে সাথেই সেই নরম গলাটা এসে সামলে দিল — "তুই তো ঠিকই বলেছিস। ও সত্যিই তো পারে না। এতে খারাপ লাগার কী আছে?" অস্বস্তিটা চলে গেল। মাহদী আবার হাসল। আর তার মাথার ভেতর, একদম নিঃশব্দে, প্রথম গিঁটটা বাঁধা হয়ে গেল।
রাতে আব্বুর ভিডিও কল এল। তুরস্কের এরজুরুম শহর থেকে — পেছনে জানালার বাইরে বরফ পড়ছে। "শুনলাম আমার ছেলে ফার্স্ট হয়েছে!" আব্বু মামুনুর রেজা হাসছেন। "মাশাআল্লাহ। তোমাকে একটা ইতিহাসের গল্প বলি?" "বলুন আব্বু।" "আমি এখন যে দেশে আছি, এখানকার এক তরুণ সুলতান ছিলেন — সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি কনস্টান্টিনোপল শহরের فَتْح(ফাতহ — বিজয়) করেন। হাজার বছরে কেউ পারেনি, তিনি পারলেন।"
"তারপর কী করলেন? বিরাট উৎসব?" "বলা হয়, তিনি শহরে ঢুকে ঘোড়া থেকে নেমে পড়লেন। তারপর মাটিতে سُجُود(সুজুদ — সিজদা) করলেন — একেবারে ধুলোয় কপাল ঠেকিয়ে।" আব্বু থামলেন। "সবচেয়ে বড় জয়ের দিনে তিনি সবার চেয়ে নিচু হয়ে গেলেন।" মাহদী চুপ করে রইল। তাসমিয়ার বন্ধ দরজাটার দিকে তাকাল একবার।
সেই রাতে দ্বীপে দূরে ঢোলের আওয়াজ। দলে দলে মানুষ আসছে, হাসছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে। "কী হয়েছে?" মাহদী অবাক। "মক্কা বিজয়ের দিন," হুদহুদ বলল। "যে শহর থেকে নবীজিকে (সা.) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই শহর তাঁর পায়ের নিচে। যারা তাঁকে পাথর ছুঁড়েছিল, তারা সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপছে।"
"তিনি কী করলেন?" মাহদী রুদ্ধশ্বাসে জানতে চাইল। "বললেন — যাও, তোমরা সবাই মুক্ত।" "আর জানো, তিনি শহরে ঢুকেছিলেন কীভাবে? উটের পিঠে, মাথা এত নিচু করে যে দাড়ি প্রায় হাওদা ছুঁয়ে যাচ্ছিল।" মাহদীর আব্বুর কথা মনে পড়ল। সবচেয়ে বড় জয়ের দিনে তিনি সবার চেয়ে নিচু হয়ে গেলেন।
"আর আল্লাহ পাঠালেন সূরা নাসর," হুদহুদ বলল। "খেয়াল করো, জিতে যাওয়ার পর আল্লাহ কী করতে বললেন। মিছিল? না। বললেন فَسَبِّحْبِحَمْدِرَبِّكَ(ফাসাব্বিহ বিহামদি রব্বিকা — তোমার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করো) আর وَٱسْتَغْفِرْهُ(ওয়াসতাগফিরহু — আর তাঁর কাছে ক্ষমা চাও)।" "জিতে গিয়ে ক্ষমা?" মাহদী ভুরু কুঁচকাল। "হ্যাঁ। কারণ জয়ের পরেই মানুষের মনে সবচেয়ে বড় বিপদটা ঢোকে — كِبْر(কিবর — অহংকার)। জেতার সময়ই সবচেয়ে সহজে মানুষ কাউকে ছোট করে ফেলে।"
মাহদী মাটির দিকে তাকাল। "হুদহুদ... আজ আমি একটা কাজ করেছি।" "জানি," হুদহুদ নরম গলায় বলল। "কিন্তু দেখো, আল্লাহ সূরাটা শেষ করেছেন কী দিয়ে — إِنَّهُۥكَانَتَوَّابًۢا(ইন্নাহু কানা তাওয়্যাবা — নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী)। দরজাটা এখনো খোলা।" "কীভাবে চাইব?" মাহদী জিজ্ঞেস করল। "ক্ষমা চাওয়ার কোনো নিয়ম আছে?" "আছে। আর তুমি সেটা প্রায় পুরোটাই জানো।" হুদহুদ বালিতে লিখতে শুরু করল, একটা একটা শব্দ।
হুদহুদ শেষ শব্দগুলো লিখে সোজা হয়ে দাঁড়াল। وَأَنتَخَيْرُالرَّاحِمِينَ। "আর আপনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু," মাহদী নিজেই পড়ে ফেলল। তারপর থেমে গেল, নিজের কথায় নিজেই অবাক। "হুদহুদ! আমি তো পুরোটা বুঝে ফেললাম!" "কারণ তুমি নতুন কিছু শেখোনি আজ।" হুদহুদ বালির লেখাটার দিকে ডানা তুলল। "শুধু চেনা শব্দগুলো নতুন করে সাজানো দেখলে। এই দুআটা নূহ (আ.)-এর, সূরা মুমিনুনে আছে। আর আজ থেকে এটা তোমার।"
মাহদী وَٱسْتَغْفِرْهُ শব্দটা আস্তে আস্তে আবার বলল। ক্ষমা চাও। বিকেলে তাসমিয়ার বন্ধ দরজাটা মনে পড়ল, আর হঠাৎ বুঝে ফেলল — এই আয়াতটা আজ শুধু নবীজির (সা.) জন্য নামেনি। আজ এটা তার জন্যও নেমেছে। ঠিক তখন মাথার ভেতর টুক করে একটা শব্দ হলো। যেন খুব শক্ত একটা গিঁট আলগা হয়ে খুলে গেল। "একটা খুলল," হুদহুদ ডানা ঝাপটাল। "আরও দুটো বাকি। ওগুলো আরও শক্ত হবে। কাল সকালে তাসমিয়াকে কী বলবে, ভেবে রেখেছ?" 🕊️
🎯 আজ আমি যা শিখব
তাজবীদ: হরফের সংখ্যা
সূরা আন-নাসর — আয়াত ১, ২, ৩
১৯টি শব্দের অর্থ
আজকের গল্প আর কোথায় কাজে লাগাব
🔤 তাজবীদের জাদু
হরফের সংখ্যা: ২৯ জন বন্ধু
আরবি বর্ণমালায় ২৯টি হরফ (হামযা ধরলে)। বাংলায় ৫০টা! তাই আরবি শেখা তোমার জন্য সহজ।
🪄 সূত্র২৯ হরফ · ৩ বাড়ি (গলা-জিহ্বা-ঠোঁট) · ব্যস!
নিজে করে দেখো: আজ পাঁচটা হরফ বেছে নাও। প্রতিটার বাড়ি কোনটা — গলা, জিহ্বা না ঠোঁট? খাতায় লেখো।
نَصْر (সাহায্য আসে) → فَتْح (বিজয় হয়) → মানুষ দলে দলে আসে। তারপর? তাসবিহ + ইসতিগফার। জয় এলে বুক ফুলিয়ো না — মাথা নত করো।
🎮 খেলা: বিজয়ীর আচরণ
আজ কোনো খেলায় জিতলে বা ভালো নম্বর পেলে — সাথে সাথে দুটো কথা বলো: "আলহামদুলিল্লাহ" আর "আসতাগফিরুল্লাহ"। আর যে হেরেছে, তাকে গিয়ে বলো "তুমিও ভালো করেছ"। কেমন লাগল, কাল বলবে!
🧠 অনুশীলনের ঘর
একই শব্দগুলো, তিনভাবে। যেটা ভালো লাগে সেটা দিয়ে শুরু করো — ভুল হলে কিছুই হারায় না।