🗺️ আজকের অভিযান
ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী তাসমিয়ার ঘরে গেল। নক করল।
"তাসমিয়া, কাল আমি একটা বাজে কথা বলেছি। তুই কিছু জানিস না — এটা ঠিক না।"
তাসমিয়া চোখ কচলে বলল, "আমি তো সত্যিই জানি না।"
"তুই তো জিজ্ঞেস করতে জানিস।" মাহদী পাশে বসল। "আর সেটাই সবচেয়ে বড় জিনিস। আমার সব শুরুই তো তোর একটা প্রশ্ন থেকে।"
"কোন প্রশ্ন?"
মাহদী হাসল। "মনে নেই তোর?"
সেই রাতে ম্যাপের দ্বিতীয় দ্বীপটা পুরো সোনালি হয়ে জ্বলে উঠল! ⚖️
হুদহুদ মাহদীর সামনে এসে দাঁড়াল, আর এবার গলাটা গম্ভীর।
"চার সপ্তাহে তুমি অনেক কিছু দেখেছ। পৃথিবী কেঁপেছে, পাল্লা ঝুলেছে, কবর খুলেছে। ভয় পেয়েছ, তাই না?"
"পেয়েছি।"
"কিন্তু দ্বীপটা ভয় দিয়ে শেষ হলো না। খেয়াল করেছ?"
হুদহুদ ডানার পালকে গুনতে লাগল।
"আল্লাহ বললেন — তুমি আহসানি তাকভীম। তোমার রব তোমাকে ছাড়েননি। কষ্টের সাথেই স্বস্তি। এতিমকে ধমক দিয়ো না। আর সবার প্রথম আদেশ — পড়ো।"
"তাহলে ভয়ের কথাগুলো কেন ছিল?"
"কারণ ঘুমন্ত মানুষকে আগে জাগাতে হয়, তারপর রাস্তা দেখাতে হয়।" হুদহুদ বলল। "যে জেগেই নেই, তাকে রাস্তা দেখিয়ে কী লাভ?"
সে ম্যাপটা গুটিয়ে নিল। তারপর দ্বিতীয় সোনালি টুকরোটা মাহদীর হাতে দিল — ঢালে বসিয়ে দিল, খট করে শব্দ হলো।
"ঢালের দুই টুকরো হলো। আরও চারটা বাকি।"
তারপর হুদহুদ দূরে তাকাল। সমুদ্রের ওপারে কুয়াশার ভেতর একটা দ্বীপের আবছা রেখা।
"সামনে নবীজির দ্বীপ 🌙। ওখানে তুমি সূরা আলাক শেষ করবে, শিখবে সূর্য আর চাঁদের শপথ..."
সে থেমে গেল। ঝুঁটিটা কেঁপে উঠল।
"হুদহুদ?"
"...আর ওখানেই আমি তোমাকে বলব ছায়াটার আসল নাম।"
জঙ্গলের দিক থেকে ফিসফিসানিটা আজ অনেক কাছে শোনাচ্ছে।
"তিনটে শব্দ তুমি এই আট সপ্তাহে বারবার শুনেছ, মাহদী। يُكَذِّبُ সূরা মাউনে। يُكَذِّبُكَ সূরা তীনে। আর তোমার ব্যাকরণের পাতায় একটা নাম — كَذَّاب।"
মাহদীর গা শিরশির করে উঠল।
"তুমি প্রস্তুত তো, সেনাপতি?" 👁️