অনুমতি দিয়ে আপনার ড্রাইভ বা মেমরি কার্ডের ফোল্ডার বেছে নিন — ক্লাস অনুযায়ী ফাইলগুলো সরাসরি সেভ হয়ে যাবে।
🗺️ আজকের অভিযান
স্টোরিটেলার গল্প শোনাচ্ছে... যেকোনো লাইনে ক্লিক করে সরাসরি শুনতে পারেন
নানানানার আড়তের অফিসঘরে দেয়ালে একটা ছোট বাঁধানো ছবি ঝোলে। মাহদী কখনো ভালো করে দেখেনি।
গল্পকথকআজ সে কাছে গিয়ে দেখল — সাদাকালো ছবি। একটা টিনের চালার নিচে বাঁশের খুঁটি, কয়েকটা বস্তা। আর সামনে দাঁড়ানো একজন রোগা তরুণ, লুঙ্গি পরা।
নানা"নানা, এটা কে?"
নানানানা কলম থামালেন। "আমি।"
গল্পকথকমাহদী ছবিটার দিকে আবার তাকাল। বিশ্বাস হচ্ছিল না।
গল্পকথক"এটাই ছিল আড়ত?"
নানা"এটাই।" নানা উঠে এসে ছবিটার পাশে দাঁড়ালেন। "চারটা বস্তা দিয়ে শুরু। ধার করা।"
গল্পকথক"তখন এই এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী কে ছিলেন?"
নানানানা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
গল্পকথক"হাশেম মিয়া। তিনটা গুদাম, দুইটা ট্রাক। এলাকার সবাই তাঁর কাছে ধার নিত।"
গল্পকথক"এখন উনি কোথায়?"
নানা"তিনি নেই। আর তাঁর ছেলেরা সব বিক্রি করে চলে গেছে।" নানা চেয়ারে ফিরে বসলেন। "এখন ওই জায়গাটায় একটা চায়ের দোকান।"
গল্পকথকমাহদী কিছু বলতে পারল না।
নানামাহদী ছবিটার আরেকটু কাছে গেল। তরুণ নানার পাশে আবছা আরেকটা মুখ — শাড়ির আঁচল মাথায়, হাতে একটা খাতা।
নানা"নানা, পাশে কে?"
নানানানা এবার কলমটা একেবারে নামিয়ে রাখলেন।
নানি"তোর নানি।" গলাটা বদলে গেল। "আর সত্যি বলতে, ছবিটা আমার না — ওর।"
গল্পকথক"মানে?"
নানা"চারটা বস্তা ধার করার সাহসটা আমার ছিল না, দাদুভাই। আমি ভয় পেয়েছিলাম। শোধ দিতে না পারলে? জমি চলে যাবে?" নানা ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। "তোর নানি সেই রাতে বলেছিল — ধার করো। আমি কানের দুল বেচে দিচ্ছি। না হলে আমরা সারাজীবন অন্যের গুদামে কাজ করব।"
নানিমাহদী হাঁ হয়ে গেল। "নানি দুল বিক্রি করেছিলেন?!"
নানা"করেছিল। আর হিসাবের খাতাটাও ও-ই রাখত — ওই যে হাতে দেখছিস।" নানা হাসলেন, কিন্তু চোখটা ভেজা। "যতবার আমি থেমে গেছি, ততবার ও ধাক্কা দিয়েছে। ঘেরগুলোও ওর কথাতেই কেনা। সবাই বলেছিল লবণ পানির জমি কেউ কেনে না।"
নানি"তাহলে সবাই আপনাকে কেন বড় ব্যবসায়ী বলে? নানিকে কেন বলে না?"
নানানানা অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।
গল্পকথক"কারণ মানুষ যা দেখে, তা-ই বলে," তিনি শেষে বললেন। "কিন্তু আল্লাহ যা দেখেন, সেটা আলাদা। আর ওই খাতাটা তাঁর কাছেই আছে।"
নানা"এইজন্যই ছবিটা ঝুলিয়ে রেখেছি, দাদুভাই," নানা কলম তুলে নিলেন। "যেদিন মনে হবে এই আড়ত আমার, সেদিন ওই ছবিটার দিকে তাকাব।"
গল্পকথক"চারটা বস্তা থেকে এখানে এনেছেন যিনি, তিনি আবার চারটা বস্তায় নামিয়ে দিতে পারেন।"
গল্পকথকসেই রাতে হুদহুদ বলল, "আজকের আয়াতটা একটা দোয়া। আর এটা তুমি সারাজীবন পড়বে।"
গল্পকথক"শুধু ভালোটার কথা বলা হলো, সেনাপতি। কারণ আয়াতটা তোমাকে ভয় দেখাতে আসেনি — এসেছে তোমাকে বলতে কার কাছে হাত পাততে হবে।"
গল্পকথকসে ডানা মেলল।
গল্পকথক"যিনি দেন, তিনিই নিতে পারেন। কিন্তু হাতটা যেহেতু একই, তুমি জানো কার কাছে চাইতে হবে।"
তাসমিয়াপরদিন সকালে তাসমিয়া নাশতার টেবিলে ঘোষণা করল, "আজ আমার জন্মদিন! ভাইয়া, তুমি আমাকে একটা দোয়া শেখাও।"
দাদামাহদী খাতা খুলতে গিয়ে থেমে গেল। সে খুঁজল। আবার খুঁজল। তারপর দাদার কাছে গেল।
দাদা"দাদা, জন্মদিনের দোয়া কোনটা?"
দাদাদাদা কাগজটা নামিয়ে রাখলেন। "সোজা উত্তর দিই? নেই।"
গল্পকথক"নেই?"
দাদা"কুরআনে নেই, নবীজির (সা.) সুন্নাহেও জন্মদিনের আলাদা কোনো দোয়া নেই। কেউ যদি বলে এটা জন্মদিনের দোয়া — সে বানিয়ে বলছে।" দাদা মাহদীর দিকে তাকালেন। "আর দ্বীনে নিজে থেকে জিনিস বানানোটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ, দাদুভাই। যা আছে ততটুকুই বলবে, একটুও বেশি না।"
তাসমিয়ামাহদীর মুখ শুকিয়ে গেল। "তাহলে তাসমিয়াকে কিছুই বলা যাবে না?"
দাদা"তা তো বলিনি।" দাদা হাসলেন। "কারো জন্য বরকতের দোয়া করা যায় — যেকোনো খুশির দিনে, যেকোনো দিন। নবীজি (সা.) খুশির উপলক্ষে বলতেন — بَارَكَاللَّهُلَكَوَبَارَكَعَلَيْكَ(বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা — আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দিন, তোমার ওপর বরকত দিন)।"
গল্পকথক"এটা জন্মদিনের দোয়া?"
দাদা"না। এটা মানুষের জন্য দোয়া।" দাদা আঙুল তুললেন। "পার্থক্যটা ধরতে পারলে? এটা যেকোনো দিন বলা যায়। জন্মদিন উদযাপন করা ঠিক কি না, সেটা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে — আমি সেই তর্কে যাব না। কিন্তু একটা কথা শিখে রাখো: যেটার প্রমাণ নেই, সেটাকে প্রমাণ আছে বলে চালিয়ে দিয়ো না।"
তাসমিয়ামাহদী ফিরে গিয়ে তাসমিয়াকে বলল, "তোর জন্মদিনের কোনো দোয়া নেই।"
তাসমিয়াতাসমিয়ার মুখ কালো হয়ে গেল।
গল্পকথক"কিন্তু তোর জন্য একটা দোয়া আছে।" মাহদী পাশে বসল। "আর ওটা আমি বছরের যেকোনো দিন বলতে পারি।" 🖼️
🗣️ উচ্চারণ: কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুতীল মুলকা মান তাশাউ ওয়াতানযিউল মুলকা মিম্মান তাশাউ ওয়াতুইয্যু মান তাশাউ ওয়াতুযিল্লু মান তাশাউ বিয়াদিকাল খাইরু ইন্নাকা আলা কুল্লি শািন কাদীর
💬 অর্থ: বলুন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যান আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
⚖️ জন্মদিনের জন্য কুরআন বা সুন্নাহে আলাদা কোনো দুআ নেই — এটা স্পষ্ট করে বলা দরকার। বর্ণনায় এই দুআটি বিয়ের শুভেচ্ছা হিসেবে এসেছে। বরকতের দোয়া করা যেকোনো খুশির উপলক্ষে জায়েজ, কিন্তু "জন্মদিনের দুআ" বলে কিছু চালিয়ে দেওয়া যাবে না। জন্মদিন উদযাপন নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে — সেটাও গোপন করা হয়নি।
আয়াতটায় চারটে কাজ, দুই জোড়ায়: দেন ⟷ কেড়ে নেন · সম্মানিত করেন ⟷ হীন করেন। তারপর শেষে একটাই লাইন — بِيَدِكَٱلْخَيْرُ। জোড়া দুইটা মনে রাখলে চার লাইন একসাথে আসবে। আর এটা একটা দোয়া — মুখস্থ করে রোজ পড়ো, বিশেষ করে যখন কিছু চাইতে ইচ্ছে হয়। 🤲
🎮 খেলা: তোমার পুরনো ছবি
বাড়ির কারো কাছে একটা পুরনো ছবি খুঁজে বের করো — আম্মু-আব্বুর ছোটবেলার, বা বাড়িটার আগের চেহারা। ভালো করে দেখো। তারপর খাতায় লেখো: তখন কী ছিল না, আর এখন কী আছে? শেষে লেখো আয়াতটা: بِيَدِكَٱلْخَيْرُ — কল্যাণ আপনারই হাতে। 🖼️
🧠 অনুশীলনের ঘর
একই শব্দগুলো, তিনভাবে। যেটা ভালো লাগে সেটা দিয়ে শুরু করো — ভুল হলে কিছুই হারায় না।