মাদ্রাসার পেছনে একটা কুকুরছানা এসে জুটেছে — রোগা, ভয় পাওয়া, লেজ গুটিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আজ ছুটির পর একটা ছেলে পাথর তুলল। "দেখ কেমন লাফায়!" পাথরটা লাগল, কুকুরছানাটা কেঁউ কেঁউ করে খুঁড়িয়ে পালাল। কয়েকজন হেসে উঠল, কেউ কেউ চুপ করে রইল। মাহদীও চুপ করে রইল।
বাড়ি ফিরে সে দাদাকে ঘটনাটা বলল — যেন সে নিজে কিছু করেনি বলে গর্বই করছিল। দাদা কিছুক্ষণ চুপ করে শুনলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন, "কতজন ছিল?" "সাত-আটজন।" "পাথর ছুঁড়ল কতজন?" "একজন।" "আর বারণ করল কতজন?" মাহদী চুপ।
দাদা চশমাটা খুললেন। "দাদুভাই, নবীজি (সা.) বলেছেন — এক মহিলা একটা বিড়ালকে বেঁধে রেখে না খাইয়ে মেরে ফেলেছিল বলে সে শাস্তি পেয়েছিল। আর এক লোক তৃষ্ণার্ত কুকুরকে জুতোয় করে পানি খাইয়েছিল বলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন — আল্লাহর رَحْمَة(রহমত — দয়া) এতটাই বিশাল।"
📚 সহীহ বুখারী ৩৩১৮, ২৩৬৩
"একটা কুকুরের জন্য মাফ?" "একটা কুকুরের জন্য মাফ," দাদা মাথা নাড়লেন। "আর আজ সাতজন দাঁড়িয়ে দেখল। তুমি কি ভাবছ শুধু যে পাথর ছুঁড়েছে সে-ই দোষী?" মাহদীর মুখটা শুকিয়ে গেল। "কাল ওই ছানাটাকে খুঁজে বের করো," দাদা বললেন, "আর কিছু খেতে দিও।"
সেই রাতে দ্বীপের বালু হঠাৎ পাথুরে হয়ে গেল। চারদিকে পাহাড় কেটে বানানো বিশাল বিশাল বাড়ি — কিন্তু সব খালি, সব নিস্তব্ধ। "এই জায়গাটার নাম ছিল সামূদ," হুদহুদ বলল। "একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষ কারিগররা এখানে থাকত। পাহাড় কেটে ঘর বানাত!" "সবাই কোথায়?" "সেটাই আজকের গল্প।"
"كَذَّبَتْ," মাহদী আস্তে বলল। "আবার।" "আবার," হুদহুদ বলল। "খেয়াল রেখো — যেখানেই ধ্বংস, সেখানেই আগে এই শব্দটা আসে।"
"আল্লাহ ওদের কাছে নবী পাঠিয়েছিলেন — সালিহ (আ.)। আর নিদর্শন হিসেবে দিয়েছিলেন একটা উষ্ট্রী। নিয়ম ছিল সহজ: তাকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, আর একদিন পানি সে খাবে, একদিন ওরা।" "তারপর?" "তারপর একজন লোক ঠিক করল উষ্ট্রীটাকে মেরে ফেলবে।"
إِذِٱنۢبَعَثَأَشْقَىٰهَا(ইযিনবাআসা আশকাহা — যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটা তৎপর হয়ে উঠল)
"أَشْقَىٰهَا — তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য। একজন, মাহদী। মাত্র একজন।"
মাহদী থেমে গেল, কিছু একটা খটকা লাগছে। "হুদহুদ... মারল তো একজন। কিন্তু আয়াতে লেখা তারা মারল। আর শাস্তিও পেল সবাই।" হুদহুদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। "তুমি আজকের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা করে ফেলেছ, সেনাপতি।"
"হাত ছিল একজনের। কিন্তু সম্মতি ছিল সবার। কেউ তাকে থামায়নি, কেউ বলেনি করিস না। তাই আল্লাহ কাজটা সবার নামে লিখলেন।" মাহদীর আজ বিকেলের কথা মনে পড়ল — কুকুরছানাটার কেঁউ কেঁউ, আর সাতজনের চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা।
"হুদহুদ..." তার গলা ধরে এল। "আজ বিকেলে আমি চুপ করে ছিলাম।" "জানি।" "আমি তো পাথর ছুঁড়িনি।" "সামূদের বাকি লোকগুলোও উষ্ট্রীটা জবাই করেনি।" মাহদী মাটিতে বসে পড়ল।
হুদহুদ পাশে এসে বসল, আর গলাটা নরম হয়ে এল। "মনে আছে ক্লাস ১৭-এ কী বলেছিলাম? ঠাট্টাকারীর দরকার হয় দর্শক। আজ আবার সেই একই কথা, শুধু আরও বড় করে। অন্যায় বেঁচে থাকে سُكُوت(সুকুত — নীরবতা) মানুষদের শক্তিতে।"
"তাহলে আমার কী করা উচিত ছিল?" "যা তুমি কাল করবে," হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "খাবার নিয়ে যাবে, তাই না?" মাহদী মাথা নাড়ল। "আর একটা কথা বলো ওদের। বলো — নবীজি (সা.) একটা কুকুরকে পানি খাওয়ানোর জন্য একজনকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। এবার দেখো কারা তোমার সাথে আসে।"
"কিন্তু যারা দাঁড়িয়ে দেখল, তাদের জন্য আমার রাগ হচ্ছে," মাহদী বলল। "ওরা তো কিছুই করেনি।" "রাগটা রাখো, কিন্তু দুআটা শিখে নাও," হুদহুদ বলল। "সূরা হাশরে এমন একটা দুআ আছে, যেটায় নিজের জন্য চেয়ে থামা যায় না।"
"হে আমাদের রব! ক্ষমা করুন আমাদের, আর আমাদের ভাইদেরও — যারা ঈমানে আমাদের আগে এসেছে।" মাহদী থেমে গেল। "ভাইদেরও?" "ভাইদেরও," হুদহুদ তার দিকে তাকাল। "আর পরের লাইনটা আরও কঠিন —"
وَلَاتَجْعَلْفِيقُلُوبِنَاغِلًّالِّلَّذِينَآمَنُوا(ওয়ালা তাজআল ফী কুলূবিনা গিল্লাল লিল্লাযীনা আমানূ — আর আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন না)।
"غِلّ মানে কী?" "বুকের ভেতর জমে থাকা রাগ। যেটা তুমি এইমাত্র বললে," হুদহুদের গলা নরম হলো। "লক্ষ করো, দুআটা বলছে না ওদের শাস্তি দিন। বলছে — আমার বুক থেকে ওদের প্রতি জমাটটা সরিয়ে দিন।" মাহদী অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তবে সীমা আছে: সুর করতে গিয়ে মাদ্দ লম্বা-খাটো করে ফেলা যাবে না, হরফ টেনে বাড়ানো যাবে না। সুর তাজবীদের উপরে ওঠে না।
🪄 সূত্রসুন্দর আওয়াজ ✔ · কিন্তু নিয়ম ভেঙে সুর ✘
নিজে করে দেখো: তোমার আওয়াজ সুন্দর না হলেও দুঃখ কোরো না — নবীজি (সা.) বলেছেন চেষ্টার কথা, প্রতিযোগিতার নয়। আজ একটা সূরা দুইবার পড়ো: একবার যেমন পড়ো তেমন, একবার যত্ন করে। পার্থক্যটা নিজেই শুনতে পাবে। 🎵
🧩 ব্যাকরণের গল্প: ক্রিয়ার সাথে জোড়া লাগা "তাকে"
"মনে আছে শব্দের শেষে ـهُ জুড়লে মানে হয় তার?" হুদহুদ জিজ্ঞেস করল। "যেমন مَالُهُ = তার সম্পদ।"
"কিন্তু সেই একই টুকরো যদি ক্রিয়ার শেষে জোড়ে? তখন মানে বদলে যায় — হয়ে যায় তাকে।"
সে সূরা শামসের চৌদ্দ নম্বর আয়াতটা দেখাল।
"দেখো, এক আয়াতেই তিনটে ক্রিয়া, আর প্রত্যেকটার লেজে একটা করে কাউকে।"
১৪ নম্বর আয়াতে فَ এসেছে চারবার — একটার পিঠে আরেকটা: فَكَذَّبُوهُ (মিথ্যা বলল) → فَعَقَرُوهَا (জবাই করল) → فَدَمْدَمَ (ধ্বংস করলেন) → فَسَوَّىٰهَا (একাকার করে দিলেন)। মনে আছে ক্লাস ৩৭-এ শিখেছিলে فَ মানে সাথে সাথেই? পতনটা কত দ্রুত হলো, ব্যাকরণই বলে দিচ্ছে! ⚡
🎮 খেলা: চুপ থাকা ভাঙো
আজ যদি কেউ কোনো প্রাণীকে বা কোনো মানুষকে কষ্ট দেয় — একটা শব্দ বলো। শুধু "করিস না" বলাই যথেষ্ট। ভয় লাগলে পরে আলাদা করে গিয়ে বলো। আর একটা কাজ করো: আজ কোনো পশু-পাখিকে পানি বা খাবার দাও। যে এক কুকুরকে পানি দিয়ে ক্ষমা পেতে পারে, তুমি কী পাবে ভাবো!
🧠 অনুশীলনের ঘর
একই শব্দগুলো, তিনভাবে। যেটা ভালো লাগে সেটা দিয়ে শুরু করো — ভুল হলে কিছুই হারায় না।