মাহদী আজ হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরল। মাদ্রাসায় নতুন এক ছেলে এসেছে — ইউসুফ। কথা বলতে গেলে তার একটু আটকে যায়। আজ ছুটির সময় কয়েকজন তার নকল করছিল — শব্দ আটকে যাওয়ার ভঙ্গি করে। সবাই হেসেছিল। মাহদীও হেসেছিল।
হাসতে হাসতে একবার মনে হয়েছিল — থামি? আর ঠিক তখনই সেই চেনা নরম গলা — "আরে, তুই তো কিছু বলিসনি! তুই তো শুধু হেসেছিস। হাসা কি عَيْب(আইব — দোষ)?" দ্বিতীয় গিঁটটা বাঁধা হয়ে গেল। এত মিহি করে, যে মাহদী টেরও পেল না।
বাড়ি ফিরে সে তাসমিয়াকে গল্পটা করল, নকলটাও করে দেখাল। তাসমিয়া খিলখিল করে হাসল। তারপর হঠাৎ হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, "ভাইয়া... ও যদি শুনত?" মাহদীর হাসিটা মুখেই আটকে গেল। "কী?" "যদি ও দরজার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকত? তখন কেমন লাগত ওর?"
মাহদী কিছু বলতে পারল না। রাতে ভাত খেতে বসেও কথাটা মাথা থেকে গেল না। দাদি প্লেটে মাছ তুলে দিতে দিতে শুধু একটা কথা বললেন, "মুখ থেকে বের হওয়া কথা আর ছোঁড়া তীর — দুটোই ফেরত আসে না, দাদুভাই।"
সেই রাতে দ্বীপের চত্বরে ভিড়। এক লোক আরেকজনকে নিয়ে ঠাট্টা করছে, ভঙ্গি করে দেখাচ্ছে, চারপাশের সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ছে। যাকে নিয়ে হাসছে, সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। মাহদীর গলা শুকিয়ে গেল। দৃশ্যটা বড় চেনা।
"দুটো শব্দ শেখো," হুদহুদ বলল — গলা আজ শক্ত। "هُمَزَة(হুমাযাহ — যে পেছনে নিন্দা করে) আর لُمَزَة(লুমাযাহ — যে সামনে খোঁচা দেয়, ইশারা-ভঙ্গি করে ব্যঙ্গ করে)। وَيْلٌلِّكُلِّهُمَزَةٍلُّمَزَةٍ(ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাযাতিল লুমাযাহ — দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পেছনে ও সামনে মানুষের নিন্দা করে)।"
"হুদহুদ," মাহদী আস্তে বলল, "আমি তো ঠাট্টা শুরু করিনি। আমি শুধু হেসেছিলাম।" হুদহুদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। "ঠাট্টাকারীর দরকার হয় দর্শক," সে শেষে বলল। "কেউ না হাসলে ঠাট্টা মরে যায়। যে হাসে, সে-ও দলে আছে, মাহদী।"
মাহদী মাটির দিকে তাকিয়ে রইল। তুই তো শুধু হেসেছিস। — কথাটা এখন আর নিজের গলায় শোনাচ্ছে না। এখন শোনাচ্ছে অন্য কারো গলায়। "ও আমাকে বলেছিল আমি কিছু করিনি," সে আস্তে বলল। "সে সবসময় সত্যি কথাটার অর্ধেক বলে," হুদহুদ বলল, "যেন সে তোমার صَدِيق(সাদিক — বন্ধু)। বাকি অর্ধেকটা লুকিয়ে রাখে। আজ তুমি পুরোটা জেনে ফেললে।" মাথার ভেতর দ্বিতীয়বার টুক শব্দ হলো।
"আর কেন মানুষ এমন করে জানো? পরের আয়াতেই আছে — ٱلَّذِىجَمَعَمَالًاوَعَدَّدَهُۥ(আল্লাযী জামাআ মালাও ওয়া আদ্দাদাহ — যে সম্পদ জমায় আর বারবার গোনে)।" "টাকার সাথে ঠাট্টার কী সম্পর্ক?" "গোনা মানেই তুলনা করা," হুদহুদ বলল। "যে রোজ গুনে দেখে তার কত আছে, সে একদিন দেখতে শুরু করে অন্যের কত কম আছে। আর তখনই মানুষ ছোট হয়ে যায় তার চোখে। সে ভাবে টাকাটা তাকে অমর করে দেবে — يَحْسَبُأَنَّمَالَهُۥٓأَخْلَدَهُۥ(ইয়াহসাবু আন্না মালাহু আখলাদাহ)।"
হুদহুদ মাহদীর কাঁধে এসে বসল। "সেনাপতি, শোনো। তোমার সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র তোমার তলোয়ার নয় — তোমার لِسَان(লিসান — জিভ)। এটা দিয়ে তুমি একজনকে দাঁড় করাতেও পারো, আবার এক লাইনে বসিয়ে দিতেও পারো। কাল ইউসুফের সাথে কী করবে?" মাহদী মাথা তুলল। "কাল আমি ওর পাশে বসব।" তারপর একটু ভেবে যোগ করল, "আর তাসমিয়াকে কিছু একটা বলতে হবে। ও-ই তো আমাকে থামিয়ে দিল।"
"তাহলে ঠিক কথাটা শিখে যাও।" হুদহুদ বলল। "বাংলায় আমরা বলি ধন্যবাদ। কিন্তু নবীজি (সা.) একটা আলাদা কথা শিখিয়েছেন — جَزَاكَاللَّهُخَيْرًا(জাযাকাল্লাহু খইরা)।" "মানে ধন্যবাদ?" "না। মানে — আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "পার্থক্যটা ধরো। ধন্যবাদ বললে হিসাবটা তোমার আর তার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জাযাকাল্লাহ বললে তুমি বলছ — তুই যা করেছিস তার দাম আমার কাছে নেই, তাই আমি আল্লাহর কাছে বিল পাঠিয়ে দিলাম।" মাহদী হেসে ফেলল। "নানার আড়তের হিসাবের মতো!" "অনেকটা।" হুদহুদও হাসল। "আর خَيْرًا শব্দটা চেনো তো?" "খইর! ভালো, কল্যাণ।" "তাহলে কাল সকালে তাসমিয়াকে বোলো।" হুদহুদ ডানা মেলল। "আর একটা কথা মনে রেখো, সেনাপতি — যে মানুষটা তোমাকে থামিয়ে দেয়, সে তোমার সবচেয়ে বড় উপকার করে। থামানোর কাজটা কঠিন।" 🗡️
🎯 আজ আমি যা শিখব
তাজবীদ: মীম সাকিন সূত্র ৩
সূরা আল-হুমাযাহ — আয়াত ১, ২, ৩, ৪, ৫
২০টি শব্দের অর্থ
আজকের গল্প আর কোথায় কাজে লাগাব
🔤 তাজবীদের জাদু
মীম সাকিন সূত্র ৩
مْ (মীম সাকিন)-এরও তিনটে নিয়ম — পরের হরফ দেখে ঠিক হয়।
🪄 সূত্রم-এর পরে م = ইদগাম · ب = ইখফা · বাকি সব = স্পষ্ট