গল্পকথক ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
দাদা নামাজ শেষে মাহদী দেখল দাদা জায়নামাজে বসে আছেন, চোখ বন্ধ। সে পাশে গিয়ে বসল, চুপচাপ।
দাদা অনেকক্ষণ পরে দাদা চোখ খুললেন। "কিছু বলবে?"
দাদা "দাদা, আমি সাব্বিরকে হারাতে চেয়েছিলাম।"
গল্পকথক "এখন কী চাও?"
গল্পকথক মাহদী একটু ভাবল। "এখন... আমি শুধু বুঝতে চাই।"
দাদা দাদা কিছু বললেন না। শুধু নাতির মাথায় হাত রাখলেন — অনেকক্ষণ ধরে।
গল্পকথক সেই রাতে কদরের আলো তখনো চারদিকে ছড়িয়ে। ম্যাপে দ্বিতীয় দ্বীপের অর্ধেক জ্বলে উঠেছে।
গল্পকথক "এই দুই সপ্তাহে তুমি দুই রকম জিনিস দেখলে," হুদহুদ বলল। "প্রথমে ভূমিকম্প, পাল্লা, কবর। তারপর কদরের রাত।"
গল্পকথক "কোনটা আসল, হুদহুদ?"
গল্পকথক "দুটোই।" হুদহুদ ডানা দুটো মেলে ধরল। "দেখো — একটা ডানা ভয়, আরেকটা ডানা আশা। শুধু ভয় থাকলে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। শুধু আশা থাকলে অলস হয়ে যায়।"
গল্পকথক সে ডানা ঝাপটে একটু উপরে উঠে গেল।
গল্পকথক "দুই ডানা থাকলেই পাখি ওড়ে।"
মাহদী "ছয় সপ্তাহ হয়ে গেল," মাহদী বলল। "আমি কি ঠিকমতো করছি, হুদহুদ?"
গল্পকথক "সেটা তুমিও জানো না, আমিও জানি না।" হুদহুদ সোজাসুজি বলল। "তাই ইবরাহীম (আ.) কাবা বানানোর সময় কী করেছিলেন জানো? ইট গাঁথতে গাঁথতে একটা কথা বারবার বলছিলেন।"
গল্পকথক رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম)।
গল্পকথক "হে আমাদের রব! আমাদের কাছ থেকে কবুল করুন — নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।"
গল্পকথক মাহদী থমকে গেল। "উনি কাবা বানাচ্ছিলেন! আল্লাহর ঘর! তবু ভয় পাচ্ছিলেন কবুল হবে না বলে?"
গল্পকথক "হ্যাঁ।" হুদহুদের গলা নরম হলো। "আর এইজন্যই দুআটা এত দামি, সেনাপতি। কাজ করা আর কাজ কবুল হওয়া দুটো আলাদা জিনিস। তুমি ছয় সপ্তাহ পড়েছ — সেটা তোমার হাতে ছিল। কবুল হওয়াটা তাঁর হাতে।"
গল্পকথক "তাহলে আমি কী করব?"
গল্পকথক "যা ইবরাহীম (আ.) করেছিলেন। কাজটা করবে, তারপর চেয়ে নেবে।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "খেয়াল করো, শেষে বলা হয়েছে ٱلسَّمِيع — সর্বশ্রোতা। ইট গাঁথার আওয়াজের ভেতরেও তিনি ফিসফিসানিটা শুনেছিলেন।" 🕊️