ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে। নামাজ শেষে মাহদী শব্দের ঝুড়ি খুলল আর গুনল। দুইশো এগারো। সে নতুন পাতায় এই সপ্তাহের শব্দগুলো সাজিয়ে লিখল, জোরে জোরে পড়তে পড়তে: مِصْبَاح (মিসবাহ — প্রদীপ) · نَذِير (নাযীর — সতর্ককারী) · خَزَنَة (খাযানাহ — রক্ষীরা); نَعْقِلُ (না'কিলু — আমরা আক্কেল খাটাই) · مَغْفِرَة (মাগফিরাহ — ক্ষমা) · بِٱلْغَيْبِ (বিল-গইব — না-দেখা অবস্থায়)। নাশতার টেবিলে দাদা কাগজ পড়ছিলেন। মাহদী পাশে বসল। "দাদা, একটা কথা বলব?" "বলো।" "কাল দুপুরে বাড়িতে কেউ ছিল না। আমি একা নামাজ পড়েছি।" দাদা কাগজটা নামালেন।
তিনি কিছু বললেন না। শুধু হাত বাড়িয়ে নাতির মাথায় রাখলেন — অনেকক্ষণ। তারপর বললেন, "দাদুভাই, তুমি জানো তোমার দাদা আটচল্লিশ বছর বয়সে কী করেছিল?" "জানি।" "আর তুমি নয় বছর বয়সে কী করলে?" মাহদী কিছু বলল না। দাদা কাগজটা আবার তুললেন। কিন্তু মাহদী দেখল, উনি পড়ছেন না। 🤍
সেই রাতে ম্যাপের চতুর্থ দ্বীপটা পুরো সোনালি হয়ে জ্বলে উঠল! 🛡️ কিন্তু আজ আলোটা আর ঝাপসা নয়। পরিষ্কার। হুদহুদ চতুর্থ সোনালি টুকরোটা ঢালে বসিয়ে দিল। খট। "চার টুকরো। আর মাত্র দুইটা বাকি।" তারপর সে মাহদীর সামনে এসে দাঁড়াল।
"এই দ্বীপে কী কী পেলে, সেনাপতি?" মাহদী গুনতে লাগল। "এক — যা দেখি না, তা-ও সত্যি হতে পারে। কিন্তু ডার্ক ম্যাটার জিন নয়।" "দুই — আল্লাহর নামে না জেনে কিছু বলা যাবে না। কোন আয়াতে? কোন হাদিসে?" "তিন — ফেরেশতারা সারি বেঁধে দাঁড়ান। আমিও রোজ দাঁড়াই।" "চার — আকাশে পাহারা আছে। গায়েবের খবর চুরি হয় না।" "পাঁচ — মানুষ নিজের ক্ষমতায় এক ইঞ্চিও উপরে ওঠেনি।" "ছয় — আকাশে কোনো ফাটল নেই। কিন্তু তাকাতে বলা হয়েছে।" "সাত — জাহান্নামের রক্ষীরা একটাই প্রশ্ন করবে: সতর্ককারী আসেনি?" "আট — যদি শুনতাম, যদি আক্কেল খাটাতাম..." সে থামল।
"আর নয়?" হুদহুদ জিজ্ঞেস করল। মাহদী অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল — "নয় — যখন কেউ দেখছে না, তখন যা করি, সেটাই আমি।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "এই নয়টার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কোনটা?" "শেষেরটা।" "কেন?" "কারণ বাকি আটটা জানার ব্যাপার। শেষেরটা করার ব্যাপার।"
হুদহুদ কিছুক্ষণ কিছু বলল না। তারপর সে দূরে সমুদ্রের দিকে তাকাল। কুয়াশার ভেতর একটা দ্বীপ — আর এবারেরটা সোনার মতো ঝলমল করছে, রাজপ্রাসাদের মতো। "সামনে রাজত্বের দ্বীপ 👑।" "সেখানে কী আছে?" "সূরা মূলকের বাকি আঠারোটা আয়াত। আর তারপর..." হুদহুদ থামল। "তারপর?" "তারপর কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত।" মাহদী সোজা হয়ে দাঁড়াল। "আয়াতুল কুরসি!" "যেটা তোমার দাদি চল্লিশ বছর ধরে রোজ রাতে পড়েন।" হুদহুদ ডানা মেলল।
"আর এই দ্বীপের জিনিসটা?" মাহদী জিজ্ঞেস করল। হুদহুদ তার হাতে দিল ছোট্ট এক ঘণ্টা — এত ছোট যে বাজালেও শব্দ প্রায় শোনা যায় না। মাহদী নাড়ল। টুং। এইটুকুই। "এটা কোনো শত্রু তাড়ায় না," হুদহুদ আগেভাগেই বলে দিল। "ঘণ্টার নিজের কোনো ক্ষমতা নেই। পাহারা বসান আল্লাহ, ঘণ্টা নয়। এটা তাবিজও নয়, ভুলেও গলায় ঝুলিয়ো না।" "তাহলে এটা কী করে?" "শুধু মনে করিয়ে দেয়। রাতে শোয়ার সময় ভুলে গেলে এইটুকু শব্দে মনে পড়বে — আয়াতুল কুরসি পড়া বাকি।" সে ঝুঁটি নাড়ল। "দাদির চল্লিশ বছরের অভ্যাস একদিনে আসেনি, সেনাপতি। শুরুর দিকে সবারই একটা ঘণ্টা লাগে।"
"আর ওই দ্বীপ থেকে ফেরার পর, সেনাপতি — রাতে তোমার ঘরে পাহারা বসবে।" 👑