গল্পকথক হুদহুদ কোথা থেকে যেন একটা পুরনো কাঠের সিন্দুক টেনে আনল।
গল্পকথক "এই সপ্তাহে তুমি তিনটে সূরা শিখেছ। সিন্দুকটা খুলবে তখনই, যখন তিনটেই না দেখে বলতে পারবে। নিয়ম হলো নিয়ম!" সে ভুরু নাচাল।
গল্পকথক (ভেতরে কী আছে জানো? একটা ম্যাপ।)
গল্পকথক "ছয়টা দ্বীপ," হুদহুদ বলল। "আর একদম শেষ কোণে..."
গল্পকথক সে থেমে গেল। ম্যাপের শেষে আঁকা একটা গুহা। নিচে লেখা: ٱلْكَهْف (আল-কাহফ — গুহা)।
গল্পকথক "ওখানেই শেষ যুদ্ধ। ওখানেই তুমি ছায়াটার আসল নাম জানবে। আর বুঝবে কেন নবীজি (সা.) বলেছেন — যে সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে ওই ছায়া থেকে নিরাপদ।"
গল্পকথক 📚 সহীহ মুসলিম ৮০৯
গল্পকথক ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
গল্পকথক মাহদী ধড়মড় করে উঠে বসল। কায়দাটা এখনো বুকের উপর। জানালা দিয়ে ভোরের আলো ঢুকছে।
তাসমিয়া নাশতার টেবিলে তাসমিয়া বলল, "ভাইয়া, তুমি ঘুমের মধ্যে কথা বলছিলে! ফাতিহা, ফাতিহা বলছিলে।"
ছায়া মাহদী কিছু বলল না। কিন্তু সারাদিন মাথার ভেতর একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেল। সন্ধ্যায় সে দাদার কাছে গেল।
দাদা "দাদা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি? আপনি তো বিজ্ঞানের অধ্যাপক। বিজ্ঞান আর কুরআন — দুটো কি একসাথে মেলে?"
দাদা দাদা চায়ের কাপ নামিয়ে রাখলেন। অনেকক্ষণ চুপ থেকে বললেন —
গল্পকথক "আমি চল্লিশ বছর বিজ্ঞান পড়িয়েছি, দাদুভাই। একটা কথা বলি, মনে রেখো।"
গল্পকথক "আমি যখন ছাত্র ছিলাম, বইয়ে লেখা ছিল পরমাণু ভাঙা যায় না। আজকের বইয়ে লেখা — যায়। একসময় লিখত মহাবিশ্ব স্থির। আজ লেখে — সে বাড়ছে।"
গল্পকথক "তার মানে বিজ্ঞান মিথ্যা?" মাহদী অবাক।
দাদা "না না!" দাদা হেসে ফেললেন। "বিজ্ঞান ভুল করে, তারপর নিজেই নিজেকে শুধরে নেয় — এটাই তো তার সৌন্দর্য! এজন্যই আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি।"
গল্পকথক "কিন্তু," তিনি আঙুল তুললেন, "কুরআনের একটা অক্ষরও চৌদ্দশো বছরে বদলায়নি।"
গল্পকথক "তাই একটা ভুল কখনো কোরো না — কুরআনকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করতে যেয়ো না। আজকের যে তত্ত্ব দিয়ে প্রমাণ করবে, একশো বছর পর সেটাই যদি বদলে যায়, তখন কী হবে?"
গল্পকথক "তাহলে কী করব?"
ছায়া "উল্টোটা করো। কুরআন পড়ে অবাক হও — তারপর বিজ্ঞান পড়তে ছোটো।" দাদার চোখ চকচক করে উঠল। "ইসলাম বিজ্ঞানের শত্রু নয়, দাদুভাই। ইসলামই তো সবার আগে বলেছিল — ٱقْرَأْ! পড়ো!"
গল্পকথক মাহদী সেই রাতে অনেকক্ষণ জেগে রইল। 🌙