গল্পকথক ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
গল্পকথক নামাজ শেষে মাহদী উঠানের কোণে গেল — যেখানে সেই মাটির টবটা রাখা।
গল্পকথক সে ঝুঁকে দেখল।
তাসমিয়া তারপর দৌড়ে ঘরে ঢুকে চেঁচিয়ে উঠল, "তাসমিয়া! উঠেছে!"
গল্পকথক দুজনে দৌড়ে গিয়ে বসল টবের সামনে।
গল্পকথক শুকনো মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে একটা সবুজ ডগা — এত ছোট যে ভালো করে না তাকালে দেখাই যায় না।
তাসমিয়া তাসমিয়া নাক প্রায় মাটিতে ঠেকিয়ে ডগাটা দেখল। তারপর গম্ভীর মুখে ঘোষণা করল, "আমি যদি সারারাত জেগে থাকতাম, এটাকে উঠতে দেখতে পেতাম।"
গল্পকথক "তুই তো সাতটা বাজলেই ঘুমিয়ে পড়িস।"
গল্পকথক "সেটা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।"
গল্পকথক মাহদী হেসে ফেলল। তারপর বলল, "শোন, একটা শব্দ শিখিয়ে দিই। ٱلنُّشُور (আন-নুশূর — মাটি ফুঁড়ে উঠে আসা, ছড়িয়ে পড়া)।"
তাসমিয়া তাসমিয়া কয়েকবার আওড়াল। তারপর জিজ্ঞেস করল, "মানুষও কি এভাবে উঠবে?"
গল্পকথক মাহদী থেমে গেল। প্রশ্নটা মেয়েটা এত সহজে করল, অথচ উত্তর দিতে গিয়ে তার বুকটা কেঁপে উঠল।
গল্পকথক "হ্যাঁ," সে আস্তে বলল। "ঠিক এভাবেই।"
গল্পকথক মাহদী খাতা এনে তারিখ লিখল। তারপর নিচে লিখল আয়াতটা:
গল্পকথক وَإِلَيْهِ ٱلنُّشُورُ
তাসমিয়া "এটার মানে বলেছিলে," তাসমিয়া বলল। "যেটা মরে গেছে, সেটা আবার উঠে দাঁড়াবে।"
গল্পকথক "হ্যাঁ।"
তাসমিয়া তাসমিয়া ডগাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
গল্পকথক "ভাইয়া, তাহলে করিম চাচাও উঠে দাঁড়াবেন?"
গল্পকথক মাহদী বোনের দিকে তাকাল। তারপর মাটির ডগাটার দিকে।
গল্পকথক "হ্যাঁ," সে বলল। "উঠে দাঁড়াবেন।" 🌱
গল্পকথক সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। রাজত্বের দ্বীপের দ্বিতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে।
গল্পকথক "এই সপ্তাহের হিসাব দাও, সেনাপতি।"
গল্পকথক মাহদী গুনতে লাগল।
গল্পকথক "এক — রিজিক যাঁর হাতে, তিনি ধরে রাখতেও পারেন। তাই মাথা তুলে হাঁটতে হয়।"
গল্পকথক "দুই — কান, চোখ, অন্তর। আর কান সবসময় আগে।"
গল্পকথক "তিন — কিয়ামত কবে, নবীজিও (সা.) জানতেন না।"
গল্পকথক "চার — আমরা কারো ব্যাপারে রায় দিই না। আমরা বলি মরহুম।"
গল্পকথক হুদহুদ মাথা কাত করল। "এই চারটার মধ্যে মিল কী?"
গল্পকথক মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল।
গল্পকথক "চারটেই... আমি জানি না নিয়ে?"
গল্পকথক "আরও ভালো করে ভাবো।"
গল্পকথক মাহদী আবার ভাবল।
গল্পকথক "চারটেই বলছে — কিছু জিনিস আমার হাতে নেই। আর সেটা ঠিক আছে।"
গল্পকথক হুদহুদ ধীরে ধীরে ডানা মেলল।
গল্পকথক "সেনাপতি, তুমি এই দ্বীপের নামটা এখন পুরোপুরি বুঝে ফেলেছ।"
গল্পকথক "রাজত্ব কার — সেটাই যদি ঠিক থাকে, বাকি সব ঠিক হয়ে যায়।"
গল্পকথক তারপর সে দূরে তাকাল, আর তার গলাটা বদলে গেল।
গল্পকথক "সামনের সপ্তাহে সূরা মূলক শেষ হবে, মাহদী। আঠারো সপ্তাহে এই প্রথম একটা লম্বা সূরা তুমি পুরোটা শেষ করবে।"
গল্পকথক মাহদী সোজা হয়ে দাঁড়াল।
গল্পকথক "আর তারপর?"
গল্পকথক হুদহুদের চোখ চকচক করে উঠল।
গল্পকথক "আর তারপর, সেনাপতি — কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত।"
গল্পকথক "আয়াতুল কুরসি?"
গল্পকথক "যেটা তোমার দাদি রোজ রাতে পড়েন। যেটা পড়লে সকাল পর্যন্ত একজন পাহারাদার তোমার সাথে থাকে।"
গল্পকথক হুদহুদ ডানা মেলল।
গল্পকথক "প্রস্তুত হও। আগামী সপ্তাহে তোমার ঢালে পঞ্চম টুকরোটা বসবে।"
গল্পকথক কিন্তু যাওয়ার আগে মাহদী থেমে গেল। "হুদহুদ, একটা কথা জিজ্ঞেস করি? সেদিন করিম চাচার জানাজায় সবাই দাঁড়িয়ে ছিল। ইমাম সাহেব চুপচাপ কী যেন পড়লেন। আমি কিছুই বুঝিনি।"
গল্পকথক হুদহুদ ডানা নামিয়ে নিল। "জিজ্ঞেস করেছ ভালো করেছ। এই দুআটা আমরা সবার শেষে শিখি — অথচ একদিন সবার জন্যই কেউ না কেউ এটা পড়বে।"
গল্পকথক اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا (আল্লাহুম্মাগফির লিহাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা — হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন আমাদের জীবিতদের আর মৃতদের)।
গল্পকথক "শুরুতেই জীবিতদের?" মাহদী অবাক। "জানাজা তো মৃত মানুষের জন্য!"
গল্পকথক "এইটাই দুআটার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা।" হুদহুদ বলল। "শোনো বাকিটা — وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا (যারা উপস্থিত আর যারা অনুপস্থিত), وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا (ছোট আর বড়), وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا (পুরুষ আর নারী)।"
গল্পকথক মাহদী শব্দগুলো শুনতে শুনতে বুঝে ফেলল। "সবাইকে... সবাইকে টেনে নেওয়া হচ্ছে!"
গল্পকথক "সবাইকে।" হুদহুদের ঝুঁটি একবার কেঁপে উঠল। "একজন মানুষ শুয়ে আছেন, আর তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে আমরা গোটা গ্রামের জন্য ক্ষমা চাইছি — যারা এসেছে, যারা আসেনি, যারা এখনো জন্মায়নি।"
গল্পকথক "তাহলে জানাজা শুধু বিদায় না?"
গল্পকথক "না, সেনাপতি।" হুদহুদ ডানা মেলল। "জানাজা হলো একটা মিছিল — যেখানে সামনের মানুষটা আগে রওনা দিয়েছেন, আর পেছনের সবাই তাঁর জন্য দোয়া করতে করতে নিজেদের কথাটাও বলে ফেলছে।" 👑