ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে। নামাজ শেষে মাহদী শব্দের ঝুড়ি খুলল। এই সপ্তাহে যোগ হয়েছে অনেকগুলো। সে জোরে জোরে পড়তে লাগল — যেন কাউকে শোনাচ্ছে: ٱنشَقَّتْ (ইনশাক্কাত — ফেটে গেল) · وَرْدَة (ওয়ারদাহ — গোলাপ) · ذَنْب (যাম্ব — গুনাহ); تَبَارَكَ (তাবারাকা — বরকতময়) · ٱلْمُلْك (আল-মুলক — রাজত্ব) · قَدِير (কাদীর — সর্বশক্তিমান); ٱلْمَوْت (আল-মাওত — মৃত্যু) · ٱلْحَيَاة (আল-হায়াত — জীবন) · بَصَر (বাসার — দৃষ্টি) · فُطُور (ফুতূর — ফাটল)। দরজার আড়াল থেকে হঠাৎ একটা গলা — "তাবারাকা!" মাহদী ঘুরে তাকাল। তাসমিয়া দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, দাঁত বের করে হাসছে।
"তুই কতক্ষণ ধরে শুনছিস?" "রোজ শুনি।" সে কাঁধ ঝাঁকাল। "ফুতূর মানে ফাটল, তাই না? আর বাসার মানে চোখের দেখা।" মাহদী হাঁ হয়ে গেল। "তোকে তো আমি এগুলো শেখাইনি!" "শেখাওনি। কিন্তু তুমি প্রত্যেকদিন সকালে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে পড়ো।" তাসমিয়া মুখ বাঁকাল। "না শিখে উপায় আছে?"
"ভাইয়া, আমার ঝুড়িতে এখন নয়টা।" "বল তো তিনটা।" "نُور — আলো। مَاء — পানি। قَمَر — চাঁদ।" মাহদী অবাক। "কমার তো আমি শেখাইনি!" "হুজুর শিখিয়েছেন। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম।" তাসমিয়া কাঁধ ঝাঁকাল। মাহদী কিছুক্ষণ বোনের দিকে তাকিয়ে রইল। "তুই আমার চেয়ে ভালো ছাত্রী," সে বলল।
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। ঢালের দ্বীপের তৃতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে। "এই সপ্তাহে কী পেলে বলো তো।" "আকাশ ফাটবে গোলাপের মতো। কিছু জিনিস লুকানো যায় না। রাজত্ব আল্লাহর হাতে। আর..." — মাহদী থামল। "আর?" "আর দুইবার তাকাতে বলা হয়েছে।" হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "এই সপ্তাহে আসলে কী শিখেছ, বলো তো?" মাহদী একটু ভাবল।
"শব্দ," সে বলল। "এই সপ্তাহে আমি সবচেয়ে বেশি শব্দ শিখেছি।" "আর শব্দ শেখা কেন এত জরুরি?" "কারণ..." মাহদী থেমে ভাবল। "কারণ শব্দ না জানলে আয়াতটা শুধু আওয়াজ।" হুদহুদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর নরম গলায় বলল —
"পনেরো সপ্তাহ আগে এই ঘাটে আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, মনে আছে? رَبِّ মানে কী?" "মনে আছে। আমি চুপ করে ছিলাম।" "আর আজ তোমার ঝুড়িতে কতগুলো?" "একশো নব্বই।" হুদহুদ ডানা মেলল।
"সামনের সপ্তাহে সূরা মূলকের আরও চারটে আয়াত। আর একটা শব্দ আসবে যেটা শুনে তুমি চমকে যাবে।" "কোন শব্দ?" "نَذِير।" হুদহুদ বলল। "সতর্ককারী। আর সেদিন তুমি জানবে — জাহান্নামের দরজায় কারা দাঁড়িয়ে থাকবে, আর তারা কী প্রশ্ন করবে।" 🛡️