ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে। মসজিদে গিয়ে মাহদী আজ সফে দাঁড়াল অন্যরকম করে। কাঁধে কাঁধ, পায়ে পা — সত্যিই মিলিয়ে। তার পাশে দাঁড়িয়েছিল একটা অচেনা ছেলে, বয়সে বড়। মাহদী তাকাল একবার। নামাজ শেষে ছেলেটা জিজ্ঞেস করল, "তুমি এত সোজা হয়ে দাঁড়ালে কেন?" "কারণ ফেরেশতারাও সারি বেঁধে দাঁড়ান," মাহদী বলল। "নবীজি (সা.) তাই বলেছেন।" ছেলেটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, "কোন হাদিসে?" মাহদী হেসে ফেলল। "সহীহ মুসলিম। দাদা বলেছেন।" "তুমি ভালো প্রশ্ন করলে," সে যোগ করল। 🕌
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। ঢালের দ্বীপের দ্বিতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে। "এই সপ্তাহে তুমি আকাশের চারটে জিনিস দেখেছ," হুদহুদ বলল। "বলো তো।" "এক — ফেরেশতাদের সারি।" "দুই — উদয়স্থলগুলো। সূর্য রোজ এক জায়গায় ওঠে না।" "তিন — তারার পাহারা, আর শয়তানের কান পাতা।" "চার — সীমানা পেরোনোর চ্যালেঞ্জ।"
"চমৎকার। এবার একটা কঠিন প্রশ্ন।" হুদহুদ মাথা কাত করল। "এই চারটের মধ্যে তিনটেতেই তোমাকে কেউ না কেউ থামিয়েছে। কেন?" মাহদী ভাবল। "কারণ তিনটেতেই মানুষ বাড়িয়ে বলে," সে আস্তে বলল। "তারা খসা নিয়ে, রকেট নিয়ে, সূর্য নিয়ে।" "আর তুমি বাড়িয়ে বললে কী হতো?" "একদিন কেউ প্রশ্ন করত। আর আমি উত্তর দিতে পারতাম না।" হুদহুদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
"মাহদী, এই সপ্তাহে তুমি আসলে আকাশ শেখোনি।" "তাহলে কী শিখেছি?" "শিখেছ কোথায় থামতে হয়। আর একজন সেনাপতির জন্য এটাই সবচেয়ে কঠিন প্রশিক্ষণ।" সে দূরে তাকাল। "সামনের সপ্তাহে سُورَة (সূরা — কুরআনের অধ্যায়) আর-রহমান শেষ করব। তারপর..." — সে থামল। "তারপর?" হুদহুদের চোখ চকচক করে উঠল।
"তারপর একটা সূরা শুরু হবে যেটা রাতে তোমার حِرَاسَة (হিরাসা — পাহারা, প্রহরা) দেবে। ত্রিশ আয়াত। চার সপ্তাহ লাগবে।" "নাম কী?" "ٱلْمُلْك।" হুদহুদ ডানা মেলল। "রাজত্ব।" 👑