গল্পকথক ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
গল্পকথক নামাজ শেষে মাহদী রান্নাঘরে গিয়ে একটা বাটিতে ভাত আর মাছের কাঁটা নিল।
আম্মু "কোথায় যাচ্ছ এত সকালে?" আম্মু জিজ্ঞেস করলেন।
গল্পকথক "মাদ্রাসার পেছনে। একটা কুকুরছানা আছে।"
আম্মু সে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তারপর থেমে ফিরে এল। "আম্মু, আমি সাব্বিরকেও ডেকে নিই?"
গল্পকথক "নাও।"
তাসমিয়া দরজার পেছন থেকে তাসমিয়া বেরিয়ে এল, চুল উস্কোখুস্কো। "আমিও যাব।"
গল্পকথক "তুই তো কুকুর ভয় পাস।"
গল্পকথক "পাই না।" একটু থেমে, "একটু পাই। কিন্তু নাম দেওয়ার সময় ভয় লাগে না।"
গল্পকথক সারা রাস্তা সে নাম নিয়ে ভাবল। শেষে ঘোষণা করল, "ওর নাম দেব ভুসি।"
গল্পকথক "ভুসি?!"
তাসমিয়া "তুমিই তো বলেছিলে ভুসি মানে হালকা, বাতাসে উড়ে যায়।" তাসমিয়া কুকুরছানাটার দিকে দেখাল — হাড্ডিসার, শীতে কাঁপছে। "দেখো, ও-ও এক্ষুনি উড়ে যাবে মনে হচ্ছে।"
গল্পকথক মাহদী হাসতে হাসতে বসে পড়ল। মেয়েটা সূরা ফীলের শব্দটা মনে রেখেছে — অথচ সে কোনোদিন ওকে শেখায়নি। শুনে শুনে শিখে ফেলেছে।
গল্পকথক সেদিন বাটি হাতে তিনজন গেল।
গল্পকথক কুকুরছানাটা প্রথমে ভয় পেয়ে সরে গেল। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
গল্পকথক সাব্বির চুপ করে দেখছিল। শেষে বলল, "কাল যে পাথর ছুঁড়েছিল, ওকেও কাল ডাকব?"
গল্পকথক মাহদী হাসল। "ডাক।" 🐕
গল্পকথক সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। তৃতীয় দ্বীপের দ্বিতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে।
গল্পকথক "এই সপ্তাহে তুমি তিনটে জিনিস শিখেছ," সে বলল। "বলো তো কী কী?"
গল্পকথক মাহদী গুনল। "এক — সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা ভেতরে। দুই — চুপ করে থাকাও একটা কাজ। তিন — যে দেয়, তার রাস্তা সহজ হয়।"
গল্পকথক "চমৎকার।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "আর এই তিনটে কি আলাদা আলাদা, নাকি একই জিনিস?"
গল্পকথক মাহদী কিছুক্ষণ ভাবল।
গল্পকথক "একই জিনিস," সে আস্তে বলল। "সবগুলোই... নিজের ভেতরের গলাটা কোনটা শুনব।"
গল্পকথক হুদহুদ অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
গল্পকথক তারপর বলল, "মাহদী, নয় সপ্তাহ আগে তুমি জানতে না رَبِّ মানে কী।"
গল্পকথক মাহদী কান লাল করে মাটির দিকে তাকাল।
গল্পকথক "সামনের সপ্তাহে সূরা লাইলের বাকিটা," হুদহুদ বলল। "আর সেখানে একটা আয়াত আছে..."
গল্পকথক সে থেমে গেল, মাথা কাত করল।
গল্পকথক "...যেখানে আল্লাহ নিজের একটা দায়িত্বের কথা বলেছেন। আর দায়িত্বটার নাম ٱلْهُدَىٰ।"
গল্পকথক মাহদী মাথা তুলল। 💪