ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে। কিন্তু আজ মাহদী তাড়াতাড়ি উঠল না, বিছানায় বসে রইল কিছুক্ষণ। কাল রাতে সে একটা নাম শিখেছে — নামটা এখনো বুকের ভেতর ভারী হয়ে আছে, একটা চাপা خَوْف (খাওফ — ভয়) এর মতো।
নামাজ শেষে সে আম্মুর কাছে গেল। "আম্মু, আমার একটু ভয় লাগছে।" আম্মু জায়নামাজ ভাঁজ করছিলেন, থেমে গেলেন। "কীসের ভয়, বাবা?" মাহদী কীভাবে বলবে বুঝতে পারল না, শেষে বলল, "দুনিয়ায় অনেক মিথ্যা, তাই না?"
আম্মু তার পাশে বসলেন। "অনেক। কিন্তু একটা কথা শোনো," তিনি জায়নামাজটা মাহদীর কোলে রাখলেন। "মিথ্যার একটা সমস্যা আছে — তাকে সবসময় নতুন নতুন সাজতে হয়। আর حَقّ (হক — সত্য) কে সাজতে হয় না, সে যেমন আছে তেমনই থাকে। তাই মিথ্যা ক্লান্ত হয়ে যায়, সত্য হয় না।"
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল — তৃতীয় দ্বীপের প্রথম গ্রামটা জ্বলে উঠেছে। "এই সপ্তাহে কী কী পেলে, বলো তো?" মাহদী গুনতে লাগল। "একটা প্রশ্ন — কেউ ভালো কাজ করলে অন্যের গায়ে জ্বালা ধরে কেন। একটা নাম — যেটা আমি বলতে চাই না। আর একটা অস্ত্র।" "অস্ত্রটা কী?" মাহদী মাটির দিকে তাকাল। "সিজদা।"
"শাবাশ," হুদহুদ ঝুঁটি ফোলাল। "আর মনে রেখো — তুমি এখন যা জানো, তা জানার পরে আর না-জানা যায় না। নাম জেনে ফেলাটাই প্রথম সুরক্ষা। যাকে চেনো না, তাকে ঠেকাবে কীভাবে?"
সে দূরে তাকাল। "সামনের সপ্তাহে সূরা শামসের বাকিটা। আর সেখানে তুমি শিখবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্রটা কোথায়।" "কোথায়?" হুদহুদ ডানা দিয়ে মাহদীর বুকের দিকে ইশারা করল। 💪