ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
নামাজ শেষে মাহদী খাতা খুলে নতুন একটা পাতা বের করল। উপরে লিখল: কষ্টের ডায়েরি। প্রথম লাইনে লিখল — "অভিভাবক দিবস। আব্বু আসেননি।" তারপর পাশে ছোট করে লিখল — "রাত তিনটায় আব্বু ফোন করেছিলেন।" সে খাতাটা বন্ধ করে বালিশের নিচে রাখল।
নাশতার টেবিলে তাসমিয়া বলল, "ভাইয়া, কাল আমার ঘরে আসবে? আমি একটা ছবি এঁকেছি, তোমাকে দেখাতে চেয়েছিলাম।" মাহদী উঠে দাঁড়াল। "এখনই চল।" তাসমিয়ার ঘরের দরজায় গিয়ে সে থামল। তারপর নক করল। তাসমিয়া হেসে ফেলল। "ভাইয়া! এটা তো আমার ঘর, তুমি এমনিই ঢুকতে পারো!" "না," মাহদী বলল। "পারি না।" 🚪
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। তৃতীয় গ্রামটা জ্বলে উঠেছে। "এই সপ্তাহটা আলাদা ছিল, খেয়াল করেছ?" মাহদী মাথা নাড়ল। "ভূমিকম্প নেই। পাল্লা নেই। কবর নেই।" "ঠিক। এই সপ্তাহে আল্লাহ শুধু তোমাকে বলেছেন — তুমি কে।" হুদহুদ আঙুল গুনতে লাগল ডানার পালক দিয়ে। "তুমি আহসানি তাকভীম। তোমার হাতেই স্টিয়ারিং। তোমার কষ্টের সাথেই স্বস্তি বসে আছে। আর কাজ শেষ হলে তোমাকে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে।" সে মাহদীর দিকে তাকাল। "সেনাপতি হতে গেলে শুধু শত্রু চেনা যথেষ্ট নয়। নিজেকে চেনাও লাগে।" তারপর সে দূরে সমুদ্রের দিকে তাকাল, আর গলাটা বদলে গেল।
কষ্টের ডায়েরিটা বন্ধ করার আগে মাহদী শেষ পাতায় আরেকটা লাইন লিখল — "বুকটা এখনো ভারী।" সেই রাতে হুদহুদ ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে বলল, "একটা তালিকা শোনাই? নবীজি (সা.) রোজ সকাল-সন্ধ্যা আটটা জিনিস থেকে আশ্রয় চাইতেন। اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ (আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান) — দুশ্চিন্তা আর বিষণ্ণতা।" "দুটো আলাদা?" মাহদী জিজ্ঞেস করল। "একদম আলাদা।" হুদহুদ বলল। "هَمّ হলো যা এখনো হয়নি তা নিয়ে ভয় — আব্বু ফিরবেন তো? আর حَزَن হলো যা হয়ে গেছে তা নিয়ে কষ্ট — আজ উনি আসেননি। একটা সামনের দিকে তাকায়, আরেকটা পেছনে।"
মাহদী নিজের ডায়েরির দুটো লাইনের দিকে তাকাল। একটা কাল রাতের, একটা আজকের। "আর বাকি ছয়টা?" সে জিজ্ঞেস করল। "عَجْز অক্ষমতা, كَسَل অলসতা, بُخْل কৃপণতা, جُبْن ভীরুতা, ঋণের বোঝা, আর মানুষের চাপ।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "আটটা শত্রু, সেনাপতি। কোনোটাই তলোয়ার দিয়ে মারা যায় না।" "সামনের সপ্তাহে আমরা একটা গুহায় যাব, মাহদী। ওখানেই সব শুরু হয়েছিল।" 💪