গল্পকথক ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে।
তাসমিয়া নামাজ শেষে মাহদী তাসমিয়ার ঘরে গিয়ে অঙ্কের খাতাটা টেনে নিল।
তাসমিয়া "কী হলো?" তাসমিয়া চোখ কচলাল।
গল্পকথক "পরেরটা বুঝিসনি বলেছিলি।"
গল্পকথক "এখন? এত সকালে?"
আম্মু "এখন," মাহদী পেন্সিল বের করল। "এখন আম্মু ঘুমাচ্ছেন।"
তাসমিয়া তাসমিয়া সন্দেহের চোখে তাকাল। "বিনিময়ে কী চাও?"
গল্পকথক "বিনিময়?"
গল্পকথক "তুমি এমনি এমনি কিছু করো না।"
গল্পকথক মাহদী হেসে ফেলল। "ঠিক আছে। বিনিময়ে তুই আমাকে একটা প্রশ্ন করবি। যেকোনো প্রশ্ন।"
তাসমিয়া তাসমিয়া এক সেকেন্ডও ভাবল না। "পিঁপড়ারা কি নামাজ পড়ে?"
গল্পকথক মাহদী পেন্সিলটা নামিয়ে রাখল। "...আগে অঙ্কটা করি।"
তাসমিয়া তাসমিয়া কিছুই বুঝল না। কিন্তু অঙ্কটা বুঝে গেল। ✏️
গল্পকথক সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। দ্বিতীয় দ্বীপের এক কোণ জ্বলে উঠেছে।
গল্পকথক "এই সপ্তাহে তুমি শিখলে — পৃথিবী সাক্ষী দেয়, অণু পরিমাণও ওজন হয়, বুকের ভেতরটাও খুলে যাবে, আর সাইরেন ছাড়াই একদিন সব শেষ হবে।"
গল্পকথক সে মাহদীর মুখের দিকে তাকাল। "কঠিন লাগছে?"
গল্পকথক মাহদী মাথা নাড়ল। "একটু ভয় লাগছে।"
গল্পকথক "লাগারই কথা।" হুদহুদ ডানা ভাঁজ করল। "কিন্তু একটা কথা মনে রেখো — আল্লাহ ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেন না। এই দ্বীপটা শেষ হবে এমন এক রাত দিয়ে, যা হাজার মাসের চেয়েও ভালো।"
গল্পকথক "তার মানে?"
মাহদী "হুদহুদ, এই দ্বীপে সবকিছু ওজন হয়," মাহদী বলল। "সবচেয়ে হালকা জিনিস দিয়ে পাল্লা ভরানো যায় না?"
গল্পকথক "যায়।" হুদহুদ দুই ডানা মেলল। "নবীজি (সা.) বলেছেন — জিভে সবচেয়ে হালকা, পাল্লায় সবচেয়ে ভারী, আর রহমানের কাছে সবচেয়ে প্রিয় — দুটো কথা।"
গল্পকথক سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ — আল্লাহ পবিত্র, আর সব প্রশংসা তাঁরই)।
গল্পকথক "এইটুকু?" মাহদী বিশ্বাস করতে পারল না।
গল্পকথক "এইটুকু। বলতে দুই সেকেন্ড লাগে।" হুদহুদ পাল্লাটার দিকে তাকাল। "দিনে একশোবার বললে গুনাহ ঝরে যায় — সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও।"
গল্পকথক মাহদী মনে মনে গুনল। "একশোবার... দুই সেকেন্ড করে... তিন মিনিটেরও কম!"
গল্পকথক "তুমি সাইকেল চালাতে চালাতে বলতে পারো। ভাত রান্না হওয়ার অপেক্ষায় বলতে পারো।" হুদহুদ ঝুঁটি নাড়ল। "এই দ্বীপে তুমি ভারী জিনিস খুঁজছিলে, সেনাপতি। অথচ সবচেয়ে ভারী জিনিসটা এত হালকা যে তোমার কিছুই খরচ হয় না।"
গল্পকথক "ধৈর্য ধরো। কঠিন কথার পরে সবসময় একটা দরজা খোলা থাকে।" ✨