ঘুম ভাঙল ফজরের আজানে। নামাজ শেষে মাহদী উঠানে গিয়ে দেখল — আকাশ পরিষ্কার। সে একটা কাগজের ঠোঙা নিল, তারপর গেটের বাইরে গেল।
কাল যে জায়গাটায় পা কেটেছিল, সেখানে বসে সে এক এক করে কাচের টুকরোগুলো তুলে ঠোঙায় ভরল। মোট এগারো টুকরো। ফেরার পথে তাসমিয়ার সাথে দেখা। "ভাইয়া, তুমি ময়লা কুড়াচ্ছ কেন?" "এটা ময়লা না," মাহদী ঠোঙাটা দেখাল। "এটা ঈমানের সবচেয়ে নিচের শাখা।" তাসমিয়া কিছুই বুঝল না। কিন্তু পরদিন সে-ও একটা কলার খোসা তুলে ফেলল। 🍌
সন্ধ্যায় মাহদী তাকে পাশে বসিয়ে একটা শব্দ শেখাল — إِيمَان (ঈমান — বিশ্বাস)। "মুখস্থ করিস না," সে বলল, একদম হুদহুদের গলা নকল করে। "আগে মানেটা ধর। তারপর মুখস্থ নিজেই হয়ে যাবে।" তাসমিয়া ভুরু কুঁচকে তাকাল। "তুমি না সেদিন বললে আমি আলিফ-বা-তা-ই ঠিকমতো পারি না?" মাহদীর কান গরম হয়ে গেল। "ওটা... আগের মাহদী বলত।"
সেই রাতে হুদহুদ ম্যাপটা মেলল। তিনটে গ্রাম সোনালি! "এই সপ্তাহে তুমি সীমারেখা টানতে শিখেছ, কাঁটা তুলতে শিখেছ, আর দেখেছ ছোট পাখিও হাতিকে হারায়," হুদহুদ বলল। "সেনাপতির প্রশিক্ষণ ভালোই চলছে।"
কিন্তু তারপর সে হঠাৎ চুপ করে গেল। কান খাড়া করল। দূরের জঙ্গল থেকে সেই ফিসফিসানিটা আসছে — আর আজ যেন একটু জোরে। 👁️